ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৪, ২৩ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গাড়ি চলাচল সীমিত, জনদুর্ভোগ

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১১ ৪:২৬:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১১ ৪:২৬:২৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর গুলিস্তান-বাবুবাজার এলাকায় ২০ বছরের বেশি পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় মামলা ও দণ্ড এড়াতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছেন পুরনো গাড়ির চালক-মালিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।

মঙ্গলবার গুলিস্তান-সাইনবোর্ড রুটের তারাবো গাড়ির সুপারভাইজার ওমর ফারুক বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ গুলিস্তান এলাকায় মোবাইল কোর্ট বসবে। খবর পাওয়ার পর পুরনো গাড়ি চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট শেষ হলে গাড়ি নামানো হবে।

তিনি আরো বলেন, চিটাগাং রোড থেকে যাত্রী নিয়ে গুলিস্তানের উদ্দেশে রওয়ানা হই। সাইনবোর্ড এলাকায় এসে মোবাইল কোর্টের খবর জানতে পেরে যাত্রীদের রায়েরবাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। কেউ সিএনজি অটোরিকশায় কেউ লেগুনায় করে যাচ্ছেন। এ রুটে শতাধিক বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি চলাচল করলেও আজ গাড়ি চালাচল সীমিত রয়েছে।

এ ব্যাপারে সাইনবোর্ডের বাসিন্দা আকমল হাসান বলেন, গুলিস্তানে মোবাইল কোর্ট বসার কারণে গুলিস্তানের গাড়ি উধাও। দু-একটি গাড়ি চলাচল করলেও সেগুলো গুলিস্তানে না গিয়ে হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ঘুরে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ফ্লাইওভারের ওপরে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গত ৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। অভিযান  শুরুর পর পুরাতন বাসগুলো ওয়ার্কশপে চলে যায়। এগুলোকে ঘষে রং দিয়ে নতুন করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ির কাচ, ইন্ডিকেটর, বাতি লাগানোসহ বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে। আবার অনেকে জাল কাগজপত্র তৈরি করে গাড়ি চালাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বিহঙ্গ পরিবহনের চালক আক্কাস আলী বলেন, গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। যা আছে তাও জাল। ট্রাফিক ধরলে মাফ পাওয়া যায়, কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদলত ধরলে দোষ আর দোষ। তাই অভিযানের খবর শুনে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছি, অভিযান শেষ হলে চালাব।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন সরদার বলেন, গত ৫ মার্চ থেকে ২০ বছরের পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ পর্যন্ত ৫৬টি গাড়ি আটক করে ডাম্পিং করা হয়েছে। এসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানোর অপরাধে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৫১ চালককে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর ১৯৩টি রুটে প্রায় সোয়া ৩ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করে। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ বাস চলাচলের অনুপযোগী। এ বাসগুলো আর রাজধানীতে চলতে পারবে না। কয়েক মাস ধরে বিআরটিএ এসব পুরনো বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এখন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ফিটনেস টেস্ট করা হয়। সে কারণে পুরনো বাসগুলোকে আর ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, বিআরটিএ ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সভা হয়। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা দেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত বাস ৫ মার্চ থেকে রাজধানীতে আর চলতে দেওয়া হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় আজ এ অভিযান চালানো হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ এপ্রিল ২০১৭/আসাদ/হাসান/রফিক

Walton Laptop