ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

যেসব তথ্য ডাক্তারের কাছে গোপন নয়

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২৪ ১১:২০:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৪ ১২:৫৪:০৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

শাহিদুল ইসলাম : শরীরের যেকোনো সমস্যা হলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়।

তবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে অনেক রোগীই কিছু তথ্য জানাতে কিছুটা দ্বিধাবোধ কিংবা অপ্রয়োজনীয় করেন। কিন্তু আপনার লুকিয়ে যাওয়া ওই তথ্যগুলোই হয়তো আপনার অসুখ খুঁজে বের করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নিন তেমনই কিছু বিষয় সম্পর্কে যেগুলো কখনই লুকানো উচিত না ডাক্তারের কাছে।

পূর্ববর্তী অপারেশনের কথা
অপারেশন কথাটি শুনে মনে যতই আতঙ্ক, ভয় কিংবা উদ্বেগ কাজ করুক না কেন জীবনের প্রয়োজনে আপনাকে কোনো না কোনো দিন অপারেশনের ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হতেই পারে। হতে পারে সেটা শরীরের কোনো গোপন অঙ্গের অপারেশন। ডাক্তারের কাছে কখনো তথ্য লুকাবেন না। প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডেভিড সেফার্ড বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে আপনার অতীত সম্পর্কে সৎ থাকুন যা আপনার ভবিষ্যতের জটিলতা অনেকখানি কমিয়ে দেবে।’

সঠিক বয়স
প্রতিটি মানুষ যখন জীবনের মধ্যবয়সি সীমা অতিক্রম করে যায় তখন তার মধ্যে বয়স লুকানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু রোগ নির্ণয়ে রোগীর সঠিক বয়স জানা অতি জরুরি। কারণ একেক বয়সে একেক রোগের প্রাধান্য যেমন বেশি তেমনি রোগের নিরাময়ের পদ্ধতিও এক ধরনের হয় না। তাই কখনো ডাক্তারের কাছে নিজের বয়স লুকাবেন না। ডাক্তার সেফার্ড বলেন, ‘অনেক রোগীর প্রকৃত বয়স সাতান্ন কিন্তু তারা বলেন উনপঞ্চাশ। আমি তাদের এই প্রবণতা দেখে অবাক হই।’

খাদ্যাভাস

আপনি কেমন ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করেন তা ডাক্তারের কাছে না লুকিয়ে সরাসরি বলুন। কারণ সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর খাদ্যাভাস জানাটা অতীব জরুরি। এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কের ইন্টারগেটিভ ডাক্তার তানিয়া ডিম্পসে বলেন, পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা জেনেছি প্রচুর রোগী আছেন যারা শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে এই ভয়ে কি পরিমাণ খায় বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খায় এটা বলতে দ্বিধাবোধ করে।’

ওষুধ খাওয়ার পরিমাণ

দিনে কি পরিমাণ ওষুধ আপনি খান কিংবা শেষ কবে ওষুধ খেয়েছেন বা আপনার জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা তা ডাক্তারকে জানাতে ভুলবেন না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জসুয়া জেকনার বলেন, ‘আপনি যদি ডাক্তারের কাছে সত্যবাদী না হন তাহলে ডাক্তার আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দেবেন কি করে?’

ধূমপানের অভ্যাস

ধূমপায়ী ব্যক্তির কাছে ডাক্তার জিজ্ঞেস করলে অধিকাংশ সময়ে বলে থাকে- ‘না, আমি মাঝে মধ্যে ধূমপান করি।’ তবে বাস্তবে দেখা যায় ওই ব্যক্তি প্যাকেটের পর প্যাকেট সিগারেট একদিনে শেষ করে। রোগীর ধূমপানের অভ্যাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য রোগ নিরাময়ের জন্য জরুরি। প্লাস্টিক সার্জন অ্যান্ড্রু জে মিলার বলেন, ‘রোগীরা যে সমস্ত বিষয় ডাক্তারের কাছে লুকায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধূমপানের অভ্যাস। কিন্তু নিকোটিন রোগ নিরাময়ের পথে তীব্র বাধার সৃষ্টি করে। তাই ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ডাক্তারকে সঠিক তথ্য দিন। এতে করে আপনার রোগ নিরাময়ের পথ সহজ হবে।’

বাড়তি খাবার

অনেকেই শরীরের বৃদ্ধি বা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বাড়তি ভিটামিন, বাড়তি খাবার বা ভেষজ গ্রহণ করেন। এসব খাবার গ্রহণ মোটেও অযৌক্তিক নয়। তবে বিপত্তিটা বাধে যখন এই বিষয়গুলো আপনি আপনার ডাক্তারের কাছে এড়িয়ে যান। ডাক্তার ডিম্পসে বলেন, কিছু কিছু সময় রোগী তার বাড়তি খাবার গ্রহণের কথা ডাক্তারের কাছে এড়িয়ে যান। তারা মনে করেন ডাক্তার তাদের তিরস্কার করতে পারে। তবে এই ধারণা ভুল। বরং এগুলো জানা থাকলে ডাক্তারের চিকিৎসা করতে সুবিধা হয়।

মাদক দ্রব্য নেওয়ার অভ্যাস

চারদিকে বাড়ছে মাদকের আনাগোনা, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে  বাড়ছে মাদকদ্রব্য সেবনকারীর সংখ্যা। তবে অধিকাংশ মাদকসেবী তাদের এই অভ্যাসের কথা ডাক্তারকে জানাতে চান না। ডাক্তার ডিম্পসে বলেন, ‘রোগীরা তাদের চিকিৎসা প্রতিবেদনে মাদক সেবনের অভ্যাসটা অর্ন্তভূক্ত করতে চান না। বিশেষ করে যাদের ইন্স্যুরেন্স আছে তাদের এই ব্যাপারে ঘোর আপত্তি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মাদক সেবন সম্পর্কে ডাক্তারের কাছে সঠিক তথ্য না থাকলে তিনি কিভাবে রোগীর জন্য সঠিক ব্যবস্থাপত্র দিবেন।’ প্রচুর মাদকদ্রব্য রয়েছে যা ওষুধের সঠিক কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে।

গর্ভপাত

অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান নিতে না চাইলে অনেকেই গর্ভপাত করিয়ে ফেলেন। কিন্তু গর্ভপাত এমন একটি বিষয় যা লোকলজ্জার ভয়ে কেউই সমাজকে এমনিকি তার ডাক্তারকেও জানাতে চান না। এই বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ জেন ফ্রেডরিক বলেন, ‘গর্ভপাতের কারণে নানান রকমের গাইনি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সমস্যাগুলো নিরাসন করে পরবর্তী সময়ে গর্ভধারণ করতে চাইলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে এ বিষয়ে খোলামেলা ভাবে জানাতে হবে।’

মানসিক স্বাস্থ্য

মানসিক ভাবে সুস্থ না থাকলে তা সরাসরি ডাক্তারকে বলুন। কারণ আপনার মানসিক সুস্থতা শারীরিক সুস্থতার জন্য জরুরি। ডাক্তার মাইকেল আলফার বলেন, ‘কোনো সমস্যা নয় আপনি যেমন বোধ করেন তা ডাক্তারকে বলুন। কারণ আপনার খোলাখুলি মন্তব্য আপনার সঠিক চিকিৎসায় সাহায্য করবে।’

যৌন জীবনের ইতিহাস

জীবনে কতজনের সঙ্গে শয্যাসঙ্গী হয়েছেন বা শেষ কবে সঙ্গম করেছেন কিংবা আপনি অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবনযাপন করেন কিনা বা আপনি কোনো ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত কিনা-এই বিষয়গুলো কখনো ডাক্তারের কাছে লুকাবেন না। ডাক্তার জিমি এম কপম্যান বলেন, ‘যদিও এগুলো মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত কথা তবে সঠিক চিকিৎসার জন্য এগুলো জানা জরুরি। কারণ এগুলো জেনে একজন ডাক্তার তার রোগীকে সঠিক যৌন জীবনের পরামর্শ দিতে পারেন।’

শেষ কবে ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন

দীর্ঘদিন আগে হলেও শেষ কবে ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন সেটা বর্তমান ডাক্তারকে খুলে বলুন। ডাক্তার কপম্যান বলেন, ‘শেষ কবে ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন, কোন ধরনের চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন, কি কি পরীক্ষা করিয়েছেন বা করাননি সব কিছু সবিস্তারে ডাক্তারকে বলুন। কারণ এই বিষয়গুলো পরিপূর্ণ ভালো চিকিৎসা পেতে সাহায্য করে।’

আপনি নার্ভাস কিনা

যদি আপনার ইয়াট্রোফোবিয়া অর্থাৎ ডাক্তারের কাছে যাবার ভীতি থেকে থাকে তাহলে আপনি অসুস্থ হলে নার্ভাস হবেন এটাই স্বাভাবিক। দন্ত চিকিৎসাবিদ ন্যান্সি ই গিল বলেন, ‘যে বিষয়গুলোতে ভয় পান সেগুলো ডাক্তারকে খুলে বলুন। তাহলে সহজে ডাক্তার আপনার ভয়গুলো দূর করতে সাহায্য করতে পারবে।’

মদ্যপানের অভ্যাস

সপ্তাহে কি পরিমাণ মদ পান করেন এবং সেটা আপনার অভ্যাস কিনা তা ডাক্তারকে জানাতে হবে। বিশেষ করে আপনার যখন কোনো বড় ধরনের অপারেশন করা হবে তখন এই তথ্য ডাক্তারকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। কারণ যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে তাদের অপারেশনের সময় প্রচুর রক্তপাত হতে দেখা যায়। নিউরোসার্জন ডেভিড পোলাড বলেন, ‘একজন মানুষের মদ্যপানের সঠিক পরিমাণ জানা থাকলে একজন চিকিৎসকের তার চিকিৎসা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।’

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ জুন ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop