ঢাকা, সোমবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রাখাইনে শান্তিরক্ষী বাহিনী চান বি. চৌধুরী  

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১১ ৬:৪২:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১১ ৬:৪২:২৯ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশকে নিরপেক্ষ এলাকা ঘোষণা করে সেখানে দ্রুত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

সোমবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শিশু, নারী, বৃদ্ধা হত্যাসহ অসংখ্য নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন এবং লাখ লাখ মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে। এই নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রাণভয়ে বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে। তাদের সমস্যার সমাধান করা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বিবেকবান দেশ ও মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।’

‘কিন্তু দুঃখের বিষয় বিশ্ববিবেক এখনো এই লাঞ্ছিত, দুর্গত মানুষগুলোর পক্ষে যেভাবে জেগে ওঠার কথা সেভাবে জেগে ওঠেনি।”

প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সাং সুচি মনে হয় তার বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন। না হলে তিনি কেমন করে বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সুচি বললেন, রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী এজন্যই সামরিক বাহিনীকে সুচি সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, পৃথিবীর কোনো দেশেই, কোনো জায়গাতেই একজন রোহিঙ্গা মুসলিম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর হাত থেকে রেহাই পওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলাম। ভারতও সারা পৃথিবীর সাহায্য গ্রহণ করেছে এবং পুরো নয় মাস আমাদের আশ্রয়, খাদ্য, ওষুধ দিয়েছে। অথচ আজকে আমরা হাজার হাজার ধর্ষিতা মা-বোনসহ মিয়ানমার বাহিনীর হাতে অমানবিকভাবে নির্যাতিত ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীন এবং রোগাক্রান্ত এই মানুষগুলোকে আশ্রয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ভারত যা পেরেছিল, আমরা তা কেন পারব না।’

বি. চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতিসংঘ থেকে প্রতিবাদের ভাষা শোনা যাচ্ছে, সামান্য সাহায্যের অভাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্ত মুসলিম বিশ্বসহ সারা বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা অনেক বেশি সাহায্য-সহযোগিতা আশা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের রক্ষার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জাতিসংঘ দ্রুত নির্যাতিত মানুষগুলোর জান-মাল, ইজ্জত রক্ষার জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ এবং রাখাইন প্রদেশকে নিরপেক্ষ এলাকা ঘোষণা করবে।’   



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/রেজা/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel