ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বাস্থ্য লক্ষ্য : জানুয়ারি থেকে জুন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-০১ ৫:০৩:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-০১ ৫:০৩:৪৪ পিএম

এস এম গল্প ইকবাল : এক মাসেই সকল স্বাস্থ্য প্রতিজ্ঞা পূরণ করা খুবই কঠিন, এমনকি তা অসম্ভবও হতে পারে। যদি আপনি ছোট ছোট পদক্ষেপ অনুযায়ী বছরের শুরু থেকে শেষের দিকে যান, তাহলে সকল স্বাস্থ্য লক্ষ্য পূরণ হতে পারে।

বছরের ১২ মাসের জন্য আপনি ১২টি স্বাস্থ্য প্রতিজ্ঞা করতে পারেন। এক মাসে একটি করে প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব বা কঠিন কোনো কাজ নয়। ২০১৯ সালের ১২ মাসের জন্য ১২টি স্বাস্থ্য লক্ষ্য নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

জানুয়ারি: র‌্যাকে পরিবর্তন আনুন
প্রতিদিন জিমে গিয়ে ব্যায়াম করলেই যে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে এমন কোনো কথা নেই। স্বাস্থ্যকে সঠিক ট্র্যাকে রাখতে হলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি আপনি কি খাচ্ছেন তাতেও মনোযোগ দিতে হবে। ঘরে খাবারের র‌্যাকে কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার না থাকলে খাবারটি খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। জানুয়ারি মাসে খাবারের র‌্যাকের নিচের তাক থেকে ওপরের তাক পর্যন্ত এমনভাবে পরিবর্তন আনুন যেন তা আপনাকে স্বাস্থ্য লক্ষ্যার্জনে সাহায্য করে। প্রক্রিয়াজাত লবণাক্ত ও চিনিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে (যেমন- পটেটো চিপস) তেমন প্রক্রিয়াজাত নয় এমন হোল ফুডস (যেমন- কাঁচা বাদাম, কুইনোয়া ও শুষ্ক ফল) র‌্যাকে রাখুন। যদি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এমন তৃপ্তিকর খাবার রাখতে চান, তাহলে একটি বা দুইটির বেশি আইটেম রাখবেন না এবং তা রাখুন ওপরের তাকে- যা সাধারণত ব্যবহার করেন না, ফলে কেনোকিছু খাওয়ার জন্য কাবার্ড খুললে প্রথমে এটি চোখে পড়বে না। প্রথমে আপনার চোখে পড়ে এমন তাকে বেশি করে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন।

ফেব্রুয়ারি : হার্টের যত্ন নিন
কায়সার পারমানেন্তের গবেষক জোসেফ ইয়াং বলেন, ‘কার্ডিও’র ওপর মনোযোগ দিয়ে হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য মাসকে উদযাপন করুন।’ আপনার জীবনীশক্তি ও দীর্ঘায়ুর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ অর্গানটির গুরুত্ব সর্বাধিক। হার্টের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে শক্তির মাত্রা ও সহনশীলতা বাড়াতে পারেন। ইয়াং বলেন, ‘নিয়মিত পরিমিত শারীরিক সক্রিয়তা অথবা দিনে ৩০ মিনিট হাঁটা (সপ্তাহে পাঁচদিন) রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, কারণ এক্সারসাইজ হার্টকে অধিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আপনি পছন্দ করেন এমন কোনো এক্সারসাইজ নির্বাচন করুন ও এতে অভ্যস্ত হোন।’

মার্চ: চোখের প্রতি মনোযোগ দিন
চোখে সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অধিকাংশই চোখ নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করে না। ডা. ভিভিয়েন হাউ বলেন, ‘চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ভীতিকর হলেও বেশিরভাগ লোকই চোখকে রক্ষার জন্য সর্বাধিক সাধারণ কাজগুলোও করে না। ইউভিএ/ইউভিবি প্রোটেকশনের সানগ্লাস পরে অথবা প্রশস্ত প্রান্তের হ্যাট পরে আপনার চোখকে রক্ষা করতে পারেন। ডা. হাউ বলেন, ‘সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি প্রদাহ, ছানি, টিউমার অথবা এমনকি ক্যানসার সৃষ্টি করে আপনার চোখকে ড্যামেজ করতে পারে।’

এপ্রিল: বেশি করে ফল ও শাকসবজি খান
এপ্রিল মাসে আপনার ডায়েটে বিশেষ মনোযোগ দিন। এ মাসে প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহের পরিবেশনে শ্বেতসারবিহীন শাকসবজি ও তাজা ফল রাখুন। এ ধরনের ফল ও শাকসবজিতে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও ফাইটোকেমিক্যাল থাকে। বেশি করে ফল ও শাকসবজি খেয়ে আপনার পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সঠিক ট্র্যাকে রাখুন।

মে : সপ্তাহে একদিন মাংস খাবেন না
চর্বিহীন মাংস আপনার জন্য ভালো, কিন্তু শুধু তখন যখন আপনার ডায়েটে সঠিক পরিমাণে ফল ও শাকসবজি থাকে- যা আপনাকে শরীরের প্রয়োজনে বাড়তি পুষ্টি ও আঁশ সরবরাহ করে। পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়ার জন্য মে মাসের পাঁচ শনিবারে বা অন্য কোনো বারে মাংস খাবেন না। অনেক লোক সুপারিশকৃত পরিমাণে ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করেন না- সপ্তাহে অন্তত একদিন মাংস ভোজন থেকে বিরত থাকা তাদেরকে উদ্ভিজ্জ খাবারের উপকারিতা পেতে সাহায্য করবে।

জুন: বেশি করে ঘরে রান্নাকৃত খাবার খান
কর্মক্ষেত্র, সন্তান ও নিজেকে সময় দেয়ার পাশাপাশি ঘরে খাবার প্রস্তুতের জন্যও সময় বের করুন, কারণ ঘরের খাবার বাইরের খাবারের তুলনায় অধিকতর স্বাস্থ্যকর। রেস্টুরেন্টের খাবার অথবা ফাস্ট ফুডে অধিক ক্যালরি, চর্বি, লবণ ও চিনি থাকে, ডায়েটিশিয়ান মায়া ফেলার বলেন। যেহেতু আপনি ব্যস্ত থাকেন, তাই পাঁচ থেকে সাতটি লাঞ্চ ও ব্রেকফাস্ট তৈরির তালিকা করুন- এটি আপনার কোমরের পরিধি কমাতে ও অর্থ বাঁচাতে সাহায্য করবে।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC