ঢাকা, সোমবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মাদক পাচারে অভিনব কৌশল

মাকসুদুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৫ ২:২৩:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-০৯ ২:৩০:৩৬ পিএম

মাকসুদুর রহমান : মাদক ব্যবসা ও মাদকের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা তৎপর। মাদকদ্রব্য ও এর বিক্রেতাকে ধরতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কৌশল যেন হার মানতে বসেছে।

মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন-নতুন কৌশলে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে রাজধানীতে। অবশ্য এটা রোধ করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নানা কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামালউদ্দিন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের সঙ্গে বেশি বেশি করে মোবাইল কোর্ট দিয়ে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। মাদক বিক্রেতারা আমাদের ফাঁকি দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। অবশ্য তাদের সব কৌশলই এখন আমরা জানতে পেরেছি। সেভাবে তারা ধরাও পড়ছে। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। তাহলেই মাদকের ভয়াবহতা বা অপব্যবহার থেকে সমাজকে রক্ষা করা যাবে।’

কেবল কৌশল নয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের ‘সম্পর্ক’ থাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে- এ প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ‘দেখেন, ঢালাওভাবে অভিযোগ হয় না। এ রকম কোন তথ্য থাকলে আমাকে দিন। ব্যবস্থা নেব। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

পুরান ঢাকায় মাদক ব্যবসা করেন এমন কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, নারিকেল, বার্মিজ জুতা, মিষ্টি কুমড়া, অ্যাম্বুলেন্স, গরু ও মানুষের পায়ুপথ ব্যবহার করে, নারী ও পুরুষের সংবেদনশীল অঙ্গে, কুরিয়ার সার্ভিসে, সবজি ও ফসলের ট্রাকে, গাড়ির বডি ও চেসিসের ভেতর, কফিন ও তেলের ড্রামে, শোবার খাটের হাইসায়, প্লাইউডের ভেতরেই বেশি আসছে ইয়াবা। তবে ফেনসিডিল বেশিরভাগ আসছে প্রাইভেট কার কিংবা বড় গাড়িতে করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাদক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ ও চট্টগ্রাম সীমান্ত হয়ে প্রতি মাসে প্রায় দুই কোটি পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে। এর বেশিরভাগই রাজধানীতে ঢুকছে। সীমান্তের ৪০টি পয়েন্ট থেকে ইয়াবা বাংলাদেশে আসে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। উল্লেখিত ছাড়াও আরও অনেক উপায়ে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদকদ্রব্য আসছে। আর মাঝে মধ্যে দু’একটি চালান ধরা পড়লেও এর আড়ালে অনেকগুলো চালান প্রবেশ করে।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ। এদের মধ্যে ১৫ লাখেরও বেশি ইয়াবায় আসক্ত। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ইয়াবার ছোবলে আক্রান্ত।

এক হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৬৮৮ মাদক ব্যবসায়ী। মামলা হয়েছে ৫৪৫টি। আর শীর্ষ ৬৯ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে গোয়েন্দারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা হচ্ছে থাই শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে ক্রেজি ট্যাবলেট। ‘ইয়া’ অর্থ ক্রেজি, আর ‘বা’ মানে হচ্ছে ট্যাবলেট। মেথাফেটামাইন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে ইয়াবা তৈরি হয়। এটি একাধারে মস্তিষ্ক ও হƒদযন্ত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। মস্তিষ্কে এক ধরনের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় কিন্তু তা স্থায়ী হয় না। এরপর আসে মানসিক অবসাদ। ঘুম হয় না। আচরণে ও চিন্তায় বৈকল্য দেখা দেয়। ন্যায়-অন্যায় বোধ লোপ পায় এবং অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। যা জীবনকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ আগস্ট ২০১৭/মাকসুদ/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop