ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই’

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২৮ ২:৩৫:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২১ ২:০৯:৩৭ পিএম

অ্যাডভোকেট সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী, আইন অঙ্গনে যিনি এস এন গোস্বামী নামে সমধিক পরিচিত। ১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি রাজশাহীতে তার জন্ম। ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়া শেষ করে রাজশাহী বারে আইন পেশা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন। পাশাপাশি আইন বিষয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা বাংলাদেশ ল’ টাইমসের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৫ সাল থেকে নিজ উপার্জন থেকে প্রতি বছর দরিদ্র ‍ও মেধাবী ৫০ ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে আসছেন।

তবে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অর্ন্তভূক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করে অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামী আলোচনায় এসেছেন। তিনি আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন বিভিন্ন মহলে। বর্তমানে রাষ্টধর্মের বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামী।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম অন্তভূক্তির  প্রেক্ষাপট কি ?

এস এন গোস্বামী: ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি ছিল না। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর সঙ্গে ২ (ক) দফা যুক্ত হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’

২০১১ সালের ২৫ জুন আনা পঞ্চদশ সংশোধনীতে ওই অনুচ্ছেদ আবারও সংশোধন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট ও অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।’ পরে সংবিধানের এই সংশোধনীটি চ্যালেঞ্জ করে আমি ২০১৫ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। এই রিট আবেদনটি দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি শেষে একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরাসরি খারিজ করে দেন। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রিট খারিজের রায় প্রকাশিত হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমি আপিল করি। আপিল আবেদনটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় আছে।

রাইজিংবিডি: আপনি কেন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করলেন ?

এস এন গোস্বামী: প্রথমেই বলে নেই আমি সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অর্ন্তভূক্তির বিরোধী নই। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায়  সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রধর্ম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে সেই প্রক্রিয়াটি সঠিক নয়। কারণ, সংবিধানের মূল স্তম্ভ জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে না। মূল স্তম্ভ সংশোধন করতে হলে রেফারেন্ডামের (গণভোট) মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি আইন অনুযায়ী না হওয়ায় আমি সেটি চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করি।

রাইজিংবিডি: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতের প্রতিফলন ঘটে থাকে। সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ থাকা স্বাভাবিক নয় কি?

এস এন গোস্বামী: হ্যা স্বাভাবিক। আপনাকে একটা ঘটনা বলি। ২০১৪ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, মরিশাস, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের আমি অবহিত করি যে, বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মালম্বী। তারা ধর্মাপরায়ণ ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি তাদেরকে জানাই, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পদার্পণ করে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ’। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন এবং বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য হয়। আসলে কোন সরকারই জনমতের বাইরে যেতে পারে না।

রাইজিংবিডি: রাষ্ট্রধর্মের বৈধতা নিয়ে আপিলটি কবে শুনানি হতে পারে?

এস এন গোস্বামী: আপনি জানেন, গত ১৯ মার্চ আপিলটি শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় না থাকায় শুনানি হয়নি। এখন বিষয়টি শুনানির জন্য যে কোন দিন আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় আসতে পারে।

রাইজিংবিডি: আপিল শুনানিতে আপনি কোন যুক্তি উপস্থাপন করবেন?

এস এন গোস্বামী: সংবিধানের মূল স্তম্ভ জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে না। উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্ত হচ্ছে মূল স্তম্ভে সংশোধনী আনতে রেফারেন্ডামের মাধ্যমে করতে হবে। অর্থাৎ রেফারেন্ডাম ছাড়া জাতীয় সংসদ দ্বারা সংবিধানের মূল স্তম্ভ সংশোধন করা যাবে না। শুনানিতে এগুলোই উপস্থাপন করবো।

রাইজিংবিডি: আপনার কি মনে হয় গণভোট হলে জনমত এ বিষয়টির অনুকূলে যাবে না?

এস এন গোস্বামী: গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম বহাল বা বাতিল হলে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

রাইজিংবিডি : এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। এখন তো স্বাধীনতার মাস চলছে। স্বাধীনতার এই মাসে কেমন বাংলাদেশের প্রত্যাশা আপনার?

এস এন গোস্বামী: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি আদর্শ  বাংলাদেশ চাই।

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

এস এন গোস্বামী: আপনাকেও ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে রাইজিংবিডির পাঠকদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ মার্চ ২০১৭/মেহেদী/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop