ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ফেসবুক নিয়ে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৪ ৯:০৫:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৫ ৩:৩৭:৪৫ পিএম

আহমদ নূর : বাংলাদেশের তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনেকাংশে দায়ী করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। এজন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি- গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান জানান, জঙ্গিরা নতুন সদস্য দলে নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহযোগিতা নেয় বেশি। এমনকি এখন যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, বেশিরভাগ সময়ে সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যম থেকে এর সূত্রপাত হয়। তাই আরো সচেতন হয়ে এসব মাধ্যম ব্যবহার করার প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।

ফেসবুকে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ায় একপ্রকার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে পুলিশ। তারা চাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদ ঠেকাতে। এজন্য ফেসবুকের কাছে কয়েকটি প্রস্তাবও দিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়া ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর পুলিশ প্রধান ও বিশ্বের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী চিফস অব পুলিশ কনফারেন্স। সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের প্রতিনিধিদলও ছিল।

ফেসবুকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে তারা ওই ফেসবুকের প্রতিনিধিদলকে কয়েকটি প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি নেওয়া, কোনো অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে সরকার বা পুলিশ কোনো তথ্য চাইলে তা দ্রুত সরবরাহ করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া।

বাংলাদেশ পুলিশের এসব প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ফেসবুকের প্রতিনিধিদল। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে তারা তাদের নীতিমালার বাইরে যেতে পারবে না বলে জানিয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের এক জরিপে বলা হয়েছে, যেসব তরুণ জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে তাদের ৮০ থেকে ৮২ শতাংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এদিকে ধাবিত হয়েছে। এদের সবাই স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের চেয়ে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের সংখ্যা বেশি। জঙ্গিদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীর হার ৫৬ শতাংশ, সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর হার মাত্র ২২ শতাংশ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫০ জন উগ্রবাদীদের ওপর চালানো জরিপ থেকে পুলিশ এ তথ্য পেয়েছে।

পুলিশ মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা রোধ করা পুলিশের কাছে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক মনে করেন, ফেসবুকে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে জঙ্গিবাদের উসকানি দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রপাগান্ডার পর সাম্প্রদায়িক হামলা হতে দেখেছি। তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ফেসবুকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের সাথে কোনো সমঝোতা চুক্তি করতে রাজি হননি। তবে যেকোনো বিষয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছে তারা। আমরা সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ মার্চ ২০১৭/নূর/রফিক

Walton
 
   
Marcel