ঢাকা, শনিবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

একটি খামার যার ত্রিমুখী আয়ের উৎস

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৮ ১২:১৬:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৭ ৪:০১:৩১ পিএম
খামারের পুকুরে মাছ হাতে শিক্ষক ইয়াকুত আলী

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজ বাড়ির পাশে ৯ একর জমিতে মৎস্য খামার গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাহুবলের মিরপুর গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক ইয়াকুত আলী।

তার এ খামারে রয়েছে ১২টি পুকুর। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন এই শিক্ষক।আবার পুকুর পাড়ে নানা সবজির চাষও করেছেন। মাছ ও সবজি বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে  খামারের ঘাসে  গরু পালন করেও ভাল আয় হচ্ছে তার। এভাবে একটি খামারকে ঘিরে ত্রিমুখী আয়ের উৎস গড়ে তুলেছেন এই শিক্ষক। যা দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন।

শিক্ষক ইয়াকুত আলী জানান, মূলত মৎস্য খামার গড়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা রয়েছে স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের। তিনি মাছ চাষে মৎস্য বিভাগেরও পরামর্শ নিয়েছেন বলে জানালেন।

ইয়াকুত আলী বলেন, ‘মৎস্য খামার করার পর একে একে সবজি  ও গরু পালনের উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়েছি। শুধু তাই নয়, গরুর গোবর ব্যবহার করে বাড়িতে বায়োগ্যাস চুলাও ব্যবহার করছি ।’

তিনি বলেন, ‘বাহুবলে ইমপ্যাক্ট প্রকল্প (ফেজ-২) এর আওতায় বায়োগ্যাস প্রকল্পটি নিয়ে এসেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কেয়া চৌধুরী। উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ উপজেলার অর্ধশতাধিক কৃষক বাড়িতে বায়োগ্যাস প্লান্টের সুফল ভোগ করছে।’

মৎস্য খামার সম্পর্কে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মাছ চাষ লাভজনক। তবে এতে জমি, টাকা ও নিজের শ্রম প্রয়োজন। খামারের প্রতি সতর্ক নজর রাখতে হবে। নিতে হবে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞদের পরামর্শ।’

শিক্ষক ইয়াকুত আলীর সাফল্য দেখে মাছচাষে  অনুপ্রাণিত হয়েছেন এলাকার অনেক বেকার যুবক।তিনি এসব যুবকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক যুবকই সাফল্যের মুখ দেখেছেন ।

নজরুল ইসলাম, আওলাদ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, খলিলুর রহমান- মৎস্যচাষে সফল এসব যুবকের বক্তব্য, ‘ইয়াকুত আলী শিক্ষকতার পাশাপাশি মাছ চাষ করছেন, আমরা কেন বেকার বসে থাকব। তার পরামর্শ নিয়ে নিজ নিজ জমিতে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছি। মাছ চাষ করে সফল হচ্ছি। আমাদের মতো অন্য যুবকরাও মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। সফল মাছ চাষের জন্য ইয়াকুত আলী পর পর দুইবার উপজেলায় সেরা পুরস্কার পেয়েছেন। হয়তোবা মনোযোগে সঙ্গে লেগে থাকলে আমরাও তার মতো পুরস্কৃত হবো।’

উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হোসেন শাহ বলেন, ‘প্রভাষক ইয়াকুত আলী কঠোর পরিশ্রমী।  নিজ বাড়িতে মৎস্য খামার গড়ে সফল। খামারকে ঘিরে ত্রিমুখী আয়ের উৎস গড়ে তুলেছেন।বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়েছেন। তার বাড়িতে রয়েছে প্রায় সব ধরণের ফলের গাছ।  বলা যায় এটি একটি আদর্শ বাড়ি।’

জেলা  যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  মোঃ ফখর উদ্দিন ফিরোজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহ মোঃ এনামুর রহমান- তারাও ইয়াকুত আলীর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরাও তার পাশে আছি।’



রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/৮ আগস্ট ২০১৭/মামুন চৌধুরী/টিপু

Walton
 
   
Marcel