ঢাকা, শুক্রবার, ৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের দাবি

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৩ ৪:৫৭:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৩ ৪:৫৭:৩০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা মানিক সাহা হত্যা মামলা পুনঃতন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তার সুহৃদরা।

এজন্য বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়ে গত ১১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

‘সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যার বিচারপ্রত্যাশী সংক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ’ এর ব্যানারে ঢাকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল পিটিবিনিউজ ডটকমের প্রধান সম্পাদক আশীষ কুমার দে স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জানুয়ারি পূর্ণ হচ্ছে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যার ১৪ বছর।

মানিক সাহার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ইতোপূর্বে আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থের যোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের নাম নেই। পুলিশের দায়সারা তদন্ত ও ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্রের কারণে প্রকৃত ঘাতকরা শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরাও কেউ মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাননি। তাই পুনঃতদন্ত ছাড়া মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য খলনায়ক ও ভাড়াটিয়া খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব নয়; সেজন্য উচ্চ আদালতের আদেশ অপরিহার্য। এ কারণে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা প্রয়োজন বলে সাংবাদিক আশীষ কুমার দে চিঠিতে উল্লেখ করেন।

২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে ছোট মির্জাপুর রোডে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় দৈনিক সংবাদ ও নিউ এজ পত্রিকার খুলনার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিবিসির খণ্ডকালীন সংবাদদাতা এবং খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানিক সাহা নিহত হন।

হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা সদর থানার একজন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলার প্রথম অভিযোগপত্রে ১৩ জন ও সম্পূরক অভিযোগপত্রে ১৪ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শুরু হয়।    

তবে অভিযোগপত্রে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থের যোগানদাতা ও ভাড়াটে খুনিদের পৃষ্ঠপোষকদের নাম ছিল না। এ কারণে মানিক সাহার স্বজন এবং খুলনা ও ঢাকার সাংবাদিকরা তখন থেকেই এ মামলার পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তথা তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বর্তমান মহাজোট সরকার এ দাবি আমলে নেয়নি। দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এম এ রব হাওলাদার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১১ আসামির মধ্যে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুজনকে খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জানুয়ারি ২০১৮/সাওন/রফিক

Walton Laptop
 
   
Walton AC