ঢাকা, শনিবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ভেনিজুয়েলা সংকটে বিভক্ত বিশ্ব

অলোক আচার্য : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৯ ১:১৯:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-২৯ ৪:০২:১২ পিএম

অলোক আচার্য: ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট যাচ্ছে। ভেনিজুয়েলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নতুন বিষয় নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। এবং দৃশ্যত পরাশক্তিগুলো দুইভাগে বিভক্ত। দেশটির ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে পক্ষ-বিপক্ষ জোটগুলোর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় মাদুরো যে নাখোশ তার বক্তব্যে বোঝা যায়। মাদুরো যুক্তরাষ্ট্র ক্যু করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন। এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রবল সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর দেশটিতে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসেন নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু গত বছর নির্বাচনে মাদুরোর বিজয় নিয়েই যত ঝামেলার তৈরি হয়। এই নির্বাচনে মাদুরোর জয় নিয়ে দেশটির জনগণও বিভক্ত। বিরোধীরা তার পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় রাস্তায় মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই মাদুরোর সমর্থকরা। তারাও তার সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন। এই বিভক্তিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা গুয়াইদোকে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান গুয়াইদোর সমর্থনে গত বুধবার হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এই জনতার সামনে তিনি ডান হাত তুলে শপথ নেয়ার ভঙ্গিতে নিজেকে অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেদেশে অবস্থান করা মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, মাদুরোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মেক্সিকো, বলিভিয়া ও কিউবার মতো দেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আহবানে সাড়া দিয়েছে ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, চিলি, পেরু, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, কোস্টারিকা, গুয়েতেমা হন্ডুরাস ও পানামা। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকাকে ভালো চোখে দেখছে না। একই দৃষ্টিভঙ্গী চীনেরও। দেশের এই সংকটকালীন অবস্থা মাদুরো কীভাবে সামাল দেন তা দেখার বিষয়। গুয়াইদো এত সহজে নিজের অবস্থান বদলাবে বলেও মনে হয় না। এই সংকটের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা সামাল দেয়া বেশ কঠিন হয়ে পরবে বলে মনে হয়। কারণ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলার পরিকল্পনা করছেন। এদিকে ভেনিজুয়েলায় চলা সংকটের মধ্যেই জাতিসংঘ বর্তমান পরিস্থিতির তদন্ত দাবি করেছে। চলমান আন্দোলনে কারাকাসভিত্তিক বেসরকারি সংগঠন অবজারভেটরি অব সোশ্যাল কনফ্লিক্ট নিহতের সংখ্যা ২৬ জন বলে জানিয়েছে। বর্তমান অবস্থায় সেখানে একদেশে দুই প্রেসিডেন্ট অবস্থান করছে। একজন রয়েছে বিতর্কিত এক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে, অন্যদিকে আরেকজন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। ভেনিজুয়েলার মতো বর্তমান সংকটপূর্ণ অবস্থার ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে যায়। এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান যত দ্রুত হয় তত মঙ্গল। তবে ঘটনার পক্ষ এবং বিপক্ষ শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। মাদুরো এবং গুয়াইদো উভয় নেতা বর্হিবিশ্বের জোড়ালো সমর্থন পাচ্ছেন। তাই কেউ একজন নিজের অবস্থান ছেড়ে দেবেন বলে মনে হয় না। তাছাড়া দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো এবং আটজন জেনারেল মাদুরোর প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এতে সামরিক ক্ষেত্রে মাদুরোর শক্ত অবস্থান রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

গত বছরের মে মাসে নির্বাচন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন। যদিও ঐ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধী দল বয়কট করে। আশার কথা হলো নিকোলাস মাদুরো দেশটিতে চলা চলমান সংকট নিরসনে বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে গুয়াইদো সে প্রস্তাবে এখনও সাড়া দেননি। তিনি এ আলোচনার প্রস্তাবকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর পরিবর্তে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানান যাতে একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। বিশ্লেষকরাও মাদুরোর এই আলোচনার প্রস্তাবকে সময়ক্ষেপণ বলছেন। নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে আরো বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও আলোচনায় বসা ছাড়া ভেনিজুয়েলায় রাতারাতি কোন পরিবর্তন আসবে কি না সন্দেহ। মে মাসের নির্বাচনে বিতর্ক ওঠার পর থেকেই যে উত্তেজনা চলছে তাতে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি মার্কিন ইউনিট সিটগো পেট্রোলিয়ামের নতুন বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা করছেন গুয়াইদো। এই কোম্পানির আয় নিজের কাছেই রাখার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এতে সায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। তা না হলে তারাও গুয়াইদোকেই অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতির কথা জানিয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে বোঝা যায় ভেনিজুয়েলার এ সমস্যা খুব দ্রুতই সমাধান হচ্ছে না। মাদুরো দ্রুতই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সম্মত না হলে সমস্যা চলতেই থাকবে। কারণ আলোচনায় গুয়াইদো আগ্রহী নয়। আর মাদুরোও রাস্তা ছাড়বেন বলে মনে হয় না। কারণ তার পক্ষেও রয়েছে পরাশক্তি। মোট কথা মাদুরোকে নিয়ে এখন বিশ্ব দু’ভাগে বিভক্ত।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ জানুয়ারি ২০১৯/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC