ঢাকা, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মোজাম্মেলকে জাপা থেকে বহিষ্কার

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৭ ৮:৩৬:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৭ ৮:৩৬:০৬ পিএম
Walton AC 10% Discount

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : পাঁচ দিন আগে পদোন্নতি পেয়ে জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন টাঙ্গাইল-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. মোজাম্মেল হক। আজ দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী শফিউল্লাহ মুনিরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টির নেতা মোজাম্মেল হককে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মনোনয়নের প্রতিযোগিতা থেকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে দলের সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া শফিউল্লাহ মুনিরের কথায় পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। কারণ, আমি যে আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই সে আসনে তিনিও নির্বাচন করতে চান। তাই দলের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অব্যাহতির খবরে ক্ষুব্ধ মোজাম্মেল হক জানান, আমাকে যে পত্র দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ২৮ বছর ধরে আমি টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টি আগলে রেখেছি, এখন বলা হচ্ছে জাতীয় পার্টিতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এটা বলে কাউকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া নজিরবিহীন।

বুধবার জাতীয় পার্টির দপ্তর থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সাংগঠনিক নির্দেশ অমান্য করায় মো. মোজাম্মেল হককে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ ও পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান দলের গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোজাম্মেল হককে বহিষ্কার করার কথা বলা হলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত তার অব্যহতিপত্রে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। জাতীয় পার্টির প্যাডে পাঠানো চিঠিতে কোনো তারিখও উল্লেখ নেই।

অব্যাহতিপত্রে ‘সাংগঠনিক নির্দেশ’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় পার্টিতে আর কোনো প্রয়োজন নাই বিধায় মো. মোজাম্মেল হক (টাঙ্গাইল) কে পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে- যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বহিষ্কারের খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, টাঙ্গাইল শহরে জাপার হয়ে বাতি জ্বালানোর লোক ছিল না। সেখানে আমি খেয়ে না খেয়ে দলের হাল ধরেছি। ২৮ বছর ধরে অলিগলি ঘুরে দলকে শক্তিশালী করেছি। পার্টির চেয়ারম্যন ২ বছর আগে ডেকে নিয়ে বললেন, তুমি নির্বাচন করবে টাঙ্গাইল-৫ এ। তার পর থেকে রাত-দিন কাজ করে দলকে শক্তিশালী করেছি। গত চার বছর টানা টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি ছিলাম। কিছুদিন আগে আমাকে দলের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদকও করা হয়। কিন্তু পাঁচ দিন পর আমার কোনো পদ নেই। এই হচ্ছে আমার ২৮ বছরের ত্যাগ তীতিক্ষার প্রতিদান।

তিনি বলেন, আমার কোনো অভিযোগ নেই। চিন্তা করছি, আর রাজনীতিই করব না। আল্লাহ এর বিহীত করবেন।

ব্যবসায়ী শফিউল্লাহ মুনির কিছু দিন আগে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েই পার্টির চেয়ারম্যানের আস্থাভাজনে পরিণত হন। আগের কোনো অভিজ্ঞতা ও পদ-পদবি ছাড়াই একলাফে পেয়ে যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের তথ্য প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক উপদেষ্টার পদ। শুধু তাই নয়, তার জন্য টাঙ্গাইলের কমিটি ভেঙে দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আবুল কাসেম ও মোজাম্মেল হকের কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক করেন শফিউল্লাহ মুনিরকে। টাঙ্গাইল জেলা জাপার নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হলেও তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে টাঙ্গাইল-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বিরোধী নেতা রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ। তিনি এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে মোজাম্মেল হকও মনোনয়নপ্রত্যাশী দীর্ঘদিন ধরে। এর মধ্যে শফিউল্লাহ মুনির দলে যোগ দিলে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। শুরু হয় নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা ও গ্রুপিং। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশেও মুনির ও মোজাম্মেলের অনুসারী নেতাকর্মীরা মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় মুনির তার পথের কাঁটা সরাতে তৎপরতা শুরু করেন। এরশাদকে ম্যানেজ করে প্রথমে উপদেষ্টার পদ বাগিয়ে নেন। তারপর টাঙ্গাইলের কমিটি ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর এরশাদকে দিয়েই এমপি প্রার্থী ঘোষণা করান। এখন মুনির যা বলেন পার্টির চেয়ারম্যান তাই করেন, এমন অভিযোগ টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, মুনিরের কারণে টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টিতে ধ্বস নেমেছে। তার কারণে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জাপা সংগঠক মোজাম্মেল হককে অব্যাহতি  দেওয়া হয়েছে। দলের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেছেন। সুসময়ে এসে মুনির হর্তাকর্তা সেজে গেছেন। আবার দুঃসময় শুরু হলে মুনিরের খোঁজ পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশকে স্থিতিশীল করতে পারে : সেন্টু
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশকে স্থিতিশীল করতে পারে। যারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমান সরকার যেভাবে দেশে উন্নয়ন ঘটিয়েছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে মহাজোট জয়লাভ করার কথা। আর যদি জনগণ মনে করে, এ সরকার ব্যর্থ তাহলেও দেশবাসী ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনবে। তাই জাতীয় পার্টির সবসময় নির্বাচনের পক্ষে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা-১৩ আসনে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা থানা জাপা আয়োজিত শতাধিক ট্রাক ও দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে লাঙ্গলের পক্ষে শোভাযাত্রার পূর্বে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রাটি মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের কবরস্থানের ঈদগা মাঠ থেকে শুরু হয়ে মিরপুর রোড, শ্যামলী, আগারগাঁও তালতলা, ঢাকা উদ্যান, আসাদগেট, আদাবর, শেরেবাংলা নগর, বসিলা হয়ে মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার আগে সমাবেশে রফিকুল আলম সেলিমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- মহানগর নেতা মাহবুবুর রহমান লিফটন, মুকুল আহমেদ, জাকির হোসেন, এস এম হাসেম প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, নব্বইয়ের পর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারই এরশাদের প্রতি সুবিচার করেনি। তাই আমরা এ পদ্ধতির বিরোধিতা সবসময় করে আসছি। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্র বিকশিত হয় না। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনমতকে গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ নভেম্বর ২০১৮/নঈমুদ্দীন/রফিক

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge