ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সাংবাদিক মুকুল হত্যার বিচার শেষ হয়নি আজও

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-৩০ ১০:৫৫:১১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-৩০ ১২:৫৫:৩৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর :  যশোরে আজ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুলের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।

সাংবাদিক সাইফুল আলম মুকুল ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারো নাম উল্লেখ না করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মুকুল হত্যাকান্ডের ১৯ বছরেও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচারকার্য আজও শেষ হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে এ মামলার কার্যক্রম। অধরাই থেকেছে ঘাতক। হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে চাইতে পরিবার, স্বজন, বন্ধুরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এবারও হত্যার বিচার দাবিতে সাংবাদিক মুকুলের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব ও যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোক র‌্যালি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,  ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ । একপর্যায়ে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দু’জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন।

২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (৩) এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (২) ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জগঠন করা হয়। এ সময় মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

আদালত সূত্র জানায়, মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আসামি ইত্তেফাকের সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় ফের মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে ফের বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, মুকুল হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুতই মুকুল হত্যার বিচার পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

রাইজিংবিডি/যশোর/৩০ আগস্ট ২০১৭/বি এম ফারুক/টিপু

Walton Laptop