ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২২ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আমদানি সিনেমায় হল সরব রাখার বৃথা চেষ্টা!

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৯ ৪:৪৫:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-০৯ ১০:৫৮:০১ পিএম

রাহাত সাইফুল : সিনেমা খরার কারণে দিনে দিনে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গত বছর মোট ৪২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। গত বছরের অধিকাংশ সময়ই পুরোনো ও আমদানি করা সিনেমা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহ সচল রাখার বৃথা চেষ্টা করেছেন হল মালিকরা। ২০১৯ সালের শুরুতেও আমদানি করা সিনেমা মুক্তি দেয়া হয়। ওপার বাংলার প্রশংসিত ‘বিসর্জন’ সিনেমাটি মুক্তির পরও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। মুক্তির দিন থেকেই সিনেমাটির সেল রিপোর্ট খারাপ যাচ্ছে।

অন্যদিকে ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহ না পেয়ে একটি হলে মুক্তি দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ‘বিসর্জন’ সিনেমার কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহেও হল পায় নি সিনেমাটি। যার কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহেও লভাংশ বিসর্জন দিতে হয়েছে ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমার প্রযোজককে। আমদানি করা সিনেমা মুক্তি দিয়েও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়ে হল মালিকরা সিনেমাটি নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর বলাকা সিনেমা হল থেকে ‘বির্সজন’ নামিয়ে ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমাটি আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে।

তরুণ নির্মাতা তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, জাকিয়া বারী মম, নওশাবা আহমেদ ও শিমুল খানসহ অনেকে। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। অনীশ দাস অপুর মূল গল্প অবলম্বনে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শাওন হক।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের দুই সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চলেছে মানহীন দেশি সিনেমা। আর বাকি দুই সপ্তাহ চলেছে কলকাতার সিনেমা। তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এসে দেশি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়। সাফটা চুক্তির মাধ্যমে কলকাতার দুটি সিনেমা বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশি ও বিদেশি সিনেমা না থাকায় সিনেমা শূন্য হয়ে পড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো। বাধ্য হয়ে পুরোনো সিনেমা দিয়ে হলগুলো সচল রাখেন কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ ব্যতীত বছরজুড়ে এভাবেই সিনেমা খরায় ছিল প্রেক্ষাগৃহগুলো।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমদানি সিনেমা বাংলাদেশে কখনই খুব বেশি ভালো যায়নি। বাংলাদেশের হলমুখী মানুষ কলকাতার সিনেমা দেখেন না। আর দেখলেও সেটা মোবাইল, টিভিতে দেখেন। হলে বাংলাদেশের সিনেমাই চলে। অন্যরা সবসময়ই ব্যর্থ হয়েছে। তবে সম্প্রতি শাকিব খান অভিনীত আমদানি করা সিনেমা কিছুটা চলেছে। এর কারণ শুধুই শাকিব আর কিছু না। আমদানি সিনেমা দিয়ে হল বাঁচবে না।

দেশে সিনেমা নির্মাণ সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া যেসব সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে তার মান ও সকল শ্রেণির দর্শকদের জন্য না। তাই বাধ্য হয়ে আমদানি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করতে হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জানুয়ারি ২০১৯/রাহাত/শান্ত

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge