ঢাকা, বুধবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সাফাতসহ ৫ জনের বিচার শুরু

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৩ ১২:৩৯:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-২০ ২:১৮:১৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক সফিউল আজম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক আগামী ২৪ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেছেন।

সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আর সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

সাফাত আহমেদ, তার দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের পক্ষে আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, নাঈন আশরাফের পক্ষে আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (লিটন) এবং সাদমান সাকিফের পক্ষে আব্দুর রহমান হাওলাদার অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।

নাঈম আশরাফের পক্ষে তার আইনজীবী খায়রুল ইসলাম (লিটন) বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বাদী এজাহারে অভিযোগ আনেননি। এটা একটা সাজানো মামলা। আর মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে, ধর্ষণ হয়নি।’ নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত না থাকায় তার অব্যাহতির প্রার্থনা করেন তিনি।

সাফাত আহমেদ, তার দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের পক্ষে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ‘আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা আছে। আবার অনেকে সাজানো মামলা করে। আর এটাও একটা সাজানো মামলা। কারণ, ঘটনা ঘটেছে ২৮ মার্চ আর বিলম্ব করে মামলা করা হয়েছে ১ মাস ৮ দিন পর। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত নেই।’

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসামিদের ১৬৪ ধারা আছে। আমাদের দেশে কীভাবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়, আমরা ভালোভাবে জানি। হয় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দাও নয়তো ক্রসফায়ার হবে- এই হুমকি দেওয়া হয়। আর আমরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করেছি। সাফাতের বিরুদ্ধে ৯ (১) এর কোনো অভিযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’

আর বিল্লাল ও রহমত আলীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সাফাতের স্টাফ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ভিডিও করেছিল। তাহলে সেই ভিডিও কোথায়?’

সাদমান সাকিফের আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে সাদমান সাকিফ দিল্লি থেকে এয়ারপোর্ট আসে। তখন তাকে ফোন করা হয় সেখানে যাওয়ার জন্য। সে সেখানে গিয়ে পরিবেশ ভালো না দেখে চলে আসে। পরবর্তী সময়ে তাকে আবারও ফোন করে সেখানে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে নাঈম আশরাফ তাকে মারধর করে বের করে দেয়। সাফাত, নাঈম আশরাফ বা অন্য কাউকে ধর্ষণে প্ররোচিত করেছেন- এমন কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। এজন্য আমি তাকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রার্থনা জানাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আকবর এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ফাহমিদা আক্তার রিংকি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ১২ জুন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সিএমএম আদালত থেকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ বদলি করা হয়।

তারও আগে গত ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

মামলার পাঁচ আসামিই কারাগারে আছেন। আসামিদের মধ্যে রহমত আলী ছাড়া বাকিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। তারা গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জুলাই ২০১৭/মামুন খান/ইভা/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop