ঢাকা, শুক্রবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

হাসপাতালের যে ১০ জিনিস স্পর্শ করবেন না

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৮ ৮:১০:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-২৮ ৮:১৫:৫৭ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : হাসপাতাল যে জীবাণুযুক্ত স্থান এটা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই আপনি হাসপাতালের কোন জিনিস স্পর্শ করছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যদি আপনি হাসপাতালের এই ১০ জিনিস স্পর্শ করেন, তাহলে হাত ধোয়া নিশ্চিত করুন।

* বেডের পর্দা


জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যেকোনো পৃষ্ঠে লেগে থাকার জন্য স্পাইডারম্যানের মতো সুপারপাওয়ার রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য জীবাণুর। যেহেতু হাসপাতালের রুমের ভেতরে ও বাইরে প্রতিনিয়ত রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে, তাই ঘনঘন ব্যবহৃত জিনিসে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু জমা হয়। একটি বিস্ময়কর জীবাণুযুক্ত জিনিস হচ্ছে, রোগীর বেডের পাশে ঝুলানো প্রাইভেসি কার্টেন বা পর্দা, আমেরিকান জার্নাল অব ইনফেকশন কন্ট্রোলে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে। গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, পরিস্কার পর্দা লাগানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে ৯০ শতাংশ পর্দায় বিপজ্জনক অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া (এমআরএসএ) বসতি গড়েছে।

* বেড রেল


গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু হাসপাতালের স্টেইনলেস স্টিল ও অন্যান্য শক্ত জিনিসের পৃষ্ঠে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। এমআরএসএ প্রায় বছরখানেক লেগে থাকতে পারে এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া (যেমন- ডায়রিয়া প্ররোচক ক্লস্ট্রিডিয়াম ডিফিসাইল) কয়েক মাস বেঁচে থাকতে পারে। রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়েই বেড রেলে হাত রাখে, এ কারণে সেখানে প্রচুর জীবাণু লেগে থাকে। আপনার হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময়ে বেড রেল পরিষ্কার করার সম্ভাবনা নেই, তাই বেড রেল স্পর্শ করবেন না অথবা আপনার পরিবারের কাউকে বেড রেল প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে বলুন- কারণ, এসব জিনিস সবসময় পুনরায় দূষিত হতে পারে।

* ওভার-দ্য-বেড কার্ট


এই ছোট রোলিং কার্টে আপনি হাসপাতাল বেডে অবস্থানকালীন সময়ে খাবারের ট্রে ও পানির গ্লাস রাখেন, কিন্তু গবেষকরা এই কার্টকে ‘হাই-টাচ’ অবজেক্ট বলছে। এর মানে হচ্ছে এই কার্টে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু রয়েছে। তাই ওভার-দ্য-বেড কার্ট স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

* স্যালাইন স্ট্যান্ড


এই ধাতব স্ট্যান্ডে নার্সরা আইভি ব্যাগ (স্যালাইন ব্যাগ) ঝুলিয়ে রাখে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, এই স্যালাইন স্ট্যান্ড হচ্ছে এমআরএসএ এবং অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট এন্টারোকক্কি ব্যাকটেরিয়ার (ভিআরই) আবাসস্থল, জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির ২০১২ সালের একটি গবেষণা অনুসারে। অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া অথবা সুপারবাগ দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকশনের চিকিৎসা করা কঠিন এবং এ ধরনের ইনফেকশন অত্যধিক বিপজ্জনক, কারণ কমন ওষুধ তাদেরকে হত্যা করতে পারে না। হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে ইনফেকশন এড়াতে উন্নত হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, কারণ সার্জারির পর অথবা অত্যধিক অসুস্থতায় হাত ধোয়া সম্ভব হয় না। হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহার করা সহজ এবং খুব কার্যকর।

* লিফটের বাটন


চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত লিফট ব্যবহার করে এবং তাদের হাতের যেকোনো জীবাণু (এসব জীবাণু রোগী, স্যালাইন স্ট্যান্ড, বেড রেল অথবা অন্যান্য স্থান থেকে তাদের হাতে আসে) লিফটের বাটনে ট্রান্সফার হতে পারে। গবেষকরা ৪৮টি লিফটের বাটন নিয়ে গবেষণা করেন- তারা আবিষ্কার করেন যে এক-তৃতীয়াংশ লিফটের বাটন এমআরএসএ দ্বারা দূষিত ছিল। লিফটের বাটনে প্রাপ্ত অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ই. কোলাই (ডায়রিয়া সৃষ্টি করে) এবং অ্যাসিনেব্যাক্টার (নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিস সৃষ্টি করে) অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষকদের মতে, হাসপাতালের একটি অবহেলিত স্থান হলো লিফটের বাটন, যা প্রায়ক্ষেত্রে পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করা হয় না এবং এখানে ব্যাকটেরিয়া বসতি গড়ে। হাসপাতালের লিফটের বাটন স্পর্শ করার পর হাতকে জীবাণুমুক্ত করুন অথবা বাটন চাপতে টিস্যু ব্যবহার করে টিস্যুটি ফেলে দিন।

* চেয়ারের হাতল

যখন আপনার পরিবার বা বন্ধু বা আত্মীয় আপনাকে দেখতে আসে তখন তাদেরকে বলুন যে তারা যেন বসার পূর্বে চেয়ারের হাতল জীবাণুমুক্ত করে বসে। গবেষকরা হাসপাতালের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি গবেষণা করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট এন্টারোকক্কি ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন। এসব ব্যাকটেরিয়া চিকিৎসা করা কঠিন এমন ইনফেকশন অথবা মূত্রনালীর ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে।

* টেলিফোন
সাধারণত হাসপাতালের টেলিফোন যতবার পরিষ্কার করা উচিত ততবার পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া এসব টেলিফোন প্রায়সময় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যবহার করে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল নামক জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে, অধিকাংশ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ফোন ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত ছিল। আপনার হাসপাতাল রুমের ফোনকে জীবাণুমু্ক্ত করুন অথবা প্রতিবার ফোন ব্যবহারের পর হাতকে জীবাণুমুক্ত করুন।

* পানির কল
হাসপাতালের বাথরুমের শক্ত পৃষ্ঠ মলের ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু দ্বারা ঘনঘন দূষিত হয়, যেমন- বাথরুমের পানির কলের ওপর প্রচুর জীবাণু থাকে। শুধু বাথরুম নয়, হাসপাতাল রুমের যেকোনো পানির কলের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জীবাণু থাকে। পানির কলের হাতল হচ্ছে একটি ‘হাই-টাচ’ অবজেক্ট যা রোগ-সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে। আপনি হাত ধোয়ার পর পানির কল বন্ধ করতে পেপার টাওয়েল ব্যবহার করতে পারেন অথবা হাত ধোয়ার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

* দরজার হাতল
স্বাস্থ্যকর্মী, দর্শনার্থী ও রোগীরা হাসপাতাল ওয়ার্ডের এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার জন্য দরজার হাতল স্পর্শ করে। গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, হাসপাতালের ৩০ শতাংশ দরজার হাতল এমআরএসএ দ্বারা দূষিত হতে পারে। যেকোনো হাসপাতাল রুমের দরজার হাতল স্পর্শ করার পর আপনার হাতকে জীবাণুমুক্ত করুন।

* নার্সের ব্যবহৃত যেকোনো জিনিস
ঘনঘন বিভিন্ন লোকের সংস্পর্শে আসে এমন জিনিসে ব্যাকটেরিয়া বসতি গড়ে। যথাসম্ভব সাপ্লাই কার্ট, টাচ-স্ক্রিন ইকুইপমেন্ট, কিবোর্ড এবং স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা ব্যবহৃত অন্যান্য যেকোনো বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময়ে নিয়মিত হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ অক্টোবর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC