ঢাকা, বুধবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২১ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সুস্থ ও ব্রণমুক্ত ত্বকের জন্য সেরা ভিটামিন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৫ ৮:০০:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৫ ৮:০৪:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : ব্রণ বিকশিত হওয়ার জন্য কোনো একক কারণ না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা একমত যে, কিছু ভিটামিনের অভাব ব্রণ বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে আপনার ত্বককে সুস্থ ও ব্রণমুক্ত রাখবে এমন কিছু ভিটামিন, মিনারেল ও হার্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

ব্রণের কারণ শনাক্তকরণ
ব্রণ ওঠা অব্যাহত রয়েছে? এসব ব্রণ না ফেটে বরং তারা কেন উদয় হয়েছে তার কারণ খুঁজে বের করুন। হ্যাঁ, তেল ও মৃত ত্বক কোষের কারণে ত্বকের ছোট গর্ত বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ হয়, কিন্তু চিরতরে ব্রণ দূর করার জন্য আপনার ব্রণ বিকাশের অন্তর্নিহিত কারণ (যেমন- হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা, অ্যালার্জি ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেম) শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার হয়তো কিছু পুষ্টির অভাবে ব্রণ হয়েছে- এক্ষেত্রে উপযুক্ত পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে আপনার ব্রণ দূর করা সম্ভব। ত্বক বিশেষজ্ঞরা তাদের রোগীদের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে পরামর্শ দেন।

ন্যাচারোলজির চিকিৎসক এবং হলিস্টিক হেলথ কনসালট্যান্ট জুলিয়া স্কেলাইজ বলেন, ‘ব্যক্তি, স্বাস্থ্য অবস্থা, ওষুধ অথবা অন্যান্য অসুস্থতার ওপর ভিত্তি করে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে।’ এ কারণে ব্রণের সঠিক কারণ জানতে এবং আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট সঠিক ডোজে গ্রহণ করতে অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

* ভিটামিন এ
ভিটামিন এ আপনার ত্বকের জন্য অবিশ্বাস্যরকম উপকারী। ভিটামিন এ শুধু সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে না, এটি সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে ফাইট করতেও সাহায্য করে- এমনকি এটি বয়স্কতার লক্ষণ প্রকাশ ধীর করতে পারে। এ কারণে ত্বককে প্রাণবন্ত, তারুণ্যদীপ্ত ও ব্রণমুক্ত রাখতে ত্বক বিশেষজ্ঞরা রেটিনল (ভিটামিন এ) প্রেসক্রাইব করেন। কিছু গবেষণায় রেটিনল ব্যবহারে ব্রণ-সম্পর্কিত ত্বকের কন্ডিশন উপশমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব গবেষণা সাজেস্ট করছে যে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার না করে টপিক্যালি (লোশন বা ক্রিম হিসেবে) ব্যবহার করাই সর্বোত্তম (বিশেষ করে যদি আপনার ব্রণ থাকে), কারণ ১০,০০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিটের অধিক ডোজ গ্রহণে হাইপারভিটামিনোসিস নামক কন্ডিশন বিকশিত হতে পারে।

* ভিটামিন সি
ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) কোলাজেন সিন্থেসিস অথবা কোলাজেন সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোলাজেন হচ্ছে একটি প্রোটিন যা আমাদের শরীরের প্রায় সকল অংশেই পাওয়া যায়, প্রধানত মাংসপেশী, হাড়, রক্তনালী, পরিপাকতন্ত্র ও ত্বকে। মানুষ বয়স্ক হলে কোলাজেন হ্রাস পায়, এ কারণে ত্বক ঝুলে পড়ে ও ত্বকের টানটান ভাব কমে যায়। সম্প্রতি অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে ভিটামিন সি-কে ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভিটাব্রিড সি১২’র গ্লোবাল বিজনেস ম্যানেজার রন চয় বলেন, ‘ভিটামিন সি-তে শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী গুণ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন ত্বকের রোগে নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। যখন ভিটামিন সি সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করা হয়, এটি কোলাজেন সিন্থেসিস বৃদ্ধি করে, মেলানিন উৎপাদন বন্ধ করে এবং ফ্রি র‍্যাডিকেল দূর করে- এভাবে এটি ব্রণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক পুনরুদ্ধার করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।’

* বি ভিটামিন
ডা. স্কেলাইজ বলেন, ‘বি ভিটামিন, বিশেষ করে বি২ (রিভোফ্ল্যাভিন), বি৩ (নিয়াচিন) এবং বি৬ (পাইরিডক্সিন), শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং এই ভিটামিন সৌন্দর্যের জন্যও ব্যবহার করা যায়।’ বি ভিটামিন এনজাইম সক্রিয়করণে সাহায্য করে, কিন্তু এটি শরীরের বহুবিধ কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে, যেমন- হরমোন উৎপাদন ও হরমোনের ভারসাম্য। ত্বকের ক্ষেত্রে বি ভিটামিন ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শুষ্কতা ও আঁশ দূর করতে সাহায্য করে, এ কারণে অনেক টপিক্যাল ময়েশ্চারাইজারে বি ভিটামিন পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও বি ভিটামিন গ্রহণ করতে পারেন।

* জিঙ্ক
ওরালি কিংবা টপিক্যালি (সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কিংবা লোশন হিসেবে) যেভাবেই জিঙ্ক ব্যবহার করেন না কেন, এই পুষ্টি ব্রণের প্রদাহ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস করতে পারে। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ব্রণ দূর করতে জিংক সমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করেছেন এমন নারী ও এই লোশন ব্যবহার করেননি এমন নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায় যে, যারা এই লোশন ব্যবহার করেছেন তাদের ত্বক যারা এই লোশন ব্যবহার করেননি তাদের তুলনায় অধিক পরিষ্কার হয়েছে। ৩০ মিলিগ্রামের বেশি ডোজ বিষাক্ত হতে পারে, তাই সঠিক পরিমাণে জিংক গ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি জিংক গ্রহণের পরও আপনার ব্রণের কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তাহলে আপনার ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।

* ভিটামিন ই
পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও, যার মানে হচ্ছে এটি শরীরে ফ্যাটকে অক্সিডাইজ হওয়া থেকে বিরত রাখে। আপনার ত্বকের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিবামের (সিবাম হচ্ছে এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ যা হোয়াইটহেড অথবা ব্ল্যাকহেড ফাটলে বের হয়) অক্সিডেশন মুখমণ্ডলে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায় এবং ব্রণ সৃষ্টি করে। ভিটামিন ই এই ব্যাকটেরিয়া ছড়ানো প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের ওপর ভিটামিন এ’র সঠিক কার্যক্রম নিশ্চিত করে। ভিটামিন ই হচ্ছে স্কিন-কেয়ার প্রোডাক্টের একটি জনপ্রিয় উপাদান। কিছু সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবারে ভিটামিন ই পাওয়া যায়, যেমন- কাজুবাদাম, অ্যাভোক্যাডো, টমেটো, সূর্যমুখী বীজ ও পালংশাক।

* ভিটামিন ডি
এই পুষ্টিটি শুধুমাত্র হাড়কে মজবুত রাখে না, এটি ত্বকের স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিকাংশ লোকই সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই ভিটামিন পেয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হন না, তারা ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগতে পারেন। পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব লোকের ব্রণ ছিল তাদের অধিকাংশের ভিটামিন ডি ঘাটতিও ছিল। ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণগুলো জেনে রাখুন এবং যদি আপনার এই ভিটামিনের অভাব থাকে, তাহলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

* সেলেনিয়াম
এই পুষ্টিটি হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে, কিন্তু একটি কম জ্ঞাত বিষয় হচ্ছে: সেলেনিয়ামের ব্রণ দূর করার ক্ষমতাও রয়েছে। অ্যাক্টা ডার্মাটো-ভেনেরিওলজিকা নামক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যেসব লোকের ব্রণের তীব্র দশা ছিল তাদের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সেলেনিয়ামের ঘাটতি ছিল। আপনার ত্বককে ব্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন, যেমন- ব্রাজিল নাট, ইয়েলোফিন টুনা, হ্যালিবাট, সার্ডিন এবং গরুর মাংস। অথবা সেলেনিয়াম সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন
* ত্বকের রোগ যখন অন্য রোগেরও লক্ষণ
* ত্বকের ক্যানসারের ৫ নীরব লক্ষণ
* শরীরের এসব স্থানেও স্কিন ক্যানসার হতে পারে (প্রথম পর্ব)
* শরীরের এসব স্থানেও স্কিন ক্যানসার হতে পারে (শেষ পর্ব)
* স্ট্রেস যেভাবে ত্বক অধিকতর খারাপ করে





রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ নভেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC