ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

৯ রোগে বেশি মৃত্যু

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৭ ৬:৪১:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১৭ ৬:৪৫:৩৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : আপনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাণনাশক রোগের তালিকায় কিছু রোগ দেখে বিস্মিত হতে পারেন। আপনি হয়তো ধারণাও করেননি যে এসব রোগ এত মারাত্মক হতে পারে। এ প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী ৯টি রোগ নিয়ে আলোচনা করা।

* করোনারি আর্টারি ডিজিজ
ইশেমিক হার্ট ডিজিজকে করোনারি আর্টারি বা হার্ট ডিজিজও বলে এবং এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে। ২০১৬ সালে হৃদরোগ ও স্ট্রোক জনিত মৃত্যু ছিল ১৫.২ মিলিয়ন। অস্ট্রেলিয়ার কার্ডিওথোরাসিক সার্জন নিকি স্ট্যাম্প বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান বিস্ময়কর নয়, কারণ হার্টের মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ঝুঁকিতে থাকলে মৃত্যু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, হৃদরোগের অনেক প্রতিরোধযোগ্য বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে, ৯০ শতাংশ লোকের হৃদরোগের অন্তত একটি রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে পুরুষ ও নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে হৃদরোগ। লোকজন তাদের ঝুঁকি কমাতে সর্বোত্তম উপায় হিসেবে শরীরচর্চা, ভালো খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান ত্যাগ করতে পারেন।’

* স্ট্রোক
স্ট্রোকে কোনো মানুষের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে। রক্ত সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা স্ট্রোক সৃষ্টি করে। কায়সার পারমানেন্তের বোর্ড-সার্টিফায়েড ইমার্জেন্সি মেডিসিন ফিজিশিয়ান কিয়াহ কনোলি বলেন, ‘মস্তিষ্কে ক্লট বা রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক ঘটে।’ স্ট্রোক প্রায়ক্ষেত্রে ব্রেইন স্টেমের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটায় এবং শ্বাসকার্যের ক্ষমতাকে আক্রান্ত করে। যে ব্যক্তি স্ট্রোক নিয়ে জীবনযাপন করেন, তার হাইপারটেনশন ও ইনফেকশনের মতো স্বাস্থ্য দশার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। যাদের স্ট্রোক হয় তাদের প্যারালাইসিস, কথা বলতে সমস্যা এবং অন্যান্য ঘাটতি দেখা দেয় যা তাদের সুস্থ থাকাকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। চলাফেরা করতে না পারা এবং নিজের সেবাযত্ন নিজে ভালোভাবে নিতে না পারার ফলে একজন স্ট্রোকের রোগী জীবিত লাশে পরিণত হয়।

* সিওপিডি
বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ- এটি হচ্ছে এম্ফিসেমা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও রিফ্রেক্টরি অ্যাজমার মতো প্রগ্রেসিভ ফুসফুস রোগের সম্মিলিত অবস্থা। সিওপিডির কমন উপসর্গের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বুকে হুইজিং (হুইসেলের মতো শব্দ) এবং ঘনঘন কাশি উল্লেখযোগ্য।

* লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন
বোর্ড-সার্টিফায়েড ইনফেকশাস-ডিজিজ ফিজিশিয়ান আমেশ অ্যাডালজার মতে, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন হচ্ছে কিছু কন্ডিশনের একটি রেঞ্জ। এই টার্মটি সাধারণত নিউমোনিয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন মাইক্রো-অর্গানিজম এবং ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল প্রজাতির দ্বারা নিউমোনিয়া হয়ে থাকে।’ কিছু চিকিৎসকরা একে ‘দ্য ওল্ড ম্যান’স ফ্রেন্ড (বয়স্কদের বন্ধু)’ বলেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে বয়স্কদের দ্রুত মৃত্যু ঘটায় বলে বিবেচিত। এটি হচ্ছে সর্বাধিক মারাত্মক সংক্রামক রোগ এবং এটি ২০১৬ সালে সারাবিশ্বে ৩ মিলিয়ন মৃত্যু ঘটায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে।

* অ্যালজেইমার’স ডিজিজ ও অন্যান্য ডিমেনশিয়া
যদিও এই প্রগ্রেসিভ রোগটি সবসময় মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ হয় না, কিন্তু অ্যালজেইমার’স অন্যান্য ফ্যাক্টরকে প্রভাবিত করে মানুষের আয়ু কমাতে পারে অথবা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই রোগটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে। অ্যালজেইমার’স অগ্রসর হতে থাকলে রোগীদের পক্ষে মোটর স্কিল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যেমন- গেলা ও হাঁটা, অ্যালজেইমার’স অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে। বিশেষ করে গেলা সমস্যা অ্যালজেইমার’স রোগীদের অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য রেসপিরেটরি ইনফেকশনের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে, হেলথলাইন ডটকম অনুসারে।

* রেসপিরেটরি ক্যানসার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, শ্বাসনালী, ব্রঙ্কাস ও ফুসফুস ক্যানসার ২০১৬ সালে ১.৭ মিলিয়ন মৃত্যু ঘটায়। এটি এই সংস্থার তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে আছে। মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ফুসফুস ক্যানসারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এই ক্যানসারের সঙ্গে ধূমপায়ীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও অধূমপায়ীরাও ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকে। অধিকাংশ রেসপিরেটরি ক্যানসারের একই উপসর্গ থাকে, যেমন- কাশি, বুকে হুইসেলের মতো শব্দ ও শ্বাসকষ্ট।

* ডায়াবেটিস
২০১৬ সালে ডায়াবেটিস জনিত মৃত্যুর অবস্থান ছিল সপ্তম। ডায়াবেটিসের একটি মারাত্মক জটিলতা হচ্ছে ডায়াবেটিস কেটোঅ্যাসিডোসিস, ডা. কনোলি উল্লেখ করেন। ডায়াবেটিস কেটোঅ্যাসিডোসিসের ক্ষেত্রে শরীর কিছু রক্ত অ্যাসিড অত্যধিক মাত্রায় উৎপাদন করে এবং শরীর শর্করাতে এতই মগ্ন থাকে যে এটি অন্যান্য উপায়ে প্রভাব ফেলে। ডা. কনোলি বলেন, ‘যখন শরীর অত্যধিক অ্যাসিডোটিক হবে, আপনি অত্যধিক ডিহাইড্রেটেড হবেন এবং মস্তিষ্কে ফোলা সৃষ্টির মাধ্যমে ডায়াবেটিস মৃত্যু ঘটাতে পারে। যদিও এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ঘটে, কিন্তু তীব্র পর্যায়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীরা আরো অনেক জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে, যেমন- ইনফেকশন এবং স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের মতো রোগ।’

* ডায়ারিয়াল ডিজিজ
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, ডায়রিয়া শরীরে তীব্র ডিহাইড্রেটিং সৃষ্টি করে মৃত্যু ঘটায়। শিশুদের ডায়ারিয়াল রোগের সর্বাধিক কমন কারণ হচ্ছে রোটাভাইরাস। রোটাইভাইরাস জনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫ বছর বয়সী শিশুদের ৪০ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। এই রোগের ভ্যাকসিন থাকলেও উন্নয়নশীল দেশে মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে রোটাভাইরাস, সিডিসির প্রতিবেদন অনুসারে।

* যক্ষা
ডা. অ্যাডালজা বলেন, ‘এই ব্যাকটেরিয়াল রোগটি সাধারণত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে, কিন্তু এটি শরীরের অন্যান্য অংশকেও আক্রান্ত করতে পারে, যেমন- মস্তিষ্ক, ত্বক ও পেট। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নিউমোনিয়া অধিক কমন হলেও স্বল্প আয়ের দেশে যক্ষা বেশি কমন।’ এটির চিকিৎসা করা কঠিন, বিশেষ করে এসব দরিদ্র দেশে, যে কারণে এসব দেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ যক্ষা।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC