ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জোটের ব্যানারে মাঠে নামছেন এরশাদ

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১২ ৩:১১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৩ ৪:৩৭:২২ পিএম

মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন : নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে মাঠে নামছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ‍হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচনী তৎপরতার অংশ হিসেবে তিনি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের সবকটি বিভাগে চষে বেড়াবেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি।

জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে এরশাদের তিন মাসের এই কর্মসূচি। তিনমাসে দেশের ৮টি বিভাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপের কর্মসূচি। প্রত্যেকটি সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জোটের ব্যানারে কর্মসূচি চালিয়ে আলোচনায় থাকতে চান তিনি।

জোটের মুখপাত্র এবি এম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনী তৎপরতার অংশ হিসেবেই ‍এই প্রথম মাঠ পর্যায়ে জোটের ব্যানারে দেশের ৮টি বিভাগে সমাবেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির দিন তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের অভিভাবক ও পার্টির চেয়ারম্যান কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন।’ তিনি নেতাকর্মীদের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াজো কমিটির সভায় তিনমাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র ও জাপা মহাসচিব এবিএম রহুল আমীন হাওলাদার এমপি।

এরশাদের বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন লিয়াজো কমিটির সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সহিদুর রহমান টেপা, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন, সম্মিলিত ইসলামী মহাজোটের আবু নসর ওয়াহেদ ফারুক, ফ্রন্টের নেতা আব্দুল মতিনসহ লিয়াজো কমিটির সদস্যরা।

সভায় তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলা হয়, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার খুলনা বিভাগে, ১৪ অক্টোবর শনিবার বরিশাল বিভাগে, ২৮ অক্টোবর শনিবার কুমিল্লায়, ১১ নভেম্বর শনিবার চট্টগ্রামে, ১৮ নভেম্বর শনিবার সিলেটে, ২৫ নভেম্বর শনিবার ময়মনসিংহে, ৯ ডিসেম্বর শনিবার রংপুরে, ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগে এবং ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে মহাসমাবেশ।

জানা গেছে, তিনমাসের কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টি ও জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

 


লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন বলেন, ‘তিন মাসের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনী অভিযাত্রা শুরু করছে। আসলে সাংগঠনিক কর্মসূচি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনৈতিক জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেশবাসীর কাছে পৌঁছানো অসম্ভব। তাই জোটের ব্যানারে বিভাগীয় পর্যায়ে তিনমাসের সমাবেশ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। যাতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দেরি থাকলেও আমরা জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের নেতৃত্বে এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কর্মসূচি চালিয়ে জোটের ব্যানারে মাঠে সক্রিয় থাকব। আমাদের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা। কারণ, এরাই দেশের বড় ভোটব্যাংক।’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান এম এ মতিন।

কর্মসূচির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি জানান, জোটের ব্যানারে তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে পার্টির চেয়ারম্যান দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর মনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি হলে নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখি হবেন, দলের জন্য আরো সক্রিয় হবেন। জোটের পরিচিতি বাড়বে। পাশাপাশি পার্টির চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তাকে তৃণমূলে কাজে লাগানো যাবে।

তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি সফল করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। দেশের প্রত্যেকটি বিভাগে সফল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে প্রমাণ করে দেওয়া হবে ঢাকার মাটি এরশাদের ঘাঁটি।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৭/নঈমুদ্দীন/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop