ঢাকা, বুধবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

দ্রুত এনআইডি দিয়ে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের তাগিদ

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৯ ৮:০৮:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-১৯ ৯:২১:১৬ পিএম
Walton AC 10% Discount

নিজস্ব প্রতিবেদক : অতি দ্রুত প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিশ্চিত করে প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে কম প্রবাসীর অবস্থান সেসব দেশে প্রবাসী নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এক  সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে।

প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সেমিনারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরূল হুদা বলেন, বর্তমান কমিশন প্রবাসী ভোটার করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারবাহিকতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সন্তানরা বিদেশে অবস্থান করে দেশকে সমৃদ্ধশালী করছেন। তাদের কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে সাহায্য করা যায়, কীভাবে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মতামত প্রবাসীদের ভোটার করার জন্য কাজে লাগবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রবাসীদের একটি সমস্যা সমাধান করলেই হয় সেটা হলো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার বিষয়। এটা নিশ্চিত করা গেলে তারা অটোমেটিক জাতীয় পরিচয়পত্র পাবে। অন্যান্য সুবিধাও পাবে।

তিনি বলেন, ১২০টি দেশ তাদের প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে এশিয়ার আছে ২০টি দেশ। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ২০০৮ সালে আইনি কাঠামো করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর ৫ বছর এটা নিয়ে আর কাজ করা হয়নি। তাই আমি নির্বাচন কমিশনকে বলব, ‘প্রবাসীদের কীভাবে ভোটার করা যায় সেজন্য একটি সেল গঠন করা হোক।’ প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয় তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। কারণ আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি কাজ করবে না।

সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রবাসীদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। এরপর দেখতে হবে কীভাবে তারা ভোট দিতে পারে। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অনেক প্রবাসী জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে।তারা দেশে এসে বিভিন্ন সেবা পেতে হয়রানির শিকার হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, দ্বৈত নাগরিকদের ভোট দেওয়া সংবিধান অনুমতি দেয়নি। এজন্য এটা আলোচনা না করাই ভাল। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার অধিকার, তাদের কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যায় সেটা আলোচনা করা দরকার।

এ সময় পোস্টাল ভোট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মসিউর।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে কে ভোট দিয়েছে তা শনাক্তকরণ দুরূহ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মহাপরিচালক কনসুলার নাহিদা রহমান সুমনা জানান, প্রবাসীদের সংখ্যা এখন দেড় কোটি। তারা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। তাদের ভোটের অধিকার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তবে দ্বৈত নাগরিকদের নিয়ে ভাবতে হবে।

তিনি বলেন,  ব্রাজিল, ফ্রান্স, ভারতে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিতে কীভাবে ভোট নেওয়া যায় সেটাও আমাদের দেখতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. ইয়ামিন আকবরি বলেন, এক কোটি ১৫ লাখ আমাদের প্রবাসী। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রয়েছে সৌদি আরবে। দেখা যায় অনেক প্রবাসীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তাদের আমাদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তারা  ব্যাংকিং সুবিধা, ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে।অনেক সময় প্রবাসীরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় সে সময় তাদের সহায়তা করতেও আমাদের সমস্যা হয়। বিশেষ করে যারা ২০০০ সালের আগে বিদেশে গিয়েছে তারা। কারণ তাদের বেশিরভাগেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, ডুয়েল সিটিজেনদের যেহেতু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার নেই।তাই তারা ভোটারও হতে পারবে না। প্রথমে যারা দ্বৈত নাগরিক নয় তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হোক।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, প্রবাসীদের প্রথমে প্রয়োজন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র। এটা করে দিতে এর জন্য একটা সময় নির্ধারণ করুন। আমি দেখেছি এনআইডি না থাকার কারণে প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে।তারা দেশে এসেও পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের এনআইডি যেন দেওয়া হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের মূল প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে আমাদের প্রবাসী ৭৫ লাখ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে থেকে জানানো হয়েছে আবার আরেক তথ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিল আরেক তথ্য। তিনটি প্রতিষ্ঠানই কিন্তু সরকারি। আসলে আমাদের প্রবাসী কত। ১০ থেকে ১৫ হাজার হেরফের না হয় মানা যায়। তাই বলে পঞ্চাশ হাজার  থেকে ৭৫ হাজার পার্থক্য এটা কীভাবে হয়।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঠিক তালিকা করে তারা যেন ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। আমাদের সংবিধানে সব নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও আমরা সে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। আমরা কিন্তু প্রবাসীদের টাকা কীভাবে আনব সেই পদ্ধতি ভালোভাবেই চালু করেছি। কিন্তু আমাদের উচিত ছিল টাকা আনার সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করার। আমাদের এখন আর এ ব্যাপারে সময় নষ্ট করা যাবে না। দ্রুত প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবে কীভাবে তারা ভোট দিবে এটা নিয়ে আমাদের আরও আলোচনা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে যারা এ বিষয়ে যে দেশগুলো সফল হয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা পরামর্শ নিতে পারি।

জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিটা প্রথমে আমরা প্রয়োগ করে দেখতে পারি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ এপ্রিল ২০১৮/হাসিবুল/মুশফিক

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge