ঢাকা, বুধবার, ২ কার্তিক ১৪২৫, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতা এবং এর প্রতিকার

মাছুম বিল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০২ ২:২৪:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২১ ৮:২৪:১৫ পিএম

মাছুম বিল্লাহ: বিষণ্নতা একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি। প্রাণঘাতি এই ব্যাধি মানুষকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। নীরব ঘাতকের মতো মানুষের সব আনন্দ, সুখ, ভালোলাগা ক্রমশ গ্রাস করে নেয়। এই বিষণ্নতা যদি দেশ ও জাতির ভবিষ্যত শিক্ষার্থীদের পেয়ে বসে তাহলে কী হবে?

রাজধানী ঢাকা শহরের মাধ্যমিকের একাংশের শিক্ষার্থীদের উপর অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি ও ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের তিনজন গবেষক একটি সমীক্ষা চালান। ‘এথনিসিটি অ্যান্ড হেলথ’ জার্নালে তাদের গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায় যে, রাজধানী ঢাকার মাধ্যমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের শতকরা ২৫ভাগ কোন না কোন ধরনের বিষণ্নতায় ভুগছে। এই হার সারা বাংলাদেশে বয়ঃসন্ধিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার হারের চেয়ে বেশি এবং ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বিষণ্নতা বেশি। ঢাকার বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের আটটি বিদ্যালয়ের তেরো থেকে ষোলো বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়। বিষণ্নতা পরিমাপে বহুল ব্যবহৃত সিইএসডি-১০ স্কেলের ১০টি প্রশ্ন দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। তাতে অংশ নেয়া ৮৯৮ জন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৭৫৫জন সিইএসডি-১০ সম্পন্ন করে। পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে তাদের পারিপার্শ্বিক পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, জরিপে অংশ নেয়া মাধ্যমিক পর্যায়ের এই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।

বিষণ্নতার সঙ্গে জিনের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় জানা গেছে ।  ফলে বিশেষজ্ঞরা বিষণ্নতা নিয়ে গবেষণায় নতুন আলো দেখতে পাচ্ছেন। বিশ্বে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বিষণ্নতায় আক্রান্ত। কিন্তু কেন তারা বিষণ্নতায় ভোগেন জনাতে বিজ্ঞানীরা নেদারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমের এক গ্রামের ২ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করেছেন এবং তাদের জিনের মানচিত্র সংগ্রহ করেছেন। একজন মানুষের জিনের মানচিত্রে দেখা গেছে যে, বিষণ্নতার পেছনে একটি বিশেষ জিন দায়ী। তবে একক কোন জিন এর জন্য একা দায়ী নয়। নেদারল্যান্ডের এরাসমুস বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রাশিয়ার সায়েন্স একাডেমি মানুষের ডিএনএর ক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ‘বায়োলজিক্যাল সাইকিয়াট্রি’ নামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। নেদারল্যান্ডের প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকা ২২ পরিবারের ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা কিছু জিন পেয়েছেন যারা বিরল। এরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ড. নাজাফ আমিন বলেন, আমরা প্রথম বিষণ্নতার সঙ্গে জিনের সম্পৃক্ততা দেখিয়েছি। (সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউক)

২০১২ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অন্য একটি গবেষক দলের গবেষণায় ১৪ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ পাওয়া যায়। ঢাকায় চালানো নতুন গবেষণায় পাওয়া যায় হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়েদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ ছেলেদের চেয়ে বেশি। যেখানে ৩০ শতাংশ ছাত্রীর মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা গেছে। সেখানে ছেলেদের ক্ষেত্রে এই হার ১৯ শতাংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার প্রবণতা বাড়তে থাকে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। তেরো বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মাত্র ১৭ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা গেলেও ষোলো বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৩৭ শতাংশ। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বিষণ্নতার হার বেশি কেন? সাধারণত মেয়েরা সামাজিক নিরাপত্তা, বিয়ে, ভবিষ্যত ও অন্যগৃহ পদার্পণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকে বেশি। নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে না হলে পরে বহুবিধ সমস্যা হয়। কোন গৃহে সে যাবে, কেমন হবে হবু স্বামী ইত্যাদি চিন্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মেয়েদের মধ্যেও থাকে। তাছাড়া স্কুল কলেজে পড়ার সময় উঠতি বয়সের ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে, বাবা-মার সাথে শেয়ার করতে পারে না বা করে না। ফলে বিষণ্নতা তাদের পেয়ে বসে।

জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক ৪৯ শতাংশ ছাত্র এবং প্রায় চার ভাগের এক ভাগের (২৪শতাংশ) দৈহিক ওজন বেশি বা স্থুলতায় আক্রান্ত। ৪৭ শতাংশ অভিভাবকের মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রাজধানীর এসব শিক্ষার্থীর বিষণ্নতার পেছনে নিজেদের দৈহিক ওজন স্বাভাবিক নয় বলে আত্মপ্রসূত ধারণা, স্কুলে অনিরাপদ বোধ করা এবং যাপিত জীবন সম্পর্কে অসন্তষ্টির কারণ হিসেবে পেয়েছেন গবেষক দল। এ ছাড়া পরিশ্রম না করা , বাবার পেশা ও অনেকের পারিবারিক আয় তাদের বিষণ্নতায় ভূমিকা রেখেছে। বয়ঃসন্ধিতে থাকা এসব শিক্ষার্থীর বাবা-মায়েরা তাদের ঘুমে ব্যাঘাতের যে তথ্য জানিয়েছেন তাকেও বিষণ্নতার একটি কারণ বলে মনে করছেন গবেষক দলটি। তারা বলছেন কিশোর বয়সের এই বিষণ্নতা অনিয়ন্ত্রিত জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে প্রতিবন্ধিতাসহ রুগ্ন স্বাস্থ্য ও সামাজিক নানা সমস্যাসহ আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

২০১৬ সালে অন্টারিও ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ হেলথ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ২৫হাজার শিক্ষার্থীর উপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ২০১৩ সালের তুলনায় অধিকমাত্রায় উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছে। কারো কারো মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা চেষ্টার মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে যে তথ্যগুলো বেড়িয়ে এসেছে  শতকরা ৬৫ভাগ শিক্ষার্থী জানিয়েছে ২০১৬ সালে তারা অপ্রতিরোধ্য উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০১৩-এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫৭ ভাগ। শতকরা ৪৬ ভাগ শিক্ষার্থী জানিয়েছে ২০১৬ সালে তারা এতটাই ডিপ্রেসড ছিল যে, ঠিকমতো পড়াশোনা করাটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৩ সালে এরকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৪০ ভাগ। ২০১৬ সালে শতকরা ১৩ ভাগ শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে চিন্তা করেছিল আত্মহত্যা করার জন্য। ২০১৩ সালে এরকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল শতকরা ১০ ভাগ। ২০১৬ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল শতকরা ২.২ ভাগ শিক্ষার্থী। ২০১৩ সালে এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল শতকরা ১.৫ ভাগ। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শতকরা ৯ ভাগ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কানাডার অন্টারিওতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যা প্রবণতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্টারিও ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ হেলথ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মেগ হোটন বলেন, তবে বাস্তবতা হলো বিষণ্নতায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের জীবনে ঝুঁকি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হবার সময় এসেছে। উল্লেখ্য অন্টারিওর কলেজ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন এখন একটি বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেক সময় আমরা নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি এই ভেবে যে, কোন একটি  কাজ আমি কখনই করতে পারব না অথবা এটা আমার দ্বারা কখনই সম্ভব নয়। এটা একটা ভুল ধারণা। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে এবং চাইলেই সে সেটা করতে পারে। নিজের উপর আস্থা রেখে কোন কাজে হাত দেওয়ার সময় ভয় পাওয়ার চেয়ে বরং ভাবতে হবে যে, এই কাজ আমার মতো একজন শিক্ষার্থীর দ্বারা করা অবশ্যই সম্ভব। শিক্ষাজীবন মানেই হচ্ছে নানা রকম প্রতিযোগিতা এবং পড়াশোনার চাপ। আর তার উপর পরীক্ষা কাছাকাছি আসলে তো কথাই নেই। প্রজেক্ট শেষ করা, ফাইনাল পেপার তৈরি করা, প্রেজেন্টেশন দেওয়া এবং অবশ্যই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া- সব মিলিয়ে একটা হুলস্থুল অবস্থা। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে যে, এগুলো জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা, এগুলো থাকবেই। এর মধ্যেই আনন্দ করতে হবে। এর পাশাপাশি ‘এটেনসন ডেফিসিট হাইপার-এক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’  যেটি এক ধরনের মানসিক সমস্যা এবং  শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ দেখা যায়। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এত বেশি মাত্রায় সিরিয়াসনেস কাজ করে যে, কোনো একটা বিশেষ কাজে তারা মনোযোগ দিতে পারে না। ফলাফল হলে শুধুই অস্থিরতা। যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, তাদের জন্য মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়াতে মেডিটেশন খুবই ভালো একটি প্রক্রিয়া।

জার্নাল অফ সাইকোলজিতে এ বিষয়ে ২০১৬ সালে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। সেখানে তাদের তিন মাস প্রতিদিন দুই বেলা মেডিটেশন করতে বলা হয়েছে। তিনমাস পরে দেখা গেল, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং এই মানসিক রোগের উপসর্গ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। মানসিক চাপ অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরই একটা বড় সমস্যা। দেখা যায়, ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও মানসিক চাপের কারণে পরীক্ষায় ভালো করতে পারছে না বা নানারকম শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। ২০০৭ সালে সাউদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ৬৪ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীর ওপর একটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষাভীতি ছাড়াও নার্ভাসনেস, আত্মবিশ্বাসের অভাব, মনোযোগ কম ইত্যাদি নানারকম সমস্যা এদের ছিলো। তিন মাস নিয়মিত দুবেলা মেডিটেশনের পর দেখা গেল এদের মনোযোগ, সচেতনতা এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়েছে এবং পরীক্ষার সময় যখন নাকি সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী থাকে তখনও তারা বেশ রিল্যাক্সড ছিল এবং আগে এসময় যেসব শারীরিক সমস্যায় তারা ভুগতো এবার আর তা হয়নি।

২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওরিগনের ৪৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। এদের মধ্যে ২২ জনকে বাছাই করা হয় মেডিটেশনের ওপর একটা পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেয়ার জন্য। বাকিদেরকে শুধু রিলাক্সেশনের মতো হালকা কিছু প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরে ব্রেন ইমেজিং পরীক্ষা করে দেখা যায় যারা মেডিটেশনের কোর্সে অংশ নিয়েছে তাদের ব্রেনে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে ব্রেনের যে অংশ আবেগ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে, সে অংশে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। যার মানে হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিরোধপূর্ণ আচরণে না জড়ানো এবং মানসিক চাপ সামলানো তাদের পক্ষে এখন বেশ সহজ।  অন্যদিকে যারা কন্ট্রোল গ্রুপে ছিলো, তাদের মধ্যে এ ধরনের কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

২০০৩ সালে গবেষক ভার্নন বার্নেস, লিনেট বাউযা ও ফ্রাঙ্ক ট্রিবার কিশোরদের উপর মেডিটেশনের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করেন। ৪৫ জন আফ্রিকান-আমেরিকান হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দুইভাগে ভাগ করা হয়েছিল। এক গ্রুপ চার মাস ধরে নিয়মিত মেডিটেশন করেছে। আরেক গ্রুপ কিছুই করেনি। গবেষণা শেষে দেখা গেছে, যারা মেডিটেশন করেছে তারা ক্লাসে অনুপস্থিত কম ছিলো। শিক্ষক বা ক্লাসমেটদের সাথে তারা ভালো আচরণ করেছে এবং সবার সাথে সহজভাবে মিশতে পেরেছে। অন্যদিকে যারা মেডিটেশন করেনি তাদের মধ্যে অস্থিরতা, আবেগের ভারসাম্য না থাকা, সহপাঠীদের সাথে অসহিষ্ণু বা সহিংস আচরণ, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে আত্মবিধ্বংসী আচরণও দেখা গিয়েছিল। অংক ও ইংরেজিতে ভালো করতে পারছিল না ক্যালিফোর্নিয়ার এমন ১৮৯ শিক্ষার্থীর ওপর ২০০৯ সালে একটি গবেষণা চালানো হয়। তিনমাস ধরে প্রতিদিন তাদের মেডিটেশন করতে বলা হয়। ফলাফলও চমৎকার। দেখা গেল তিনমাস পর এদের মধ্যে ৭৮ জনই শুধু গণিত আর ইংরেজিতেই নয়, সব বিষয়েই আগের চেয়ে ভালো করেছে।

এ সমস্ত চাপজনিত টেনশনে থেকেও মন প্রশান্ত রাখার জন্য মেডিটেশনের কোনো জুড়ি নেই। নানা ধরনের মানসিক চাপ মোকাবেলা করতে এবং শিক্ষার্থী জীবনটাকে আরো সুন্দর ও আনন্দপূর্ণ করতে নিয়মিত মেডিটেশন চর্চা দরকার। শিক্ষার্থীদের বলছি মেডিটেশন ছাড়াও একা বসে বসে দুশ্চিন্তা করবে না। মনে দুশ্চিন্তা এলে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কথা বলবে, গল্প করবে, প্রাণবন্ত আড্ডা দেবে। প্রকৃতির নির্মল কোলে ঘুরে আসবে। নদীর কিনার, অবারিত ফসলের ক্ষেত , সম্ভব না হলে পার্কে ঘুরে আসবে, প্রকৃতি দেখবে।অ মনের দুশ্চিন্তা কেটে যাবে। মনে রাখবে তোমার মন প্রফুল্ল ও আনন্দিত রাখা কিন্তু তোমার নিজের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। কিন্তু বিষণ্নতায় পেয়ে বসলে তা এক পর্যায়ে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

লেখক: ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Walton