ঢাকা, রবিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ব্যস্ত সময় কাটছে কাটিং-ফিটিং মাস্টারদের

আমিনুর রহমান হৃদয় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৫ ১:২২:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০৫ ৩:৫৭:১১ পিএম

আমিনুর রহমান হৃদয় : ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর শপিং সেন্টার ও মার্কেটগুলো। দোকান ঘুরে ঘুরে ছোট থেকে বড়রা কিনছেন তাদের পছন্দের পোশাক। আর পছন্দের নতুন পোশাক নিজের দেহের সঙ্গে ফিটিং করে নিতে বা পোশাকে নিজস্বতা আনতে ছুটে যাচ্ছেন কাটিং ও ফিটিং মাস্টারদের(দর্জি) কাছে।

সরেজমিনে রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট ও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ফ্যাশন হাউজগুলোর পাশেই সেলাই মেশিন নিয়ে বসে ক্রেতাদের নতুন পোশাক কাটিং ও ফিটিংয়ের কাজ করছেন দর্জিরা। ক্রেতারা তাদের দেহের মাপ অনুযায়ী ঈদের জন্য কেনা নতুন পোশাক কেটে ফিটিং করে নিচ্ছেন। মেয়েদের বেশিরভাগ টেইলারিং শপ রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া মার্কেটে হওয়ার কারণে এইসব এলাকায় বিভিন্ন বয়সি মেয়েদের ভিড় বেশি দেখা যায়।

ঈদের পোশাক ফিটিং করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। আবির হাসনাত নাঈম ও রাকিবুল ইসলাম নামে দুই বন্ধু এসেছিলেন ঈদের নতুন শার্ট শরীরের সঙ্গে ফিটিং করে নিতে। কথায় কথায় জানা গেল, তারা দু’জনই শিক্ষার্থী। ঈদের নতুন শার্টের ধরন দেহের মাপ অনুযায়ী একটু বড়। তাই তারা দু’জনেই এসেছিল নিজের দেহের মাপ অনুযায়ী শার্টগুলো ফিটিং করে নিতে। নাঈম বলছিলেন, ‘ঈদে তো নতুন শার্ট ও প্যান্ট পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বের হতে হয়। শার্ট যদি শরীরের সঙ্গে ঠিকমতো অ্যাডজাস্ট না হয়, তাহলে তো দেখতে ভালো লাগবে না। তাই ঈদের সময় বাদেও শার্ট ও প্যান্ট ফিটিং করে পড়লেই দেখতে ভালো লাগে।’ পাঞ্জাবি ফিটিং করতে আসা মোহাম্মদ রাকিব নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘পছন্দের পাঞ্জাবিটি একটু সাইজে বড়। তাই ফিটিং করে নিচ্ছি।’ জামা ফিটিং করতে আসা ফারিয়া নামে এক স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, ‘রেডিমেড অনেক পোশাক ঢিল হয়। ঢিলেঢালা পোশাক পড়লে নিজেকে মোটা দেখায়। তাই বেশির ভাগ জামা ফিটিং করেই পরে থাকি।’



কথা হয় বেশ কয়েকজন কাটিং ও ফিটিং মাস্টারদের (দর্জি) সঙ্গে। তারা জানালেন, একটি শার্ট ফিটিং করতে ৬০ টাকা, প্যান্ট ৮০ টাকা, পাঞ্জাবি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ও গেঞ্জি ৫০ টাকা মজুরি নেন। আর মেয়েদের পোশাক ফিটিং করতে পোশাক ভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা নিয়ে থাকেন। ছেলেদের থেকে মেয়েরাই বেশি পোশাক ফিটিং করে থাকেন বলেও জানান তারা। কাটিং-ফিটিং মাস্টাররা আরো জানান, ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি মুজুরি নেন তারা।

৯ বছর ধরে কাটিং ও ফিটিংয়ের কাজ করছেন মোহাম্মদ জামাল। ঈদের সময় কাজের চাপ একটু বেশি থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রেতার শরীরের মাপ অনুযায়ী একটি পোশাক কেটে, সেই মাপে পোশাক সেলাই করেই ফিটিং করা হয়। এতে ক্রেতাদের পোশাক তাদের শরীরের সঠিক মাপ অনুযায়ী হয়ে থাকে।’

বিশ রোজার পর থেকে ঈদের পোশাকের কাটিং ও ফিটিংয়ের কাজের চাপ আরো বাড়বে বলে জানালেন ফিটিং মাস্টার সহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ১০ দিন আগে দিন-রাত টানা ফিটিংয়ের কাজ করতে হয়। বিশ্রামের সময় পাওয়া যায় না। এজন্য আমরা ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ টাকা মুজুরিও বেশি নিয়ে থাকি।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ জুন ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC