ঢাকা, সোমবার, ২ পৌষ ১৪২৫, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘শতবার নয়, মার্সেল ফ্রিজ কিনে দ্বিতীয়বারেই সফল হয়েছি’

জাকির হুসাইন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১০ ১:৪৬:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২১ ৮:২৮:২৭ পিএম
নাতি-নাতনিকে নিয়ে মার্সেলের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার নিচ্ছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘মার্সেল পণ্যে কোটি কোটি টাকার অফার দিয়েছে, তা প্রথম দিন থেকেই জানতাম। লাখ টাকা পুরস্কারের আশায় প্রথমবার ফ্রিজ কিনে বিফল হই। কিন্তু কবিতায় আছে না ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’। তাই হতাশ না হয়ে আবারও ফ্রিজ কিনি। আমার ভাগ্য খুবই ভালো। শতবার লাগেনি। মার্সেল ফ্রিজ কিনে দ্বিতীয়বারেই সফল হয়েছি। পেয়েছি লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার।’

ওপরের কথাগুলো মো. আব্দুল কুদ্দুসের। গত ৩০ ডিসেম্বর মার্সেল ফ্রিজ কিনে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পান তিনি। ক্যাশ ভাউচার প্রাপ্তি নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তখনই ওপরের কথাগুলো বলেন আব্দুল কুদ্দুস।

রাইজিংবিডিকে আব্দুল কুদ্দুস জানান, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। ৪ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক তিনি। এর মধ্যে এক মেয়ে ও এক ছেলে বাদে বাকি চার জনের বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের সংসারে টিভি-ফ্রিজসহ সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়েছেন। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মেয়েদের দেওয়া তার সব পণ্যই মার্সেলের।

মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘১০ মাস আগে বড় মেয়ের জন্য ফ্রিজ কিনি। তখন মার্সেলের কোনো অফার ছিল না। অক্টোবর থেকে কোটি কোটি টাকার অফার শুরু হলে মেঝো মেয়ের জন্য একটা ফ্রিজ কিনি। তখন উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম ৩০০ টাকা। ভাবলাম আমার ভাগ্য মনে হয় এত ভালো না। তারপরেও চিন্তা করলাম আবারও চেষ্টা করি। এবার সেজো মেয়ের জন্য একটা ফ্রিজ কিনি। দেখি ভাগ্যে কী আছে।’

তিনি বলেন, ‘সেজো মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি বেশি দিন হয়নি। এরই মধ্যে জামাই বিদেশে চলে যায়। মেয়ের বাড়িতে প্রতিদিন বাজার করার লোক নাই। তাছাড়া আমাদের বাড়িতে অনেক আগে থেকেই ফ্রিজ ব্যবহারে অভ্যস্ত মেয়েটি। তাই মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করেই মার্সেল ফ্রিজ কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, নবীনগর বাজারে মার্সেলের ডিলার রফিক ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমটি তার পরিচিত। আগের দুই মেয়ের জন্য এখান থেকে সব পণ্যই কিনেছেন তিনি। তাই সেজো মেয়ের জন্যও সেখান থেকে ফ্রিজ কিনতে যান তিনি। সঙ্গে নিয়ে যান মেয়ে ও তার ননদকে।
 

আব্দুল কুদ্দুসকে মালা পরিয়ে গাড়িতে করে নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা ঘুরানো হয়


তিনি বলেন, ‘মেয়েরাই দেখে-শুনে সাড়ে ১৬ সিএফটি সাইজের ফ্রিজটি পছন্দ করে। ২৯ হাজার টাকা দিয়ে ফ্রিজটি মেয়েকে কিনে দেই। এরপর আগের মতো নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। অপেক্ষায় থাকি কখন উপহারের মেসেজটি আসবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলের মেসেজ রিংটোন বেজে উঠে। অতি আগ্রহের সাথে মেসেজটি ওপেন করি। তাতে লেখা ছিল এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। এটা দেখে আমার অন্তর কেঁপে ওঠে। ঠিক দেখলাম তো, নাকি ভুল দেখলাম! পরে শোরুমের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম আমাকে লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার আর ব্যর্থ হইনি। মাত্র ২৯ হাজার টাকার এক ফ্রিজেই এক লাখ টাকার উপহার পেলাম। এবার বিশ্বাস হয়েছে আমার ভাগ্য আসলেই ভালো।’

ক্যাশ ভাউচারের টাকা দিয়ে কি কিনেছেন জানতে চাইলে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার বাড়িতে টিভি-ফ্রিজ সবই আছে। এখন যা কিনছি মেয়েদের জন্য। লাখ টাকার এ পুরস্কার দিয়ে টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, রাইস কুকারসহ মোট ১১টি পণ্য নিয়েছি। যার বেশিরভাগই মেয়েদের বাড়িতে উপহার হিসেবে দিবো। তাছাড়া কিছু পণ্য আমরা নিজেরাও ব্যবহার করবো।’

মার্সেল শোরুমের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুদ্দুস সাহেব অনেক আগে থেকে আমার পরিচিত। তিনি সব সময় মার্সেল পণ্য কেনেন। বলা যায় তিনি আমাদের স্থায়ী কাস্টমার। তাই তিনি এক লাখ টাকার পুরস্কার পাওয়ায় আমি নিজেও অনেক খুশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এরিয়াতে মার্সেল থেকে এই প্রথম বড় ধরনের পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘটা করে মো. আব্দুল কুদ্দুসের হাতে ক্যাশ ভাউচারে কেনা পণ্য তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে করে সারাদিন নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা ঘুরানো হয়েছে। এতে আমরা, এলাকাবাসী এবং কুদ্দুস সাহেব সবাই বেশ খুশি।’

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে মার্সেল। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। মার্সেল শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জানুয়ারি ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC