ঢাকা, বুধবার, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শরীরের যে অংশ অপরিষ্কার রাখা উচিৎ

মোহাম্মদ আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৯ ১০:৩৫:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০১ ২:০৮:১৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

মোহাম্মদ আসিফ : শরীরের কিছু অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত নয়। বরং কম পরিষ্কার করাটাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

* কান : কানের ভেতরের খইল আমরা `কানের ময়লা' হিসেবে মনে করলেও সেগুলো আসলে কোনো ময়লা না! খইল আমাদের কান ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করে বাইরে নিয়ে আসে। নিউ ইয়র্কের ল্যাঙ্গুন মেডিকেল সেন্টারের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. এরিক ভয়েগটের মতে, ‘কানের খইল পরিষ্কার করার ফলে কান ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর আক্রমণের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘কানের ভেতরে কটনবাড ব্যবহার করা হলে তা খইলকে আরো ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে পারে, ফলে সেটি আর তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারে না। খইল প্রতিনিয়ত উৎপন্ন হতে থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরো গভীরে যেতে পারে, মোটা হতে পারে এবং আরো ঘন আকার ধারণ করতে পারে।’

কানের ভেতর কাঠি, আঙুল এবং অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। যদি একান্তই সমস্যা মনে হয় তাহলে খইল আপনার কানের বাইরের অংশে পৌঁছানোর সময় দিন এবং এরপর পরিষ্কার করুন।

* ত্বকের মৃত কোষ : নিউ ইয়র্কের খ্যাতনামা প্লাস্টিক সার্জারি এবং ত্বক বিশেষজ্ঞ জোডি লেভিন বলেন, ‘আপনি প্রতিদিন অন্তত দুইবার আপনার মুখমণ্ডল ধুতে পারেন, কিন্তু আপনার প্রতিদিনের রুটিনে ডিপ ক্লিনিং স্ক্রাবিং থাকাটা উচিত নয়।’ ডা. লেভিন আরো বলেন, ‘ত্বকের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। বারবার যদি স্ক্রাবিং করা হয় বা ত্বকের মৃত কোষ ওঠানো হয় তাহলে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রভাব বিষাক্ত কিংবা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহারের সমানুপাতিক, যার ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক কার্যক্রম সাধনে ব্যর্থ হবে।’

তিনি সপ্তাহে দুইবার ডিপ ক্লিনিংয়ের পরামর্শ দেন। এতে করে ত্বকের মৃতকোষ পরিষ্কার হবে এবং ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারবে।

* নাভি : গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইন্টার্নিস্ট এবং কিপ হার অসাম ডটকমের স্বাস্থ্য পরামর্শক রোশিনি রাজ বলেন, ‘আপনার শরীর প্রকৃতিগতভাবে যকৃত, কিডনি ও কোলনের মাধ্যমে বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণের কাজ করে।’ ডা. রোশিনি আরো বলেন, ‘আপনার নাভির ভেতরে যে ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করে সেগুলো আপনার শরীরের জন্য ভালো। তাই প্রতিনিয়ত নাভি পরিষ্কার করা এই কার্যকরী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয় এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।’

* চুল : প্রতিবার গোসলের সময় চুলে শ্যাম্পু করার কথা অনেকেই বলে থাকেন। কিন্তু প্রতিদিন চুল পরিষ্কার করার ফলে চুলের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে চুল উজ্জ্বলতা হারায়। নিউ ইয়র্কের খ্যাতনামা চুল বিশেষজ্ঞ এলে কিন বলেন, ‘আপনার চুল যদি অস্বাভাবিক ধরনের তৈলাক্ত না হয় তাহলে আপনার উচিত সপ্তাহে কম করে হলে দুই বার এবং বেশি হলে পাঁচ বার চুল ধোয়া। তাই বলে প্রতিদিন নয়। এটি আপনার মাথা বেশি পরিষ্কার করবে না বা আপনার চুল দ্রুত বাড়তে সাহায্য করবে না। এছাড়া অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। যা অনেক সময় চুল ঝরে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

* নাক : সর্দির কবলে পড়লে কারো সাধ্য নেই আপনাকে নাক পরিষ্কার করা থেকে থামাবে। তবে নাক এভাবে বারবার ঝেড়ে স্বর্ণের সন্ধানের মতো সন্ধান করা বন্ধ রাখলে সেটা আপনার নাকের জন্যই মঙ্গলজনক। ডা. ভয়েগট বলেন, ‘এছাড়া যখন আপনি নাক পরিষ্কারের জন্য নাকের ভেতরে আঙুল ঢুকান তখন সেটা নাকের ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। এই ক্ষত থেকে অল্প অল্প রক্ত বের হয় যা ক্ষতিকর জীবাণুর খাদ্যের উৎস।’ যখন আপনার নাক পরিষ্কার করার দরকার হবে তখন নাক জোরে না ঝেড়ে বরং টিস্যু দিয়ে নাসারন্ধ্র বা নাকের পাশ পরিষ্কার করুন।

* গোপনাঙ্গ : আপনার নারী অঙ্গে অদ্ভুত কোনো গন্ধ থাকা মানে এই নয় যে, আপনি দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং এ কারণে আপনাকে তা নিয়মিত ধুতে হবে। বরং যৌনাঙ্গ পরিষ্কারের কারণে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে। ডা. রোশিনি বলেন, এক ধরনের ইনফেকশন যেমন ভেজাইনোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের অস্বাভাবিক গন্ধ উৎপাদনের কারণ। এই গন্ধ দূর করতে সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করা হলে সেটা গোপনাঙ্গের পিএইচ লেভেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না, ফলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে।’

যৌনাঙ্গ তার নিজের পরিচর্যা নিজেই করতে পারে। তাই গোসলের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে চলুন। ডা. রোশিনির মতে, ‘পরিষ্কার পানি আপনার যোনিদ্বার পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ঠ। কিন্তু তারপরেও যদি আপনি সাবান ব্যবহার করতে চান তাহলে মৃদু এবং সুগন্ধিবিহীন সাবান ব্যবহার করুন।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC