ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২২ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রতিদিন একই খাবারে যত বিপদ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৭ ৮:০৮:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ৯:১০:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে? তাহলে আজই খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনুন। খাদ্যতালিকা বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ হলে আপনি বিভিন্ন পুষ্টি পাবেন- যা আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন।

সবসময় একই ধরনের খাবার খেলে আপনি পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারেন এবং এমনকি কিছু খাবার প্রতিনিয়ত ভোজনে কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়ার কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনে নিন।

* পুষ্টি ঘাটতির কারণ হতে পারে
অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্সের মুখপাত্র ওয়েসলি ডেলব্রিজ বলেন, ‘আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ম্যাক্রো ও মাইক্রো পুষ্টি প্রয়োজন- বিভিন্ন ধরনের খাবার (বিশেষ করে ফল ও শাকসবজি) খেলে আমাদের শরীরের প্রয়োজন মিটতে পারে। ফল ও শাকসবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙের খাবার খান এবং ভুলে যাবেন না যে হিমায়িত শাকসবজিও তাজা শাকসবজির মতো স্বাস্থ্যকর ও দ্রুত নষ্ট হয় না।’ প্রায় সকল বিশেষজ্ঞ একমত হবে যে, বিচিত্র রঙের ফল ও শাকসবজি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো- এতে পুষ্টির ঘাটতিতে পড়ার সম্ভাবনা কম।

* অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়
বিভিন্ন ধরনের খাবার অন্ত্রের পরিবেশকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিকাশের জন্য উপযোগী করে তোলে, যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করতে পারে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে, বলেন ডেলব্রিজ। তিনি যোগ করেন, ‘দই ও কেফিরের মতো ফার্মেন্টেড খাবার প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার যোগান দেয়। ফল ও শাকসবজি ভোজন স্বাস্থ্যসম্মত অন্ত্রীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে ফাইবার ও প্রিবায়োটিক (প্রোবায়োটিকের জন্য খাবার) সরবরাহ করে।’

* ওজন হ্রাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে
পিএলওএস ওয়ানের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খেয়েছিল তারা যারা কম বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খেয়েছিল তাদের তুলনায় দ্রুত ওজন কমাতে পেরেছিল।

* আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, তদন্তকারীরা ৫০,০০০ এরও বেশি নারীর স্বাস্থ্য ট্র্যাক করেছেন এবং তারা পেয়েছেন যে, যারা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছিল তারা যারা দিনের পর দিন একই খাবার খেয়েছিল তাদের তুলনায় বেশি দিন বেঁচেছিল।

* খাবার বিরক্তির কারণ হয়
ডেলব্রিজ বলেন, ‘খাবার মজার হতে হবে! খাবার এমন হওয়া উচিৎ যার প্রতি আগ্রহ থাকবে। খাবারের পরিবর্তনে আপনি নতুন খাবার ও রেসিপির সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং খাবারের মজা অনুভব করতে পারবেন।’

* বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়
জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া দেখা গেছে, যারা বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খেয়েছিল তাদের মেটাবলিক ডিজিজ বা বিপাকীয় রোগের (অস্বাস্থ্যকর ফ্যাক্টরের সমষ্টি, যা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে) ঝুঁকি অনেক কম ছিল। যাদের খাদ্যতালিকায় ভালো বৈচিত্র্য ছিল তাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা, পেটের চর্বি এবং রক্তচাপ কম ছিল।

* পুষ্টির অন্যান্য উৎস থেকে দূরে রাখে
আমরা দেখি যে প্রচুর লোক কোনো একটি পুষ্টি বা খাবারের ওপর অত্যধিক মনোযোগ দেন, কারণ এটির বেশ সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে- যেমন: হলুদ, কাজুবাদাম, পাতাকপি, স্পিরুলিনা ইত্যাদি, বলেন পুষ্টিবিদ অসল্যান্ডার মরিনো। তিনি যোগ করেন, ‘সকল খাবারেই অনন্য পুষ্টিগুণ রয়েছে, তাই খাবারের সীমিত তালিকায় নিজেকে সীমাবদ্ধ করে ফেললে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবেন।’

* কিছু পুষ্টির ওভারডোজ হয়
যদি আপনি অত্যধিক পরিমাণে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খান, তাহলে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অত্যধিক হলুদ রক্ত জমাটবদ্ধতা সৃষ্টি ও লিভার কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে, বলেন অসল্যান্ডার মরিনো। আপনার শরীরে কিছু টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থও বেড়ে যেতে পারে। যদি আপনি প্রতিদিন মাছ খান, তাহলে মার্কারি টক্সিসিটি উদ্বেগের কারণ হবে, বিশেষ করে যদি আপনি মাছভোজী মাছ খান এবং খাটো হন- টক্সিসিটি হচ্ছে ওজন-সম্পর্কিত, বলেন অসল্যান্ডার মরিনো। আপনার খাদ্যতালিকায় যথাসম্ভব নিম্ন-মার্কারির মাছ রাখুন।

* ইমিউন সিস্টেমের জন্য ভালো নয়
বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা পুষ্টি ইমিউনিটি ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে। এটি ইনফেকশন প্রতিহত করতে সাহায্য করে; যেসব লোকের খাদ্যতালিকা কম বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল তাদের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল।

* শক্তির অভাব হয়
আমেরিকান জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত জার্নালে পাওয়া যায়, যেসব নারী একই খাবার খেয়েছিল তারা ওই খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল- যা তাদেরকে শক্তি ঘাটতির দিকে ঠেলে দেয়।

* খাওয়ার ব্যাধি বিকশিত হতে পারে
একই ধরনের খাবার খেতে খেতে অথবা কোনো খাবার এড়িয়ে চলতে চলতে আপনার ‘সিলেক্টিভ ইটিং ডিসঅর্ডার’ বা ‘অ্যাভয়ড্যান্ট-রেস্ট্রিক্টিভ ডিসঅর্ডার’ বিকশিত হতে পারে। কোনো খাবার প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যান করলে কিংবা কিছু খাবারের রঙ, আকৃতি বা গন্ধের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে এসব খাবার এড়িয়ে চললে এ ধরনের ভোজন ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন।

* ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে
লাঞ্চে প্রোটিনের জন্য প্রতিনিয়ত মাংস খাদ্যনালীর ক্যানসার ও অন্ত্রীয় ক্যানসারের ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বলেন অসল্যান্ডার মরিনো। তিনি যোগ করেন, ‘কিউরিং প্রসেসের খাবারে উপস্থিত নাইট্রেটের সঙ্গে এসব ক্যানসারের সংযোগ রয়েছে।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge