ঢাকা, বুধবার, ১৩ বৈশাখ ১৪২৪, ২৬ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ বিশ্ব ঐতিহ্যের মঙ্গল শোভাযাত্রা

আহমদ নূর আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৪ ৯:২৯:০০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১৫ ৯:২৮:৩৭ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : আনন্দ-উচ্ছাসে নতুন বছর ১৪২৪ -কে বরণ করে নিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পয়লা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

‘আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ প্রতিপাদ্যে অকল্যাণ ও অশুভকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতিবারের মতো এবারও এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় এই শোভাযাত্রা। শাহবাগ মোড়-রূপসী বাংলা হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি ঘুরে ফের চারুকলার সামনে এসে তা শেষ হয়।

প্রায় তিন দশক ধরে বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ এই মঙ্গল শোভাযাত্রা গত বছর ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এবার তা ভিন্ন এক মাত্রা পায়।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি দেশে রয়েছে উগ্রবাদীদের চোখ রাঙানি। তাই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন হয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে সর্বমোট ১২টি শিল্প কাঠামো। মূল শিল্প কাঠামোটি ছিল ২৫ ফুট উচ্চতার সূর্যের মুখ। যার একপ্রান্তে ছিল হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী আর অন্যদিকে সূর্যের বিপরীতে বীভৎস কদাকার মুখ। শুভ ও অশুভ মানুষের অন্তনির্হিত এই দুই রূপ তুলে ধরা হয়েছে। সে সঙ্গে ছোট ছোট আরো ১৬টি হাস্যোজ্জ্বল সূর্য মুখ ছিল।

 


এবার শোভাযাত্রা আবার ফিরে এসেছে সমুদ্রবিজয়ের স্মারক হিসেবে তৈরি করা ময়ূরপঙ্খী নাও। এই শিল্প-কাঠামোটির উচ্চতা ছিল ২৫ ফুট। প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঠাঁই পাওয়া হাতি, ঘোড়া, বাঘ ও টেপা পুতুলও স্বরূপে ফিরেছে এবারের আয়োজনে। এ ছাড়া বিশাল কদাকার মুখের এক দানবের শিল্প কাঠামোও নির্মিত হয়েছে, যা দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কুৎসিত মুখটি আবারো তুলে ধরা হয়েছে জাতির সামনে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে রাজা-রানির মুখোশসহ নানা অনুষঙ্গ।

এ বছর প্রথমবারের মতো দেশের ৩০ হাজার সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই শোভাযাত্রা বের করার নির্দেশ দেয়।

এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সকল উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ এপ্রিল ২০১৭/নূর/ইয়ামিন/সাইফুল

Walton Laptop