ঢাকা, সোমবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৪, ২৪ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

লজ্জায় লাল হয়ে যাই যে কারণে

মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৩ ৮:১২:৩৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৩ ২:০৫:০৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল : কাউকে আপনি ভুল নামে ডাকলেন অথবা অসতর্কতায় হাতের গ্লাস পড়ল রেস্টুরেন্টের মেঝেতে- এ ধরনের পরিস্থিতিতে যখন আপনি মনোযোগ দিচ্ছেন পরবর্তীতে এমন যেন না হয়, তখন দেখা যায় আপনার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যায়।

কিন্তু কেন আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে লজ্জায় লাল হয়ে যাই? তবে শুধু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে নয়, ইতিবাচক দিক যেমন কোনো ব্যাপারে নিজের প্রশংসাসূচক কথা শুনলেও দেখা যায়, লজ্জা পেয়ে মুখ লাল হয়ে যায়।

রক্তিমবর্ণ ফেনোমেনন হচ্ছে মানুষের সম্পূর্ণরুপে অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য এবং এখানো এটি কিছুটা রহস্যজনক হয়ে আছে বিজ্ঞানীদের কাছে।

গাল রক্তিমবর্ণ (ব্লুস) হয়ে যায় কেন?
এটি সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের কারণে হয়। যখন আপনি বিশেষ ধরনের মানসিক চাপের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হোন যেমন বেখেয়ালে কারো কফির কাফ ফেলে বিব্রত হওয়া অথবা কোনো আকর্ষণীয় ব্যক্তির চোখে চোখ রেখে রোমাঞ্চিত হওয়া-তখন আপনার শরীর থেকে অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ হয়। এর ফলে রক্তনালী প্রসারিত হওয়ায় অক্সিজেন এবং রক্তসঞ্চালন শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে দ্রুততর হয়। এ সময় আপনার মুখমণ্ডলীয় শিরাও প্রসারিত হয় বলে বেশি রক্তের প্রবাহে লাল দেখায় আপনার মুখমন্ডল।

 



কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় সহজেই লজ্জায় লাল হয়ে যায় আবার কিছু মানুষ এর ভয়ে ভীত থাকে, যাকে বলা হয় এরিথ্রোফোবিয়া।

মানুষ কেন লজ্জায় রক্তিমাভাব হয়?
চার্লস ডারউইন বলেছেন, ‘রক্তিমাভাব মানুষের খুব অদ্ভুত অবস্থা এবং প্রত্যেক ব্যক্তিরই এমন অভিজ্ঞতা আছে।’ এবং এটাই সত্য। বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না, মানুষের কেন এমন হয়। তবে এ ব্যাপারে কিছু মজার তত্ত্ব রয়েছে।

রে ক্রোজিয়ার, কার্ডিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের সাম্মানিক অধ্যাপক এবং ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য ব্লুস’ ও ‘ব্লুসিং অ্যান্ড দ্য সোশ্যাল ইমোশন্স’ সহ অসংখ্য বই ও প্রবন্ধের লেখক, তিনি বলেন, লজ্জায় গাল লাল হয়ে যাওয়া হচ্ছে অমৌখক ক্ষমাপ্রার্থনার সংক্ষিপ্ত রূপ, যা সামাজিকতা প্রকাশ করে।

সুতরাং আপনি যদি কোনো সাধারণ নিয়ম ভেঙে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির করেন, তাহলে আপনার লাল হয়ে গাল নির্দেশ করে যে, আপনি আপনার ভুল স্বীকার করেছেন।

 



এটা এড়িয়ে চলার কোনো পথ আছে কি?

গাল লাল হয়ে যাওয়াটা (ব্লুস) এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম বা সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র অনৈচ্ছিক হয়, তাই এটাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আপনার নেই। এমনকি আপনি কান্নাকাটি করে যতই চেষ্টা করুন না কেন, স্বেচ্ছায় গালে লজ্জার লাল আভা আনতে পারবেন না।

তবে লজ্জায় লাল হওয়ার সত্যটি তত্ত্বগতভাবে এড়ানো যেতে পারে এভাবে : আপনি যদি এর জন্য চেষ্টা করেন তবে তা নির্ভরযোগ্য হবে না। এজন্য বেস্ট সেলার বই “ম্যান’স সার্চ ফর মিনিং” এর লেখক ও মনোবিজ্ঞানী ভিকটর ফ্রাংকি এই উপায়ের নাম দিয়েছেন প্যারাডক্সিক্যাল ইনটেনশন। অর্থাৎ এটাকে চিহ্নিত এবং দূর করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে একটি নিউরোটিক অভ্যাস চর্চা করা।

তবে এখনো এটি বলার চাইতে করা কঠিন। বরঞ্চ সহজে যেটা করতে পারেন তা হচ্ছে, মুখ রক্তিমাভাব হলে সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকবার গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করুন। তাহলেই অল্প সময়ের মধ্যে আপনার মুখমণ্ডলের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। কেননা আপনার নিজস্ব বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে খুব বেশি বিব্রতবোধ করাটা আপনার সবকিছু খারাপ করে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র : ইনসাইডার



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ মার্চ ২০১৭/রুবেল/ফিরোজ

Walton Laptop