ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আ.লীগ ভারতপ্রীতি-ভীতির কোনোটিতেই নেই’

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১২ ৭:৫৪:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১৩ ৯:৪২:১২ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ভারতপ্রীতিতেও নেই, ভারতভীতিতেও নেই। ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। দেশের স্বার্থে এই বন্ধুত্ব থাকবে। বাংলাদেশের জনগণ না চাইলে এই বন্ধুত্বও থাকবে না।’

রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় শ্রমিক লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন নালিশের নতুন আরেক ভাঙা রেকর্ড নিয়ে এসেছে। তারা এখন প্রতিদিনই ভারতভীতি ও ভারতবিদ্বেষের ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো ভারতে যাননি। কিন্তু তারা গোপন চুক্তির গন্ধ পেয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী যাবেন এপ্রিলে। তাও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তার আগেই তারা গোপন চুক্তির গন্ধ পেয়ে ভাঙা রেকর্ড বাজাতে শুরু করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে পারে, বিদেশি শক্তি নয়। অথচ বিএনপি ক্ষমতার জন্য ভারতপ্রীতি এবং ক্ষমতার বাইরে গেলে ভারতবিদ্বেষী কথা বলে। আমরা ভারতপ্রীতিতেও নেই, ভারতভীতিতেও নেই। ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। বাংলাদেশের স্বার্থে এই বন্ধুত্ব থাকবে। বাংলাদেশের জনগণ না চাইলে এই বন্ধুত্বও থাকবে না।’

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ও গঠনমূলক, এ দাবি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি হলে জাতীয় স্বার্থেই হবে। জাতীয় স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জীবন থাকতে কোনোদিন কারো সাথে কোনো চুক্তি করবেন না। এই বিশ্বাস বাংলাদেশের জনগণের আছে। বাংলাদেশের স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাইলে শেখ হাসিনা ২০০১ সালেই ক্ষমতায় যেতে পারতেন। এটা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।’

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে বিএনপি নেতাদের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নরেদ্র মোদির জয়ের পরের দিন বিএনপির নেতারা ভারতীয় দূতাবাস খোলার আগেই ফুল ও মিষ্টি নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছিল ভারতে, কিন্তু বিএনপি ফুল আর মিষ্টি নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে। কারণ, তারা মনে করেছিল, নরেদ্র মোদি এসে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কিন্তু যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা আর নরেন্দ্র মোদি সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বহু বছরের অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল ভেঙে দিলেন, তখন তারা জাগ্রত হতে শুরু করল। ভারতের সাথে এই বন্ধুত্ব থাকবে। এই বন্ধুত্বে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। এই বন্ধুত্ব বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের স্বার্থে, ক্ষমতার স্বার্থে নয়।’

বিএনপিকে নালিশের ভাঙা রেকর্ড বাজানো ও বিদেশিদের দুয়ারে ধর্না দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশের জনগণ জানে, বিএনপি ওপরে ওপরে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বললেও তারা তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তারা নির্বাচনে আসবে। কারণ, গাধা জল খায় একটু ঘোলা করে। বিএনপিও পানিটা ঘোলা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা নির্বাচন কমিশনকে দেবে। এটা আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেড় বছর আগে বলে গেলাম। এই কথার সাথে কাজের মিল থাকে কি না, এটা জনগণ দেখবেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মডেল নির্বাচন আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন,‘আপনারা অপেক্ষা করুন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসি নারায়ণগঞ্জের মতো মডেল নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা স্মার্ট আওয়ামী লীগ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এটাই আমাদের কমিটমেন্ট। কারণ, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হালকা করে দেখি না। আগামী নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সে কথা মাথায় রেখেই আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। আপনরাও প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ মার্চ ২০১৭/নৃপেন/রফিক

Walton Laptop