ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মামলার পর চাঁদার রেট বাড়িয়েছে লাইনম্যানরা

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৭ ৫:৫১:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৭ ৫:৫১:০৬ পিএম

আসাদ আল মাহমুদ : রাজধানীর গুলিস্তান-মতিঝিলের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কারী ৭২ চাঁদাবাজের (লাইনম্যান) বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তারা তাদের চাঁদার রেট বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতি দোকান থেকে আগে ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা আদায় করা হলেও এখন ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

শুক্রবার একাধিক হকারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি চাঁদাবাজদের (লাইনম্যান) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএসসিসির মামলা করার পর নতুন করে চাঁদার রেট রাড়িয়েছে লাইনম্যানরা। এ চাঁদার নাম দিয়েছে মামলা-ফুটপাত রক্ষা ব্যয়। ডিএসসিসির মামলা হওয়ার পর এজহারভুক্ত অধিকাংশ লাইনম্যান (আসামি) আত্মগোপনে থাকলেও তাদের  শীষ্যরা এখন চাঁদা আদায় করছে।

পল্টন মোড়ের ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসেন হকার মো. আবুল হাসেম। তিনি বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি লাইনম্যানদের নামে মামলা হওয়ায় চাঁদার রেট বেড়েছে। আগে ২০০ টাকা টাকা দিতাম, এখন ২৫০ টাকা দিতে হয়। নতুন করে ৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, লাইনম্যানরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মামলা করেছে এবং ফুটপাত রক্ষায় প্রতিদিন আন্দোলন করা হচ্ছে। এজন্য ৫০ টাকা বেশি দিতে হবে। ফুটপাত না থাকলে কোথায় ব্যবসা করবে?

তিনি আরো বলেন, চাঁদা না দিলে দোকান নিয়ে বসতে দেবে না। আর দোকান না খুললে বাচ্চাদের স্কুল ব্যয় ও বাসা ভাড়া দিতে পারব না। তাই বাধ্য হয়ে লাইনম্যানদের চাঁদা দিচ্ছি। 

বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটের হকার এম আবু বকর বলেন, কর্মদিবসে বিকেল ৫টার আগে ফুটপাতে নিশ্চিন্তে দোকান নিয়ে বসতে পারি না। বসলেও আতঙ্কে থাকি, কখন উচ্ছেদ শুরু হয়। আগে ১০০ টাকা চাঁদা দিতাম। এখন আরো ৫০ টাকা বাড়তি চাঁদা দিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চার্জ দিতে হয়। বিক্রি হোক না হোক এ টাকা দিতে হয়। আমরা লাইনম্যানের কাছে জিম্মি। চাঁদা দিলে বসতে দেয়, না দিলে অন্য লোকের কাছে জায়গা বরাদ্দ দিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে লাইনম্যানকে চাঁদা দেই।

বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশ হকার্স লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এমএ কাশেম বলেন, লাইনম্যান চাঁদাবাজরা  খুবই প্রভাবশালী। তারা নিজেরা চাঁদা না তুললেও তাদের লোকজন দিয়ে চাঁদা তুলছেন। মামলা হওয়ায় তারা চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিক্রি হোক বা না হোক চাঁদা দিতেই হবে। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন রকমের হুমকি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম কবির বলেন, হকারের কাছ মামলার খরচ নেওয়া হচ্ছে না। অন্যায়ভাবে আমাদের হকার্স নেতা ও অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্টন, শাহবাগ ও মতিঝিল থানায় ৭২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/আসাদ/হাসান/মুশফিক

Walton Laptop