ঢাকা, সোমবার, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ২২ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জোর দিতে হবে’

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১০ ৬:৪৮:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৫ ৮:২১:২৪ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশই হলো কৃষিখাতে। এত বিপুল পরিমাণ মানুষ কৃষিতে নিয়োজিত থাকলেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান মাত্র ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন না হওয়ার কারাণে কৃষি থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে। 

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

এসডিজি অর্জনে ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনা কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর জন্য কতটুকু অর্থ সহায়তা প্রয়োজন এ নিয়ে আলোচনা করা হয় অনুষ্ঠানে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইরি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন আনতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। খরা, লবণাক্ততা,  জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিখাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে বদ্ধপরিকর। বন্যা- ঝড় ও অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ধান উৎপাদনে আমরা ভালো করেছি। প্রতিকূল পরিবেশে ও সবসময় যেন ধান উৎপাদন হয় গবেষকদের সেই জাত উদ্ভাবন করতে হবে।’

সভায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের নীতিমালাসমূহের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক পত্র উপস্থপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম।

তিনি বলেন, ‘মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ কৃষি সেক্টরে। কিন্তু তরুণরা এ সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী না। যারা কাজ করছে তারা বেশিরভাগই বয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদেরকেও এ খাতে আগ্রহী করে তুলতে হবে।’

ড. শামছুল আলম বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে বছরে ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। যেখানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মত। ৪১,৫৪৩ বর্গকিলোমিটারের দেশ নেদারল্যান্ডস পারলে আমরা কেন পারবো না। এর জন্য প্রয়োজন উন্নত নিবিড় কৃষিপদ্ধতি। আর এর জন্য ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ হাতে নিয়েছে সরাকার। এ প্ল্যান প্রথম করেছে নেদারল্যান্ডস আর বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয়।’

তিনি বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে রিসার্চ ও ইনোভেশণ প্রয়োজন। যারা কাজ করবেন তাদের এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জিডিপিতে ১ শতাংশ গ্রোথ হলে দারিদ্র্য কমতে সহায়তা করে দশমিক ৫ শতাংশ। কৃষি সেক্টরের গ্রোথ অন্য যেকোন সেক্টারের চেয়ে বেশি দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। দেখা যায়, যে কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় তা থেকে রপ্তানি আমরা কমই করতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রকৃতিক দুর্যোগ হয়। ঝড় – বন্যা বেশি হচ্ছে। সমুদ্র উপুকলবর্তী জেলাগুলোর পানিতে লবনক্ততা দেখা দিচ্ছে। এগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার কৃষিতে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সরাকারের পাশাপাশি বেসকারি খাতকেও বেশি করে এ সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ লাভজনক। সরকার এখানে বিভিন্ন রকম সুযোগ দেয়।’

সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ এবং এ খাতে ব্যাপক সফলতা রয়েছে। বিশেষ করে ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে। ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসডিজির যে সকল ক্ষেত্রে অবদান রাখা যায় তা হলো- সকল ধরনের দারিদ্র্যের অবসান, ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন, টেকসই কৃষির প্রসার, অসমতা কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং উইং চিফ সুলতানা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সচিব মনোয়ার আহমেদ। এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যবৃন্দ, ধান বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ এবং নীতি-নির্ধারকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



রাইজিংবিডি/ ঢাকা/১০ অক্টোবর ২০১৮/হাসিবুল/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton