ঢাকা, সোমবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘পাহাড়ধস বাংলাদেশে এক নতুন আতঙ্কের নাম’

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১২ ৯:৫৭:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-১৯ ২:৫৬:২১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া  বলেছেন, পাহাড়ধস বাংলাদেশে এক নতুন আতঙ্কের নাম। পাহাড় সৌন্দর্যের প্রতীক হলেও বাংলাদেশের পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর শঙ্কা। এ দুর্যোগ কিছুটা প্রাকৃতিক এবং কিছুটা মানবসৃষ্ট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে (পুরাতন ভবন) ‘ভূমিধ্স: সমস্যা, করণীয় ও সমাধানের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, পাহাড়ধস রোধে কী করা যায়, তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২৭ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি সুপারিশসহ তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি, যেকোনোভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। এটা করলে পাহাড়ধস এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা যাবে। এছাড়া, পাহাড়ধস রোধে যেকোনো মূল্যে ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য প্রকৌশলী ড. আব্দুল জব্বার খাঁন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রেশাদ মুহাম্মদ ইকরাম আলী এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সুদীপ কুমার পাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান।

প্রকৌশলী ড. আব্দুল জব্বার খাঁন বলেন, ‘বৃষ্টিপাত যখন হয় তখন মাটির উপরিভাগ থেকে পানি মাটির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মাটি তা শোষণের মাধ্যমে ভারী হয়ে যায় এবং মাটিতে চাপ সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাটি ধসে যায়। এ ধস রোধ করার জন্য ভেজিটেশন করা জরুরি। ভেজিটেশন এমনভাবে করতে হবে যেন এর শেকড় মাটির অনেক নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। দুর্বা ঘাস দিয়ে ভেজিটেশন করা যায় না, কারণ এর শেকড় অনেক নরম হয়। পাহাড়ি রাস্তার ধ্স রোধে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে যেন কোথাও কোন পানি আটকে না থাকে বা রাস্তা করার ক্ষেত্রে রাস্তা প্লট করে সোজাভাবে কাটতে হবে খাড়াভাবে কাটা যাবে না।

পাহাড়ের ওপর দালান করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায এমনভাবে দালান করতে হবে যাতে সেখানে পানি জমে না থাকে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্লট করে দালান তৈরি করতে হবে।’

প্রকৌশলী মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, গাছপালা কাটা, পাহাড়ে জুম চাষ করা ও জলাবদ্ধতার কারণে অতিবৃষ্টি হলে তখন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের ফলে পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয় ঘটছে। সে বিষয়ে করণীয় দিকগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

প্রকৌশলী ড. সুদীপ কুমার পাল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে যদি করণীয় বিষয়গুলো আমরা ঠিক করতে পারি তাহলে সমাধান বেড়িয়ে আসবে। এজন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

গত এক দশকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘জনগণ যেভাবে বাড়ছে সেভাবে বিভিন্ন এলাকার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও বাড়ছে। পাহাড়ের মাটি এতই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে যে ভারী বর্ষণে ভূমিধস হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের এ দুর্যোগ থাকবে। তবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে ও বিভিন্ন দূর্যোগের মোকাবিলা করতে জনগণকে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনই নীতিনির্ধারকদেরও এসব বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে হবে।’

আব্দুর সবুর বলেন, ‘প্রতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ভুমিধস বৃদ্ধি পায়। দিন দিন ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে ১৬৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় মারা গেছেন ১২০ জন। ২২৭ জন আহত হয়েছেন। ৩ হাজার ৭৫০ বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩৬ হাজার ৬৩৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ মানুষ। ১৯৯৭ সালে জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় ১৬০টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯৮-২০০০ সালে বান্দরবান সদর উপজেলা ও রাঙামাটি শহরে ভূমিধসের ওপর বেশি কাজ হয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জুলাই ২০১৮/সাওন/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton