ঢাকা, শুক্রবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশের ভূমি সদ্ব্যবহারে নতুন আইন

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২০ ১:৫৬:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২২ ৯:৩৭:৩৯ এএম

সচিবালয় প্রতিবেদক : দেশের সব ধরনের ভূমির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন আইন করা হচ্ছে। আইনে দেশের যে কোনো ভূমি সদ্ব্যবহারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে। আইনের বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ভূমি সদ্ব্যবহারে শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানাও থাকছে। ভূমির অপব্যবহার ঠেকাতেই মূলত আইনটি করা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন, ২০১৭ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি নতুন আইন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত। আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনায় যাতে শৃঙ্খলা আসে সেজন্যই আইনটি করা হয়েছে। যাতে পরিকল্পিতভাবে ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি যাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা ও এ সংক্রান্ত উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের উপদেষ্টা পরিষদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিতে হবে। তবে উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়পত্র দিতে নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দিতে পারবে।’

তিনি বলেন, দেশের যে কোনো ভূমি ব্যবহারে, এমনকি শ্রেণি পরিবর্তনে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ছাড়পত্র নিতে হবে। ধরেন যেখানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে সেখানে তাদের, যেখানে পৌরসভা, স্থানীয় পরিষদ রয়েছে সেখানে তাদের ছাড়পত্র নিতে হবে। এই ব্যবস্থা তো আগ থেকেই আছে, এ বিষয়টি এখন আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। তা ছাড়া যেখানে আগে থেকে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই সেখানে আইনের বিধান অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের অনুমতি তথা ছাড়পত্র নিতে হবে।

আইনে দুটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, একটি হলো ২৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ অপরটি হলো ২৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ।

তিনি বলেন, ২৭ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী। কমিটির মূল কাজ হলো পলিসি সাপোর্ট দেওয়া। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা তাদের যে ছোট পরিষদ আছে তাদের কাজের তদারকি ও যথাযথ দিক-নির্দেশনা দেওয়া।

তিনি আরো বলেন, ২৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদের কাজ হলো উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। একইসঙ্গে তারা দৈনন্দিন কাজগুলোও সম্পাদন করবে। নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান বা সভাপতি হবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব। এখানে দুজন নারীসদস্য ও বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত হবেন।

প্রস্তাবিত আইনে ২০ ধারায় অপরাধ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, এ আইনের অধিনে প্রণীত পরিকল্পনা ও বিধিসমূহ অথবা এতদসংক্রান্ত কোনো আদেশ বা ইস্যুকৃত নির্দেশ মোতাবেক কোনো কাজ না করা, কিংবা কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান এ আইনে অধিনে পরিকল্পনা, বিধিসমূহ অথবা এতদসংক্রান্ত কোনো আদেশ বা ইস্যুকৃত নির্দেশ লঙ্ঘন করে কাজ করা, অথবা সরকার কিংবা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনাবলী অমান্য কিংবা পালনে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আইনে জেল ও জরিমানা একসঙ্গে বাধ্যতামূলক করে অনেক কঠোর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী নির্বাহী পরিষদ জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের কাছে পরিকল্পনা ও সুপারিশসহ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ মার্চ ২০১৭/নঈমুদ্দীন/সাইফ

Walton