ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বাগতম আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২৩ ১০:২৩:৪৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৩ ১১:৩৫:২১ এএম

ইয়াসিন হাসান : ভাবতেই ভালো লাগছে সময়ের সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান সাদা জার্সিতে মাঠ মাতাবেন। হয় লেগ স্পিন, না হয় ফ্লিপার, না হলে গুগলি; প্রতিপক্ষকে আউট করেই ছাড়বেন আফগানিস্তানের এ লেগ স্পিনার।

বয়স মাত্র ১৮ কিন্তু মেধা ও চিন্তা শক্তিতে তার বয়স ৩০! না হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের স্পিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেন! ক্রিকেট বিশ্বে এখন হাতেগোনা যেসব লেগ স্পিনার রয়েছেন তাদের মধ্যে সবার সেরা রশিদ খান। ইমরান তাহির, আদিল রশিদ, অ্যাডাম জাম্পা কিংবা শাদাব খান, যারাই আছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ও বৈচিত্র্যময় খোলোয়ার আফগানিস্তানের এ লেগ স্পিনার।

ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সদ্য সমাপ্ত বোর্ড সভায় আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পর অর্থ্যাৎ ১৭ বছর পর টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা এখন ১২টি। ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ ফরম্যাটে পা রাখায় অভিনন্দন আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে।

অনেকটা তৈরি হয়েই টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্বে দারুণভাবে বিচরণ করা দুটি দল পূর্ণাঙ্গরূপে নিজেদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে। সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ দুই দল। টেস্ট ক্রিকেটেও শিগগিরই সবার মন কাড়বে তারা, এমনটাই বিশ্বাস ক্রিকেটপ্রেমিদের। বড় মঞ্চে পারফর্ম করার অভ্যাস রয়েছে দুই দলের ক্রিকেটারদের। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে বড় মঞ্চে আন্তর্জাতিক সাফল্য রয়েছে তাদের। দুই দলে ম্যাচজয়ী পারফর্মারও বেশি। বলছি না তারা এক বছরের মধ্যে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতকে হারাতে পারবে। কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখে লড়াই করতে পারবে তারা। আর দুই দলের ক্রিকেটারদের পরাজয়ের আগে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা ও জেদ রয়েছে। এটা শুধু ক্রিকেটেই না, বাস্তব জীবনেও জরুরী একটা বিষয়। 

 



আফগানিস্তান সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দারুণ ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছে। স্পিনার রশিদ খান একাই এক ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। এসব অর্জন টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আয়ারল্যান্ডও পিছিয়ে নেই। পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে এতটা সাফল্য ছিল না, যতটা আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের রয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচ পারফর্মারের সংখ্যা। এক দশক ধরে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে নিয়মিত। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, বিশ্বকাপ, প্রাদেশিক টুর্নামেন্টে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড নিয়মিত মুখ। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বড় দলগুলোর সাথে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে তারা। অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেই সাদা পোশাকে মাঠে নামার অপেক্ষায় তারা।

আয়ারল্যান্ডের থেকে আফগানিস্তান আরও এক ধাপ এগিয়ে। জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাচ্ছে দলটি। বাংলাদেশকে ২০১৪ এশিয়া কাপে, ২০১৬ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানিস্তান হারিয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৯ মুখোমুখিতে ১১ জয় তাদের। এছাড়া সহযোগী দলগুলোর বিপক্ষে হেসেখেলেই জয় পাচ্ছে মোহাম্মদ নবী, আসগর স্তানিকজাইরা। বলার অপেক্ষা রাখে না নিজেদের দিনে তারা সেরা। প্রশ্ন উঠতেই পারে এগুলো তো রঙিণ পোশাকে সাফল্য, অভিজ্ঞতা! সাদা পোশাকে তো খেলার অভিজ্ঞতা নেই? জেনে খুশি হবেন অবকাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশের থেকেও অনেকটা এগিয়ে আফগানিস্তান।

তিন স্তর বিশিষ্ট ঘরোয়া ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, অঞ্চল ভিত্তিক টুর্নামেন্ট, বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্ট, স্কুল ক্রিকেট এবং ক্রিকেটের উপর শিক্ষা প্রদান করা হয় দেশটিতে। বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে এগুলো ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করে। ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়ে উঠে জাতীয় দল। আর ক্রিকেটে বেসিক জিনিসগুলো একই থাকে। পার্থক্য শুধু একটিই, মানসিকতা। সেটাও ২০০৭ সাল থেকে গড়ে তুলছে নবী, শাপুর জারদান, মোহাম্মদ শাহজাদরা।

আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়া ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক। দুটি দলই সময়-অসময়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছে রঙিন পোশাকে। এবার সাদা পোশাকে তাদের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমিরা। ক্রিকেটের এলিট ক্লাবটিতে স্বাগতম আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান। চিয়ার্স …।

লেখক : ক্রীড়া সাংবাদিক।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জুন ২০১৭/ইয়াসিন/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel