ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কাউন্সিল ঘিরে চাঙা জবি ছাত্রলীগ, আসছে নতুন নেতৃত্ব

আশরাফুল ইসলাম আকাশ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৮ ৭:২৯:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১৮ ৭:৩৪:৪৮ পিএম

আশরাফুল ইসলাম : দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের প্রতিক্ষার পর  নতুন নেতৃত্বের খোঁজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ মার্চ। কাউন্সিল ঘিরে এখন নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটাই হবে ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিল।

এদিকে কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর থেকে চাঙা হয়ে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা। ক্যাম্পাসে নেতা-কর্মীদেরকে শোডাউন করতে দেখা গেছে। কাঙ্খিত পদ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা। তবে নতুন কমিটির নেতৃত্বে চমক থাকতে পারে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের এবং ছাত্রলীগে প্রভাব রাখতে পারেন এমন সাবেক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা।

২০১২ সালের ৩ অক্টোবর শরিফুল ইসলামকে সভাপতি এবং সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য কমিটি করা হয়। এ কমিটি প্রায় সাড়ে চার বছর পার করলেও বিভিন্ন কারণে নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর জবি ছাত্রলীগের কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্ত বিশেষ কারণ দেখিয়ে পরে তা স্থগিত করা হয়। নানা জল্পনা কল্পনা শেষে আগামী ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্ত্বরে হতে যাচ্ছে জবি ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিল। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলের সমস্ত আয়োজন যেন নির্দিষ্ট সময় এবং ভালোভাবে সম্পাদিত হয় সেজন্য গত ১৩ মার্চ নেতা-কর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করা হয়েছে। এ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে। তবে যারা বিভিন্ন ভাবে সংগঠনের বিরোধিতা করেছে তাদের কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসার সুযোগ দেওয়া হবে না।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিগত দিনে যারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাদেরকেই নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করা হবে।

পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জুয়েল, শামীম রেজা, তানভীর রহমান খান, কামরুল ইসলাম, সুরঞ্জন ঘোষ, জহির রায়হান আগুন, মাহবুবুল আলম খান রবিন, রুবেল শেখ, সামাজ সেবা সম্পাদক সাইফুল্লাহ সুমন, উপপ্রচার সম্পাদক আনিসুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর রাহুল, উপকর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজী। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকিরের এলাকার হিসেবে উপ-সমাজসেবা সম্পাদক মমিনুর রহমান মমিন এবং সহ-সম্পাদক নুরুল আফসারও আলোচনায় রয়েছেন।

এদিকে পদ প্রত্যাশীরা সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কাছে এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে লবিং তদবির করছেন। নেতাদের বাসায়ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা। ক্লিন ইমেজের কাউকে নেতৃত্বে আনা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা। তারা বলছেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে সমালোচিত করেছে এ শাখা সংগঠনটি। বর্তমান সরকারের এবং পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য এ সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর চিন্তা করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, লবিং, তদবির করে কোনো লাভ হবে না। নিয়মিত ছাত্র, ত্যাগী, পরিশ্রমী ও বলিষ্ঠ কর্মীদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। যাদেরকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন সময় বহিস্কার করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, যাদের বয়স ২৯ বছরের কম এবং যারা নিয়মিত ছাত্র তারাই নতুন কমিটিতে স্থান পাবে। ক্লিন ইমেজের কর্মীরাই নেতৃত্বে আসবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ মার্চ ২০১৭/আশরাফুল/সাইফ

Walton Laptop