ঢাকা, রবিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

ন্যানো স্যাটেলাইট: দেশের নিরাপত্তা নিয়ে জাপা সাংসদের উদ্বেগ

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-০৯ ৭:৩৭:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১২ ২:৪০:৪৯ পিএম

সংসদ প্রতিবেদক : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রথম নিজস্ব ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ (ন্যানো স্যাটেলাইট) মহাকাশে ছাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

ফখরুল ইমাম ন্যানো স্যাটেলাইটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘এটা একটি জাপানি কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে উৎক্ষেপনের জন্য। এটা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। বাংলাদেশের উপর দিয়ে যাবে দিনে চার থেকে পাঁচ বার। তখন বাংলাদেশের কৃষি থেকে আরম্ভ করে যত স্থাপনা আছে; সবগুলোর ছবি এটা তুলে নেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখানেই আশ্চর্য্য হয়েছি যে, স্পারসো নামে আমাদের একটা সংস্থা আছে যেটা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তারা এই কাজগুলো করে থাকে। আমি বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থাকে (স্পারসো) জিজ্ঞেস করে জেনেছি, তাদের সঙ্গে কোন চুক্তি হয়নি। বিনা চুক্তিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মতো একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যানো স্যাটেলাইটটি প্রস্তুত করেছে। এই ব্যাপারটায় দেশের ম্যাসিভ সিকিউরিটির জন্য চিন্তিত হয়ে আছি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি নিয়োজিত আছেন, তিনি যদি আমাদের অবহিত করেন তাহলে আমরা এটার সম্পর্কে জানতে পারবো।’

ফখরুল ইমামের বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আপনি যে একটা খবরের কাগজের উপর ভিত্তি করে একটি স্টেটমেন্ট দিলেন, অ্যাজ এ স্পিকার, অ্যাজ অর প্রিসাইডিং অফিসার, আমার কিচ্ছু করার নাই। বিধি অনুসারে নোটিশ দিলে তখন একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। পার্লামেন্টে তখন সেটা ডিসকাশন হতে পারে। এই যে আপনি বক্তব্যটা রাখলেন, যদি আপনি কিছু মনে না করেন, আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, এটা একটা সময়ের অপচয় হল, আর  কিচ্ছু না। যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সুন্দর প্রশ্ন অবতারণার জন্য।’

বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ (ন্যানো স্যাটেলাইট) ‘ব্র্যাক অন্বেষা’র মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি একথা বলেন। আগামী মার্চে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের সাথে যুক্ত হবে। মে থেকে তা মহাকাশে ঘুরে বেড়াবে। উপগ্রহটির ওজন প্রায় এক কেজি। জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কাছে স্যাটেলাইটটি বুধবার হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব বুধবার জাপানে এক অনুষ্ঠানে কিউটেক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহটি গ্রহণ করেন। পরে তা জেএএক্স-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানটি জাপানের কিতাকিউশু থেকে ঢাকায় ব্র্যাকের মহাখালী ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

বাংলাদেশের তিন-চারটি সংস্থা গবেষণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম উপগ্রহের ধারণ করা ছবি ব্যবহার করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম, স্পারসো ও আবহাওয়া অধিদপ্তর)।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/নৃপেন/শাহনেওয়াজ