ঢাকা, শনিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৪, ২২ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বাজেটে জনগণ খুশি, বিএনপি অখুশি : কাদের

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-৩০ ৮:২২:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-০৭ ১১:৩৯:৫২ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাসে দেশবাসী খুশি হলেও বিএনপি অখুশি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাজেটে হাওয়া ভবনের মতো লুটপাটে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ সরকার এবং শেখ হাসিনা হাওয়া ভবন তৈরি করেনি। কাজেই যারা হাওয়া ভবন তৈরি করেছে, তারাই আজকে বাজেট নিয়ে হইচই করেছে। প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে জনমতের কথা ভেবে, বিভিন্ন মহলের পরামর্শ বিচার-বিশ্লেষণ করে, তিনি (শেখ হাসিনা) জনস্বার্থে বাজেটে সংশোধন এবং পরিবর্তন এনেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায়  সারাদেশে আনন্দধারা বহমান। দেশের মানুষ খুশি শুধু বিএনপিই হচ্ছে অখুশি এবং হতাশ।

তিনি আরো বলেন, তারা (বিএনপি) ভেবেছিল, ঈদের সময় রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা হবে। দেশে যানজট, জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি হবে। কিন্তু রাস্তায় কোনো যানজট ও জনদুর্ভোগ হয় নাই। তবে ধীর গতি ছিল। কিন্তু তারা যানজট নিয়ে চাতকের মতো চেয়েছিল, যাতে কোনোভাবে ঈদের পরে এই দুর্ভোগ থেকে আন্দোলনের একটা ফায়দা নিতে পারে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ থেকে তারা একটা ইস্যু খুঁজেছিল কিন্তু এখন সেই ইস্যু পায় নাই। তাই এখন দৃষ্টি দিয়েছে বাজেটে। কিন্তু বাজেট পাস হওয়ার পর সর্বস্তরের জনগণই খুশি। সাংবাদিকরাই বলেন বাজেট পাসের পর জনগণের প্রতিক্রিয়াটা কি? দেশের মানুষ খুশি শুধু বিএনপি হতাশ। কারণ ওই যে তারা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। তাই তারা এখন কোনো ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না। সেজন্যই তারা অখুশি।

গুলশানের হলি আর্টিজান ঘটনার এক বছরপূর্তি উপলক্ষে  এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যমত গড়ে তুলেছি। আমাদের দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সম্পৃক্ত করে আমাদের টেররিজমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কাজ করতে হবে। এটাই হবে টেররিজম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। সেটা এখনও চলছে।

সুইস ব্যাংকে অর্থপাচারের ঘটনা উল্লেখ করে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, অর্থপাচারের রেকর্ড বিএনপির। এই ট্র্যাক রেকর্ডে আওয়ামী লীগের কারো নাম নেই। এটা বাংলাদেশে এফবিআই এসে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে গেছে। এটা আদালতেই প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এই বিষয়টিতে আওয়ামী লীগের কারো নাম পাইনি। পেলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে আর প্রমাণিত হয় তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক, সাংগঠনিক সকল ধরনের ব্যবস্থা নেব। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ বিষয়ে কোনো আপোষ নেই। সরকার তদন্ত করে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, একেএম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সুজিত রায় নন্দী, আব্দুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস বিপ্লব বড়ুয়া, ডা. রোকেয়া, শামসুন্নাহার চাঁপা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুন ২০১৭/নৃপেন/সাইফ

Walton Laptop