ঢাকা, বুধবার, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২০ ১০:০৯:১৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২১ ১:৩৬:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : এইডস হচ্ছে, এইচআইভি ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগ যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।

এইডস এবং এইচআইভি সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য আছে যা সম্পর্কে হয়তো আমরা জানি না। এইডস এবং এইচআইভি সম্পর্কে ১৩টি তথ্য নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* সম্প্রতি উদঘাটিত এইচআইভি প্রতিরোধ করা যেতে পারে

সম্প্রতি উদঘাটিত এইচআইভি প্রতিরোধ করা যেতে পারে- এটি শুনতে অলৌকিক বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার ককটেল আছে যা কোনো ব্যক্তির মধ্যে এইচআইভি আবিষ্কারের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেবন করলে ও সেবন অব্যাহত রাখলে এইচআইভি অর্জনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। ডা. ম্যালভেসটুট্টো বলেন, ‘এ ধরনের মেডিক্যাল এইচআইভি প্রতিরোধকে পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বলে এবং সম্পূর্ণ কার্যকারিতার জন্য অবশ্যই ২৮ দিন সেবন করতে হবে। এই চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে, তত বেশি কার্যকর হবে।’

* এইচআইভি নিয়ে বাস করা লোকদের স্বাভাবিক জীবনকাল থাকতে পারে

বর্তমানে একজন ২০ বছর বয়স্ক এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির জীবনকাল প্রত্যাশা এইচআইভি মাইনাস ব্যক্তির মতো প্রায় অনুরূপ। ডা. ব্লুম ব্যাখ্যা করেন, ‘এর কারণ হচ্ছে, বর্তমানের ওষুধগুলো এতই কার্যকরী যে তারা ভাইরাস কমিয়ে এমন নিম্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে যে, যা পরিমাপ করা কঠিন হতে পারে।’ একে বিলো কোয়ান্টিফাইয়্যাবল লিমিট (বিকিউএল) বা গণনার অযোগ্য মাত্রা বলে। ডা. ব্লুম বলেন, ‘এরকম নিম্ন মাত্রায় এইচআইভি ভাইরাস ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে না। ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।’

* এইচআইভি সংক্রমিত লোকদের অগণিত রোগের ঝুঁকি থাকে

ন্যাচার রিভিউ কার্ডিওলজি জার্নালে প্রকাশিত ২০১৪ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, ‘দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং ইমিউন তৎপরতা বা সক্রিয়তাসহ অনেক বিষয়ের সমন্বয়ের কারণে এইচআইভি নিয়ে বাস করা লোকদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি এইচআইভি না থাকা লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ।’ যদিও এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও ইমিউন তৎপরতা কমাতে সক্রিয় অনুসন্ধান চলছে। ডা. ম্যালভেসটুট্টো উল্লেখ করেন, ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা দিয়ে ভাইরাসের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত গবেষকদের এমন কোনো স্বতন্ত্র চিকিৎসা নেই যা দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও ইমিউন তৎপরতা হ্রাস করা যাবে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু প্রতিষ্ঠিত কার্ডিওভাস্কুলার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ, যেমন- ধূমপান, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও স্থূলতা, নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তাই এইচআইভি সংক্রমিত লোকদের কার্ডিওভাস্কুলার ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনা ডেভেলপ করতে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘অনেক উপাত্ত দেখাচ্ছে যে, এইচআইভি কেবলমাত্র এইডস-সম্পর্কিত অপকারিতার (যেমন- নন-হজকিন’স লিম্ফোমা, কাপোসি সারকোমা, সার্ভিক্যাল ক্যানসার) ঝুঁকি বৃদ্ধি করে না, অন্য ধরনের অপকারিতার (যেমন- ফুসফুস ক্যানসার) ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। তাই বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত ক্যানসার স্ক্রিনিং করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ পরিহার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

* বর্তমানে এইডসের ওষুধ ভালো কাজ করে, কিন্তু রেজিস্ট্যান্স সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে

ডা. ব্লুম উল্লেখ করেন যে, সময়ের স্রোতে সকল ভাইরাস অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রতি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রকৃত সংজ্ঞা হচ্ছে এমন ওষুধ যা ভাইরাসে ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট মিউটেশন শুরু করে। ডা. ব্লুম বলেন, ‘ওষুধের সমন্বয় ব্যবহার করে রেজিস্ট্যান্টকে বিলম্বিত করা যায়, যা বিভিন্ন মেকানিজম নিয়ে ভাইরাসকে আক্রমণ করে।’ তিনি যোগ করেন, ‘রেজিস্ট্যান্টকে অতিক্রম করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করা যাকে পুরোনো অকার্যকর ওষুধের বদলে ব্যবহার করা যাবে।’

* এইচআইভি পজিটিভ থেকে এইচআইভি পজেটিভ অঙ্গ প্রতিস্থাপন হচ্ছে একটি বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে অর্গান (অঙ্গ) ডোনারের তীব্র ঘাটতিতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এমনকি আপনার স্বাস্থ্যের ক্লিন বিল থাকলেও এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি। এইচআইভি পজিটিভ গ্রাহকদের অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের (যেমন- লিভার বা কিডনি) প্রয়োজনে এইচআইভি বিহীন গ্রাহকদের তুলনায় কম অগ্রাধিকার পায়। এই অভাব পূরণের জন্য ‘হোপ অ্যাক্ট এইচআইভি পজিটিভ অর্গান’ এইচআইভি পজিটিভ গ্রাহকদের মধ্যে প্রতিস্থাপন করার নীতিতে স্বাক্ষর করে এবং এটি এইচআইভির জন্য চিকিৎসা স্বাস্থ্যবিধির সফলতা। জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সিনিয়র সহযোগী আমেশ এ. অ্যাডালজা বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যায় যে, এটি সুবিধাজনক ও কার্যকর।’

* কিছু এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি এইচআইভি ওষুধ বিলম্বিত, হ্রাস বা বন্ধ করে

এনওয়াইইউ মেয়ার্স কলেজ অব নার্সিংয়ের সেন্টার ফর ড্রাগ ইউজ অ্যান্ড এইচআইভি/এইচসিভি রিসার্চের সিনিয়র গবেষণা বিজ্ঞানী মারিয়া গোয়াডজ উল্লেখ করেন, এইচআইভি ওষুধ বিলম্বিত করা, কমিয়ে ফেলা কিংবা বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা আফ্রিকান-আমেরিকান অথবা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক নিম্ন আয়ের এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি প্রচলিত। তার মতে, এটি বোঝা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে এবং এটি রোগী ও সেবাদাতাদের মধ্যে নৈরাশা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কারো এইচআইভি ওষুধ কমিয়ে ফেলা বা থামিয়ে দেওয়ার কারণ জটিল এবং আমরা গবেষণায় এর কিছু নিদর্শন দেখি। কিছু লোক জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে এইচআইভি ওষুধ বন্ধ করে দেয়, উদাহরণস্বরূপ- তারা তাদের বাসস্থান হারাতে পারে, তাদের কোনো বন্ধু মারা যেতে পারে অথবা কোনো দ্রব্য বা পদার্থ ব্যবহার জনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।’ কিছু লোকের এইচআইভি থাকার কারণে গভীর মানসিক সমস্যা এবং এ সত্যকে মেনে নিতে না পারার কারণে এইচআইভি ওষুধ বিলম্বিত বা বিঘ্নিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, মেডিক্যাল সিস্টেম এবং ওষুধে আস্থাহীনতাও এইচআইভি ওষুধ বিলম্বিত বা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ভূমিকা পালন করে।

* ৯০-৯০-৯০ লক্ষ্যার্জনে আমরা এইচআইভি মহামারী থামাতে পারি

ডা. ম্যালভেসটুট্টো বলেন, ‘পরিসংখ্যানসংক্রান্ত মডেলের উপাত্ত দেখাচ্ছে যে, যদি আমরা এইচআইভি নিয়ে বাস করা সকল লোকের মধ্যে ৯০ শতাংশের রোগ নির্ণয় করতে পারি, যদি এইচআইভি নির্ণীত এইসব লোকের ৯০ শতাংশকে অ্যান্ট্রিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার আওতায় আনতে পারি এবং যদি চিকিৎসার আওতাধীনে থাকা এসব লোকের ৯০ শতাংশের মধ্যে ভাইরাল সাপ্রেশন সম্পূর্ণরূপে অর্জন করতে সক্ষম হই, তাহলে এইচআইভি মহামারী থেমে যাবে।’ এই লক্ষ্য অর্জন করতে দ্য জয়েন্ট ইউনাইটেড নেশনস প্রোগ্রাম অন এইচআইভি অ্যান্ড এইডস (ইউএনএইডস) ২০২০ সালের মধ্যে ৯০-৯০-৯০ লক্ষ্যমাত্রাকে বৈশ্বিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ডা. ম্যাভেসটুট্টো উল্লেখ করেন, ‘যদিও ২০২০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা সবখানে অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কিছু দেশ ইতোমধ্যে তা অর্জন করেছে যেখানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশও আছে।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য (প্রথম পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton