ঢাকা, শুক্রবার, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কৌশলগত ঐক্য করেছি, আদর্শের প্রশ্নে আপোশ নেই

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৯ ৭:৪৯:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৯ ৭:৪৯:৩৩ পিএম
কৌশলগত ঐক্য করেছি, আদর্শের প্রশ্নে আপোশ নেই
Voice Control HD Smart LED

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা কৌশলগত ঐক্য করেছি। আদর্শের প্রশ্নে আপোশ করিনি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবির সেমিনার কক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। সংগঠনের ‘২৬ বছরের অভিযাত্রা: নির্বাচনের বছরে নির্মূল কমিটির আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এখানে বলতে আসিনি, শুনতে এসেছি। শুনে শুনে মনে হচ্ছিল আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। একের পর এক শব্দবাণে শরবিদ্ধ পাখির মতো ছটফট করেছি।

এখানে যারা আলোচনা করেছেন তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি জানাশোনার মানুষ। তিনি বলেন, আদর্শের রাজনীতি আর নির্বাচনের রাজনীতি এক নয়। এখানে একটি ফারাক আছে। এ ব্যাপারে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় দুটি আসন থেকে মোজাফফর হোসেন পল্টু এবং মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের পরিবর্তে সাবের হোসেন চৌধুরী এবং হাজী মো. সেলিমকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, সে কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। ক্ষমতার রাজনীতিতে কিন্তু কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এটা কঠিন বাস্তবতা।

কারণ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কম্প্রোমাইজ না করলে কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসতে পারতাম না। আর ক্ষমতায় না এলে এই যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধককরণের প্রক্রিয়া, তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করা- এগুলো কি সম্ভব হতো? এসব কিন্তু শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে নাগরিক সমাজের আন্দোলনেরও উদ্দেশ ছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ২১ বছরে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটা কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে। ২১ বছরে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছিলাম। অর্জিত অনেক কিছুই বদলিয়ে ফেলা হয়েছিল। এখানে আমাদের বাস্তবতার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। কিন্তু আপনারা আমাদের ভুল বুঝবেন না। আমরা কৌশলগত ঐক্য করেছি। আদর্শের প্রশ্নে আপোশ করিনি। নির্বাচনে যদি না জিতি তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কী করে করব? ক্ষমতায় আসতে আমরা বেসিক থেকে সরে যাইনি। বাঙালির জন্মের শেকড় থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা সরে যাননি। তিনি কখনো আদর্শের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করেন না।

বঙ্গবন্ধু কন্যার দুঃসাহস ছিল বলেই বাঘা বাঘা প্রথম সারির মানবতাবিরোধীদের রায়ের দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে। একই বাস্তবতায় আমাদের এরশাদের সাথেও কৌশলগত ঐক্য করতে হয়েছে বলেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা একই ধারা, একই চেতনার লোক। একই আদর্শের লোক, আমাদের সবার নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। আর এখন দোষে-গুণে আমাদের সবার অভিভাবক শেখ হাসিনা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে কাদের বলেন, এর জন্য ডায়ালগের প্রয়োজন নেই। পথরেখা সংবিধানই দিয়ে দিয়েছে। তারা আসলে আন্দোলনেও ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ। শেখ হাসিনা আপনাদের সংলাপের জন্য ডাকেননি? গণভবনে আমন্ত্রণ জানাননি। জবাবটা কীভাবে অশ্রাব্য কুরুচিপূর্ণ ভাষায় দিয়েছেন এটা জাতি জানে।

সরকার দলীয় লোকের অপর্কমের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না দাবি করে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেত্রী পরিষ্কার আমাকে বলে দিয়েছেন, তদন্ত করো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করো। অপরাধী যেই হোক তার বিচার হবে। আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়।

বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলো ২০০১ সালের চেয়েও বিভীষিকাময় অন্ধকারে জাতি হারিয়ে যাবে এবং মুক্তিযুদ্ধ আবার পাকিস্তানের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এজন্য আয়োজক সংগঠনের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা বসি, আলোচনা করি। সংশোধন করি এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্ভুল অগ্রযাত্রার সূচনা করি।

আর নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে গেছে দাবি করে এখন তার দেবার পালা বলেও মন্তব্য করেন সেতুমন্ত্রী।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো অংশ নেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সাংবাদিক শাহীন রেজা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশিদ (অব.) প্রমুখ।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের  সভাপতি শাহরিয়ার কবির। সভা পরিচালনা করেন ডা. নুজহাত চৌধুরী।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ জানুয়ারি ২০১৮/নৃপেন/মুশফিক

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge