ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যশোরে বন্দী স্বজনহারা চার বাক প্রতিবন্ধী

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২০ ১:১৯:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২০ ১:১৯:৫৫ পিএম
যশোরে বন্দী স্বজনহারা চার বাক প্রতিবন্ধী
Voice Control HD Smart LED

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দী চার বাক প্রতিবন্ধী। মিলছে না তাদের স্বজনদের সন্ধান । মিলছে না পরিবারের ঠিকানা। তাই স্বজনদের কাছেও হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

লালমনিরহাট থেকে আসা রুবেল (১১)। সে শুধু পিতার নাম মকেল উদ্দিন লিখতে পারে। সে নাচ, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায় পারদর্শী। কথা বলতে পারে না। গোপালগঞ্জ থেকে আসা ছেলে শিশুটিও (১৫) বাকপ্রতিবন্ধী। মুখে আওয়াজ করলেও কথা স্পষ্ট নয়। তবে কুচকাওয়াজে সে পারদর্শী। আকাশে বিমান কিংবা হেলিকপ্টার উড়তে দেখলে সালাম দিয়ে সম্মান জানায়। মাগুরা থেকে আসা নাঈম (১৫)কেন্দ্রে আসার পর তার নামকরণ হয়েছে। সেটি আসল নাম নয়। অল্প কথা বলতে পারে। কিন্তু তার কথা স্পষ্ট নয়। পরিবারের ঠিকানও বলতে পারে না। নওগাঁ থেকে আসা ছেলে শিশুটি (১২) ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠে কথা বলতে পারে।পরিবারের ঠিকানা তার জানা নেই।

দেশের চারটি জেলা থেকে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। দুই শতাধিক বন্দীর সঙ্গে তাদের রাখা হয়েছে। কোন অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও শুধু স্বজনের সন্ধানের অভাবেই তারা বন্দী জীবনযাপন করছে।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছেন এই চার বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে। কেন্দ্রের সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুসফিকুর রহমান বলেন, ‘বাকপ্রতিন্ধী শিশুরা অন্য শিশুদের সঙ্গে থাকায় মানসিকভাবে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাদেরকে পরিবারের কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে রাখলে মানসিকভাবে সুরক্ষা পাবে। তবে পরিবার হল সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। শিশুদের পরিবারে ফেরাতে পারলে তারা আরও নিরাপদ হতো।’

ওই কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এই চার শিশুকে আদালতের মাধ্যমে সহজেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর সম্ভব। কিন্তু স্বজনদের নাম পরিচয় না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। পরিবারের লোকজনের সন্ধান পেলে তাদের হাতে তুলে দেবো। যোগাযোগ করলে আইনী প্রক্রিয়ায় তাদেরকে পরিবারে ফিরিয়ে দিতে পারবো।’

যশোরের পুলেরহাটে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রটির (বালক) অবস্থান। কেন্দ্রটিতে এখন চার বিভাগের ৩৭টি জেলার দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন মামলা, অজ্ঞাত উদ্ধার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম এই চার বাকপ্রতিবন্ধী।

যশোরের আইনজীবী সালেহা বেগম বলেন, ‘পরিবারের সন্ধান পেলে তাদেরকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আইনী সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারের সন্ধানে মিডিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন।’



রাইজিংবিডি/যশোর/২০ জানুয়ারি ২০১৮/বিএম ফারুক/টিপু

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge