ঢাকা, শনিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ২০ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘যুক্তরাজ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন তারেক’

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৩ ৯:৪৬:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ৪:০৭:১৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যা তাদের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমর্পণ করেছেন, জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, সেখান থেকে ওই পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেসব পাসপোর্ট এখন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেখানে রক্ষিত আছে।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ বাসায় শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা হওয়ার একটি নথি দেখিয়ে বলেন, ‘আমার হিসাবে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন।’

গত শনিবার লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম তারেক রহমানের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনের বিষয়টি জানান।  তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন।  সেই তারেক রহমান কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন?’

তার এ বক্তব্যের পর সোমবার তারেক রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারকে আইনি নোটিশ পাঠান। ওই নোটিশে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে শাহরিয়ার আলম জাতির কাছে বা তার কাছে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ নোটিশ প্রদানের বিষয়টি প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলন করেন শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, নোটিশ দেওয়ার কথা শুনে আমি খুশি হয়েছি। বিএনপির যে আইন-আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা আছে, সেটা জেনে ভালো লেগেছে। নোটিশ পেলে জবাবের বিষয়টি দেখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন কনভিকটেড ক্রিমিনাল এরকম একটি ভ্যালিড ডকুমেন্টের প্রেজেন্টেশনের পরও কীভাবে উকিল নোটিশ দেন, দ্যাট বি ভেরি ইন্টারেস্টিং। তারা যদি মামলা করতে চান, উই উইল ডেফিনিটলি ফেইস ইট।’



সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, ২০০৮ সালে তারেক রহমান পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। তখন মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এরপর তিনি আর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেননি। ২০১৪ সালের ২ জুন তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সপরিবারে পাসপোর্ট জমা দেন। সেখান থেকে তা বাংলাদেশের হাইকমিশনে আসে।

তিনি বলেন, এত কিছুর পরও যদি কারো কোনো প্রশ্ন থাকে, বিশেষ করে জাতীয়তবাদী দলের কেউ যদি আগ্রহী হন, আমরা ব্যবস্থা করব। লন্ডনে আমাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে দেখে আসবেন। বিএনপির কেউ দেখতে চাইলে বা আইনগতভাবে কেউ চাইলে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাসপোর্ট জমা দেওয়ায় তারেক রহমানের নাগরিকত্ব কি থাকল না? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাসপোর্ট ছাড়া থাকার বিষয়টি ভিন্ন। এখন তো তার কাছে বাংলাদেশের কোনো পরিচয়পত্র থাকল না। কেননা তার কাছে স্মার্ট পরিচয়পত্র নেই। ২০০৮ সালে এটি ছিল না। একমাত্র পরিচয়পত্র ছিল পাসপোর্ট। সেটিও তিনি জমা দিয়েছেন।

তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না, এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি তারেক রহমানকে জিজ্ঞেস করুন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ এপ্রিল ২০১৮/এনএ/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton