ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৪, ২৩ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রাউধার ঝুলে থাকা ফ্যান ও সিসিটিভির ফুটেজ জব্দ

তানজিমুল হক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-২০ ৩:৪৬:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২০ ৮:৫০:৩৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের যে কক্ষে মালদ্বীপের মডেল রাউধা আতিফ থাকতেন, সে কক্ষের ফ্যানটি পরীক্ষার জন্য খুলে নিয়ে গেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এই ফ্যানে ঝুলেই মেডিক্যাল ছাত্রী রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো হোস্টেলের সিসিটিভির ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডির একটি দল নগরীর নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলটিতে তদন্ত করতে যান। এ সময় রাউধার কক্ষের ফ্যান ও সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। সিআইডি কর্মকর্তারা এ দিন হোস্টেলের অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা হোস্টেল থেকে বের হয়ে যান।

এ সময় সিআইডির রাজশাহী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ফ্যান জব্দ করার ব্যাপারে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে, এই ফ্যানটিতে ঝুলেই রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তাই আমরা ফ্যানটি পরীক্ষা করে দেখব। এ জন্য ফ্যানটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্যানে যদি ৫০-৫৫ কেজির কিছু ঝোলে, তবে সেখানে একটি চাপ পড়বে। যারা চাপ মাপেন, আমরা তাদের কাছে ফ্যানটি নিয়ে যাব। তারা পরীক্ষা করে দেখবেন ফ্যানটিতে আদৌ এই চাপ পড়েছে কী না। ফ্যানে কিছু ঝুললে কিছু দাগও থাকবে। পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে চাই।

এখন পর্যন্ত রাউধাকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, তাকে হত্যার বিষয়টি আমরা এখনো কোনোভাবে নিশ্চিত হতে পারিনি। নিশ্চিত হলে বলতাম। চিকিৎসক বলছেন, আত্মহত্যা, বাবা বলছেন, হত্যা। চিকিৎসকের মতো আমরা সরাসরি আত্মহত্যা বলছি না। ঘটনা যাই হোক, আমরা নিশ্চিত হয়েই বলব।

সিআইডির ২০-২৫ জনের ওই দলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হকও ছিলেন।

তিনি বলেন, ফ্যানের পাশাপাশি আমরা হোস্টেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও জব্দ করেছি। ঘটনার আগে ও পরের সিসিটিভির ফুটেজ আছে। কিন্তু ঘটনার দিনের কেন নেই! আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। ফুটেজের হার্ডডিস্কটিই নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা এটিও পরীক্ষা করব। এতে জানা যাবে, ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, নাকি রেকর্ড হয়নি।



সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোস্টেলের ভেতর সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে তাদের সঙ্গে ছিলেন রাউধা আতিফের বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। হোস্টেল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, রাউধার ঘরের দরজা আটকে সিআইডি কর্মকর্তারা বার বার সজোরে ধাক্কা দিয়ে সেটি খোলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দরজা খোলেনি, ভেঙেও যায়নি। তাহলে ঘটনার দিন কীভাবে খুলল? এটা একটা বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, সিআইডি কর্মকর্তারা হোস্টেলের ছাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। কেউ দেখেনি, রাউধা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। মালদ্বীপের ছাত্রীরা সিআইডিকে বলেছে, লাশ বিছানায় ছিল। পুলিশ আসার আগে কেন লাশ নামানো হলো? এটাও একটা বড় প্রশ্ন। পরীক্ষার আগের রাতে রাউধাকে জুসের সঙ্গে কেন ট্যাবলেট মিশিয়ে খেতে দেওয়া হয়েছিল? কেউ তাকে আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাউধা এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নীলনয়না রাউধা ছিলেন মালদ্বীপের একজন উঠতি মডেল। মাত্র একুশ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

রাউধার লাশ উদ্ধারের দিন কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, রাউধা দরজা ভেতর থেকে দরজা আটকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ নামিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।

মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজশাহী নগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে রাউধাকে দাফন করা হয়। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন।

রাউধা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে।

রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছিলেন শাহমখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিন। আর অপমৃত্যুর মামলাটি তদন্ত করছিলেন রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম।

রাউধার মৃত্যুর কারণ উৎঘাটনে তার কক্ষ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ ও মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সেগুলো সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন রাশিদুল ইসলাম। সে প্রতিবেদন এখনও ঢাকা থেকে আসেনি। এরই মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলা দুটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।



রাইজিংবিডি/রাজশাহী/২০ এপ্রিল ২০১৭/তানজিমুল হক/রিশিত

Walton Laptop