ঢাকা, শনিবার, ১ পৌষ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

রাজধানীর ছাপাখানায় কর্মব্যস্ততা

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৪ ৩:২০:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-২৪ ৮:০৫:১৫ পিএম

আসাদ আল মাহমুদ: বছরের শেষ, তাই নতুন বছরের জন্য ডায়রি, ক্যালেন্ডার ছাপানোর কাজে প্রচুর ব্যস্ত রাজধানীর ছাপাখানাগুলো। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণার প্রস্ততি সংক্রান্ত ছাপার কাজে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার হচ্ছে ছাপাখানাগুলোর মালিক শ্রমিকদের।

রাজধানীর পল্টন, ফকিরাপুল, জিন্দাবাহার ও বাংলাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছাপাখানাগুলোয় বিরাজ করছে ব্যস্ততা। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছরের জন্য ডায়রি, ক্যালেন্ডার, পাঠ্যপুস্তক ও একুশের বইমেলার উদ্দেশ্যে সৃজনশীল বই ছাপানোর পাশাপাশি শীতের সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মিটিং ও নানা ধরনের কাজ বেশি থাকে। বিয়ে ও অন্যান্য উৎসবও এ সময়ে বেশি হয়। এ জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এমনিতেই বাড়তি চাপ থাকে ছাপাখানাগুলোতে। এর সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের বিষয়টি যোগ হওয়ায় কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে ছাপাখানায়। শুধু পোস্টার ছাপানোই নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক কিছু জড়িত। এ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে ছাপখানাগুলো। পোস্টার বাঁধার সুতলি, কাগজ, প্যাকেট, পলিথিন ইত্যাদি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। ছাপার মেশিনের যন্ত্রাংশ সারাই, এমনকি নতুন ছাপা মেশিনও স্থাপন করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে তারা কাগজ, কালি ও বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে রেখেছে। ভরা মৌসুমে যেন কর্মী সংকটে পড়তে না হয় তার জন্য ইতিমধ্যে অনেকে কর্মীকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আগেই ব্যানার-পোস্টার ছাপিয়েছেন। এখন সাদা-কালো পোস্টারের অর্ডার আসছে। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় এবার মুদ্রণ খাতে লেনদেন ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

ছাপাখানার বেশ কয়েকজন মালিক জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসে ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী অনেক পোস্টার ছাপানো হয়েছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে প্রার্থীদের প্রচারকাজ আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন ব্যস্ততাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য অন্য কাজ দ্রুত সেরে ফেলা হচ্ছে।

ছাপাখানাগুলোর নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে ফকিরাপুলের নুর প্রডাক্টসের স্বত্ত্বাধীকারী মাশরেক আহদে বলেন, ‘এখনো নির্বাচনী অর্ডার তেমন আসা শুরু করে নি। আশা করছি মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পরে ছাপাখানাগুলোতে চাপ অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই কাগজ কালির দাম কিছুটা বেড়েছে। সাধারণত আমরা বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের এই সময়টা ডায়েরি ক্যালেন্ডার তৈরিতে ব্যস্ত থাকি। তার উপর জাতীয় নির্বাচন চলে এসেছে। এ কারণে রাত-দিন কাজ করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ছাপাখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ৩ হাজার ছাপাখানা। বছরের শেষ দিকে রাজধানীর ছাপাখানাগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই, একুশে বইমেলার সৃজনশীল বই, নতুন বছরের ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি ছাপানোর কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে নির্বাচনের আগেই এ কাজগুলোর অধিকাংশই সেরে রাখতে চাচ্ছেন তারা। এছাড়া বইমেলা উপলক্ষে অর্ডার নিলেও তা জানুয়ারি থেকে ছাপানো হবে।

পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার এলাকার লিনা প্রিন্টার্সের মালিক আরমান মিয়া বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার ছাপানোর বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কাগজের দামটা একটু বেশি হওয়ায় খরচও আমাদের বেড়ে গেছে। এমনিতে বছরের অন্যান্য সময় আমাদের তেমন কাজ থাকে না। বছরের শেষ সময়েই মূলত আমাদের সিজন তার উপরে নির্বাচনের পোস্টার, স্টিকার, ব্যানার তৈরির কাজ। সব মিলিয়ে আশা রাখি এ বছর আমাদের ব্যবসা ভালো যাবে।’

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার বাংলাদেশ প্রিন্টার্সের প্রোপ্রাইটর রহিম শেখ বলেন, ‘ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকার ছাপাখানা ব্যবসায় কয়েক বছর ধরেই মন্দা বিরাজ করছে। গত বছর ঈদ ও বৈশাখ ঘিরে কাজের তেমন কোন অর্ডার আসেনি। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। নেতাদের মনোনয়ন ফরম বাছাই করার আগেই ৫টি কাজ পেয়েছি। আর এ কাজগুলো শেষ হয়েছে। এবার নতুন করে কাজের অর্ডারের অপেক্ষায় আছি। মনে হচ্ছে এতোদিন পর ছাপাখানাগুলোতে নির্বাচনী আমেজ লেগেছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মনোনয়নের দৌঁড়ে টিকতে নেতাকর্মীরা আগে থেকেই নিজেদের প্রচারণার জন্য এক দফা পোস্টার তৈরি করে নিয়েছেন। নির্বাচনের মনোনয়ন এখোনো কোন দল-ই চুড়ান্ত করেনি। তবে কিছু কিছু হেভিওয়েট প্রার্থী যাদের মনোনয়ন কনফার্ম বলে তারা জানেন, তারা ইতিমধ্যে অর্ডার দিয়ে গেছেন। আর বাকিরা অর্ডার করবেন দল থেকে মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পরে এবং প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পরে। তবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জনসাধারণের মধ্যে প্রচারণার জন্য তিন চার মাস আগে থেকেই শুভেচ্ছা ব্যানার পোস্টার নিজ নিজ এলাকায় টানিয়েছেন অনেকেই। সম্পূর্ণ বাছাই ও দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেলেই নেতা কর্মীরা তাদের মার্কা নিয়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির জন্য নতুন করে অর্ডার দেবেন। আর এ সময়ের বাজার ধরতে ছাপাখানার মালিক থেকে শুরু করে কর্মীরাও এখন প্রস্তুত।’

রাজধানীর ফকিরাপুলের আবির প্রিন্টার্সের ম্যানেজার সবুজ মিয়া বলেন, ‘আগে রাজনৈতিক পোস্টার ব্যানার অনেক করতাম। কিন্তু অনেক বছর হলো রাজনৈতিক পোস্টারের অর্ডার কম। গতবার নির্বাচনে কাজ তেমন পাইনি বললেই চলে। এবার সব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে আভাস মিলছে। আশা করি ব্যবসা ভালো হবে আমাদের। নির্বাচনী সব ধরনের কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত।

ছাপাখানার কর্মীরা বলছেন, গত এক মাস ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। যেখানে এক মাস আগে বিভিন্ন দোকানের ক্যাশম্যামো, ভিজিটিং কার্ড বানানোর কাজ করতে হতো, এখন নির্বাচনের জন্য নেতাদের পোস্টার ও স্টিকার বানাতে হচ্ছে। আর জাতীয় নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসবে এই কাজ আরও বাড়বে। এতে করে আমরা বাড়তি কিছু টাকা আয় করতে পারবো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণা ক্ষেত্রেও পরিবর্তণ ঘটেছে। আজকাল পোস্টারের চেয়ে ডিজিটাল ফেস্টুনের ব্যবহার বেড়েছে অনেক।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ নভেম্বর ২০১৮/আসাদ/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC