ঢাকা, বুধবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ফেসবুকে যে পোস্ট করলে চাকরি যেতে পারে

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৭ ৫:৪৪:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২৭ ৫:৪৪:২৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

মাহমুদুল হাসান আসিফ : বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার ক্ষেত্রে সেরা সচেতনতা হচ্ছে, পোস্ট করার আগে ভাবুন। এই নিয়ম মেনে না চললে আপনি চাকরি হারাতে পারেন। ফেসবুক কিংবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের পোস্ট করলে আপনার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন ১৩টি বিষয় নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* গোপন রাখুন
আপনার কোম্পানির কোনো গোপনীয় তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে আপনার চাকরি না থাকা অবশ্যম্ভাবী। ফেসবুকে কোম্পানির অনানুষ্ঠানিক মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে যাবেন না। জেনা ওয়েলস নামে একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘কোম্পানির গোপনীয় কোনো তথ্য, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, পণ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য, অফিসের সেবা বা কর্মী নিয়োগ বিষয়ক তথ্য যদি আপনি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ফেলেন তাহলে আপনার চাকরি হারানোর সম্ভাবনা দেখা দেবে। কেননা এটা আসলে আপনার প্রতি কোম্পানির বিশ্বাসের একটা ব্যাপার।’ কোনো মিটিং বা প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণ করে সেটা সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে কিছু শেয়ার করার দরকার নেই আপনার। প্রয়োজনবোধে আপনার কোম্পানিই সেগুলো শেয়ার করবে।

* মেমে নিয়ে সচেতন থাকুন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল মেমেগুলো আপনার কাছে মজাদার মনে হলেও, আপনার সহকর্মী বা বস হয়তো তাতে অপমানজনক বিষয় খুজেঁ পেতে পারে। তাই মেমে আপনি তৈরি না করলেও, তা শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কোনো মেমে বা জিফ আপনার বসের আত্মসম্মানে লাগলে আপনার চাকরি বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়বে। যদিও সবার বাকপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে তারপরও এ ধরনের কাজের জন্য আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। তাছাড়া আপনি যদি কোম্পানি থেকে দেয়া কোনো ডিভাইস এবং কোম্পানির ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব করেন তাহলে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়ে যাবে এবং আপনার চাকরি হারানোর সম্ভাবনা প্রকট হয়ে যাবে।

* হাতেনাতে ধরা খাওয়া
আপনি অফিসে ফোন করে অসুস্থতার কথা বলে সেদিন কোথাও বেড়াতে গেলেন। যতই ইচ্ছা করুক সেখানকার ছবি পোস্ট করবেন না। যদিও ছবি শেয়ার করা বেআইনি কিছুই নয় তারপরও ব্যাপারটা এমন হয় যে, আপনি আপনার অবস্থান নিয়ে মিথ্যা বলেছেন এবং অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে ঘুরছেন। আপনার বস অবশ্যই এটা পছন্দ করবেন না এবং এর ফলে আপনার চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

* বেশি আক্রমণাত্মক পোস্ট
২০১৩ সালে জাস্টিন সাকু নামে এক গণসংযোগ কর্মকর্তা চরম এক পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি সেদিন বুঝতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো পোস্ট কত তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে একটি আক্রমণাত্মক পোস্ট। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছিলেন এবং বিমানে বসে তিনি টুইট করেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছি। আশা করি আমার এইডস হবে না...মজা করছিলাম...আমি তো শ্বেতাঙ্গ!’ তার টুইটারের এই লেখা বস পর্যন্ত পৌঁছাতে বেশি সময় লাগেনি এবং তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।

* সাইবার বুলিং করবেন না
সহকর্মী সম্পর্কে অপমানজনক বা মানসিক আঘাত দেওয়ার মতো কিছু লিখলে, এ অপরাধ সরাসরি আপনাকে বেকারত্বের লাইনে পাঠাতে পারে। সহকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপদস্থ করার জন্য আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনো মন্তব্য বা ছবি বা অন্যকিছু পোস্ট করে থাকলে, আপনার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আপনার কারো সঙ্গে বিবাদ থাকলে তা অন্যভাবে মিটিয়ে ফেলুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণ করে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না।

* শুধু নিজের পক্ষে বলুন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বসের পক্ষে কাজ করার ফলাফল গুরুতর হতে পারে। কোম্পানির মুখপাত্রের প্রতিনিধিত্ব করে আপনার নিজস্ব মতামত বা বিশ্বাস উপস্থাপন করা কখনোই উচিত নয়। আপনার আচরণ নিজের সমর্থন বাদে কোম্পানির কারো সমর্থনমূলক যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

মূল্যবোধের জায়গা ঠিক রাখুন
আপনার বসের আবেগের জায়গা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সে সম্পর্কিত কোনো কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করবেন না। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপারে প্রতিটি কোম্পানিরই কিছু রীতিনীতি থাকে, যা ভঙ্গ হলে আপনার চাকরি সঙ্কটে পড়বে।

* কাজের সমালোচনা করবেন না
আপনি যদি বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের দায়িত্বে থাকেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে আপনার অসন্তোষ প্রকাশ করা উচিত নয়। কেইটলিন ওয়ালস নামে একজন মহিলা একটি ডে কেয়ার সেন্টারে চাকরি পাওয়ার প্রথম দিনই ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আজ থেকে নতুন কর্মজীবন শুরু করেছি। কিন্তু এতো বাচ্চাকাচ্চার সঙ্গে থাকতে আমার ভালো লাগেনা।’ ডে কেয়ার সেন্টারের অফিস কর্তৃপক্ষ জানার সঙ্গে সঙ্গে কেইটলিনের চাকরি চলে যায়।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ মে ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC