ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কোরবানিতে কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার উপায়

ডা. সজল আশফাক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-০৪ ২:০৪:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-০৪ ৬:২০:৩৪ পিএম

ডা. সজল আশফাক: কোরবানি মানেই রেডমিট বা লাল মাংসের সম্ভার। গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট কিংবা দুম্বার মাংসকে বলা হয় লাল মাংস। এই সব লাল মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণ খারাপ জাতের চর্বি। এই খারাপ জাতের চর্বিকে বলা হয় লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বা এলডিএল। এটি হৃদপিণ্ডের শত্রু। হৃদপিণ্ডের আরেক শত্রু কোলেস্টেরল। এ কারণেই কোরবানির ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে।

বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা জেনে নেয়া প্রয়োজন। কারণ কোলেস্টেরল নীরবে আপনার হৃদপিণ্ডের রক্তনালী সরু করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ মিগ্রা/ ডিএল থাকলেই সেটাকে নিরাপদ বলে মনে করেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ মিগ্রা/ ডিএল বা তার নিচে হলে তাকে নিরাপদ মাত্রা বলা যায়। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০-এর বেশি হলেই ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মতো হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্ত প্রবাহের পথ সংকীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্থ হতে থাকে। এভাবে রক্তনালী বিশেষ করে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ার ঘটনা হৃদপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট এ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সুতরাং কোলেস্টেরল কমাতে হলে রান্নার কাজে ঘি, বাটার অয়েলের ব্যবহার না করে সূর্যমুখি বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। মিষ্টান্ন তৈরির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ননীতোলা দুধ। ডিমের তৈরি যে কোনো খাবার থেকে কুসুম বাদ দেয়া যেতে পারে। কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সালাদ উত্তম ভূমিকা রাখতে পারে। প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখতে হবে। সালাদ এবং শাকসবজি খাবারের চর্বি শরীরে শোষিত হতে বাধা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন ১০ গ্রামের মত দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরোলের পরিমান ৫-১০ শতাংশ কমতে পারে।

চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে খারাপজাতের কোলেস্টেরল এলডিএল-এর মাত্রা কমে। অন্যদিকে ব্যায়াম করলে ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়ে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ১ মি.গ্রা. এলডিএল-এ যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, একই পরিমাণ এইচডিএল-এ তার চেয়ে তিনগুণ উপকার হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন অন্তত ২ মাইল হাঁটা উচিত।

লক্ষ্য করলে দেখবেন পশুর হার্ট আ্যাটাক কম হয়। কারণ পশুর স্বল্পদৈর্ঘের খাদ্যনালি এমনভাবে ডিজাইন করা যা শাকসবজি হজমের জন্যই বেশি উপযোগী। যার ফলে পশুর শরীরে শোষিত কোলেস্টেরলের প্রায় পুরোটাই ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএল। কিন্তু মানুষের পরিপাকতন্ত্র সে তুলনায় অনেক দীর্ঘ বলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএল বেশি শোষিত হয়। কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পশুচর্বি বর্জন করতে হবে। এতে রক্তে খারাপজাতের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যাবে। পাশাপাশি যদি শাকসবজি খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া যায় সে ক্ষেত্রে শাক সবজির এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালীর ভিতরের দেয়ালে খারাপজাতের কোলেস্টেরল এলডিএল-এর আঠালোভাবে লেগে থাকার প্রবনতা হ্রাস করবে।

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭/তারা

Walton Laptop