ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নাটোরে গড়ে উঠছে শজনে গ্রাম

এমএম আরিফুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-৩০ ১:০৯:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-৩০ ১:০৯:৪৮ পিএম

নাটোর প্রতিনিধি : পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণের কারণে শজনের আবাদ বেড়েছে নাটোরে। জেলার ১৬৪টি কৃষি ব্লকের প্রত্যেকটিতে গড়ে তোলা হয়েছে শজনে গ্রাম। বৃদ্ধি পাচ্ছে শজনে গাছের সংখ্যা ও এর উৎপাদন। প্রচলিত কাটিং পদ্ধতি ছাড়াও চারা রোপণের মাধ্যমে শজনে চাষের পরিধি বেড়েছে।

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে শজনের কাটিং রোপণ করা হয়। বসতবাড়ি, রাস্তার ধারসহ যে কোন স্থানের মাটিতে ৩ মিটার দূরত্বে কাটিং রোপন করা যায়। রোপনকালে গোবর সার এবং দ্রুত শিকড় গজানোর জন্য সামান্য ফরফরাস সার ও ছাই ব্যবহার করা উত্তম।

সাম্প্রতিক সময়ে পি কে এম জাতের বীজ থেকে শজনের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ৩ বছর মেয়াদী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বারোমাসি শজনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনায় দেশের ৪০টি হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ৩০ লাখ চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারে উৎপাদিত চারা নাটোর ছাড়াও সিরাজগঞ্জ কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন বলে জানিয়েছেন নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি।

তিনি বলেন, চারা শজনে গাছের উচ্চতা ১ মিটার হলে ডগা কেটে এর আকৃতি ঝোপালো করা হলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং শজনে সংগ্রহে সুবিধা হয়। এসব গাছে বারোমাসই ফলন পাওয়া যায়।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০৬ হেক্টর আবাদি এলাকা থেকে ৩ হাজার ৬৯৫ টন শজনে উৎপাদন হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১৭.৯৪ টন। বিগত বছরগুলোর চেয়ে উৎপাদন এলাকা, ফলন ও একক উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বিগত বছরে ১৫৮ হেক্টর থেকে ২ হাজার ৫৬৮ টন হিসেবে একক প্রতি উৎপাদন ছিল ১৬.২৫ টন। তার আগের বছর ১২৮ হেক্টরে ১ হাজার ৯২০ টন মোট উৎপাদন অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ১৫ টন শজনে উৎপাদন হয়েছিল।

গত বছর প্রচলিত পদ্ধতিতে শজনের চাষাবাদ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে কাটিং রোপন ছাড়াও চারাগাছ রোপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে নাটোরের কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জেলার ১৬৪টি কৃষি ব্লকে ১৬৪টি গ্রাম নির্বাচন করে ২৩ হাজার ১০৮ জন কৃষকের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৮৭২টি শজনের কাটিং ও চারা রোপন করেন। গড়ে তোলা হয় শজনে গ্রাম।

এসব শজনে গ্রামে শজনে গাছের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। বসতবাড়ি ছাড়াও রাস্তার দুধারে শজনের গাছ চোখে পড়ে। নাটোর সদর উপজেলার রুয়েরভাগ এলাকার কৃষক মজিবর রহমান তার বসতবাড়ি ছাড়াও বাড়ি সংলগ্ন রুয়েরভাগ-বালিয়াডাঙ্গা সড়কের দুধারে প্রায় ১০০টি শজনের কাটিং ও চারা গত মৌসুমে রোপণ করেন।

চন্দ্রকোলা কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, একটি গাছ থেকে দুই মণ শজনে সংগ্রহ করা সম্ভব। শজনে চাষ বৃদ্ধি পাওয়াতে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংগতিও বেড়েছে।

বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, মহিষভাঙ্গা গ্রাম শজনের আবাদে শীর্ষে। এই গ্রামের সাহাবুদ্দিন পাঠানের বাড়ির আঙ্গিনা জুড়ে ৫০ শজনের গাছ। তিনি এবার বাড়িতে খেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের বিতরণ করার পরও অন্তত ২৫ মণ শজনে বিক্রি করেছেন।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার নবীন কৃষ্ণপুর ও কুড়িপাড়ার সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ছাড়াও আশ্রয়ন  প্রকল্পগুলোতে শজনের চারা রোপনের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ বলেন, এবার উপজেলার ২৩টি ব্লকে বিদ্যমান শজনে গ্রামের পাশাপাশি নতুন শজনে গ্রাম তৈরি করা হবে। চারা ও কাটিং রোপণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্লক কর্মকর্তা ছাড়াও কৃষি কলেজসমূহের ইন্টার্নিরা কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ চলতি মৌসুমে চারা ও কাটিং মিলিয়ে মোট ২৫ হাজার শজনে গাছ রোপণ করবে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাটোরে শজনের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশঃ বাড়ছে। কাটিং ছাড়াও চারা রোপণের মাধ্যমে অধিক সুফল প্রাপ্তির চেষ্টা চলছে।’



রাইজিংবিডি/নাটোর/৩০ এপ্রিল ২০১৭/এমএম আরিফুল ইসলাম/টিপু

Walton Laptop