ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রয়াত সাংবাদিক রিশিত খানের পরিবারকে কল্যাণ তহবিলের চেক প্রদান

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৮ ৫:০৩:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-২৯ ৯:৪৪:২৪ এএম
সোমবার রাইজিংবিডি কর্তৃপক্ষ রিশিত খানের সহধর্মিণীর হাতে চেক তুলে দেয় (ছবি : আবু বকর ইয়ামিন)

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের প্রয়াত সাংবাদিক রিশিত খানের পারিবারের হাতে কল্যাণ তহবিলের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাইজিংবিডির প্রকাশক এস এম জাহিদ হাসান সোমবার এই চেক তুলে দেন রিশিত খানের সহধর্মিণীর হাতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাইজিংবিডির সম্পাদক মোহাম্মদ নওশের আলী, প্রাক্তন সম্পাদক উদয় হাকিম, মনিটরিং উপদেষ্টা মো. ফিরোজ আলম, রাইজিংবিডির প্রধান বার্তা সম্পাদক খান মো. শাহনেওয়াজ, প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম মিল্টন, ফিচার এডিটর তাপস রায়, প্রধান প্রতিবেদক হাসান মাহমুদ এবং রাইজিংবিডি পরিবারের সদস্যরা।

ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড এবং ওয়ার্কার্স প্রোফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডের ৩ লাখ ১১ হাজার ৮৬৮ টাকার দুটি চেক গ্রহণ করেন রিশিত খানের সহধর্মিনী মোছা. তুহিন সুলতানা। এ ছাড়া রাইজিংবিডি পরিবারের পক্ষ থেকে  দুই দফায় ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

রাইজিংবিডির প্রকাশক জাহিদ হাসান বলেন, ‘ব্যক্তি বা সাংবাদিক যেভাবেই বলি না কেন রিশিত খান সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। দল-মত নির্বিশেষে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। এমন একজন মানুষের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা গর্বিত।’

রিশিত খানের কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘রাইজিংবিডি সবসময় রিশিত খানের পাশে ছিল এবং থাকবে। শুধু সাংবাদিক রিশিত খান নন, ব্যক্তি রিশিত খান হিসেবে তিনি অতুলনীয় ছিলেন। তার পরিবার যা হারিয়েছে, তা কখনো পূরণীয় নয়।’

জাহিদ হাসান আরো বলেন, ‘রিশিত খানের পরলোক গমনে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা থেকে আজ এই চেক প্রদান করা হলো। তার একমাত্র সন্তান এবং পরিবারের অন্যদের মঙ্গল কামনা করছি।’



রাইজিংবিডির সম্পাদক নওশের আলী বলেন, ‘সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতেন রিশিত খান। তিনি তার স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে গেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

রাইজিংবিডির প্রাক্তন সম্পাদক উদয় হাকিম বলেন, ‘রিশিত খানের লেখনীর হাত ছিল খুব উঁচু মানের। সবাই তার মতো হয় না। একজন সাংবাদিক হলেন নীতি-নৈতিকতার ধারক ও বাহক। এই গুণ রিশিত খানের মধ্যে ছিল। তিনি আমাদের জন্য কিছু ভালো উদাহরণ রেখে গেছেন। নিয়মানুবর্তী সাংবাদিক হিসেবে রিখিত খান আমাদের স্মরণে বেঁচে থাকবেন।’

রাইজিংবিডির মনিটরিং উপদেষ্টা ফিরোজ আলম বলেন, ‘সাংবাদিক রিশিত খানকে মূল্যায়নের ক্ষমতা আমার নেই। তিনি দল-মত নির্বিশেষে একজন নিরেপেক্ষ মানুষ ছিলেন। একজন মানুষের মৃত্যুর পর আমরা তাকে স্মরণ করছি। মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তিকে ভালো বলা- এটি তার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এটি পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। রিশিত খান আমাদের দিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আমরা যেন তার রেখে যাওয়া গুণাবলি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।’

রিশিত খানের স্ত্রী তুহিন সুলতানা বলেন, ‘রাইজিংবিডি পরিবারের সদস্যদের পেয়ে আমার ভেতর শক্তি সঞ্চারিত হচ্ছে। আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি। আমি যেন ছেলেকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সবার কাছে সেই প্রত্যাশা রাখি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পরও রাইজিংবিডি কর্তৃপক্ষ আমার স্বামীকে স্মরণে রেখেছে, আমার চলার পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে- এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

ফিচার সম্পাদক তাপস রায় বলেন, রিশিত খানকে হারিয়ে আমরা যে কত বড় কিছু হারিয়েছি, সেটি পরিমাপ করা যাবে না। তিনি সব্যসাচী লেখক ছিলেন। সব বিষয়ে লিখতে পারতেন। লেখনিতে তার অসাধারণ প্রতিভা ছিল। নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি রিশিত খান রাইজিংবিডিতে ‘সকালে স্বদেশ’ নামে কলাম লিখতেন। তার ভাবনটা ছিল অনেক উঁচু মানের।’

প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘রিশিত খান সজ্জন মানুষ ছিলেন। কাজের প্রতি তার একাগ্রতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সবার প্রতি সদ্ভাব রেখে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাইজিংবিডির সহকারী বার্তা সম্পাদক রাসেল পারভেজ।

উল্লেখ্য, রিশিত খান চলতি বছরের ১৩ মে বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে রাইজিংবিডি ডটকমে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কানসোনা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ আগস্ট ২০১৭/ইয়ামিন/রাসেল পারভেজ

Walton
 
   
Marcel