ঢাকা, শনিবার, ১ পৌষ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভৌত অবকাঠমোর অভাবনীয় উন্নতি

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৬ ৮:০৪:৫৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-০৭ ১:৫৩:৩৪ পিএম

কেএমএ হাসনাত : বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে ব্যয়কুন্ঠা পরিহার এবং সরকারের উন্নয়ন আকাঙ্খার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ বিভাগ প্রয়োজন মত সম্পদ সঞ্চালনের উপর জোর দিয়েছে। সরকারি ব্যয় ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের ৬৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা থেকে ৭ দশমিক ২ গুণ বাড়িয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক খাত, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বন্দর অবকাঠমো, তথ্য-প্রযুক্তি এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার ফলে ভৌত অবকাঠমোর সীমাবদ্ধতা অনেকখানি দূর হয়েছে।

২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে ৬ গুণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ গুণ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ।

বিগত দশ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে অভ’তপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার পেছনে অর্থ বিভাগের অনবদ্য ভ’মিকা ছিল। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুতেই বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে এবং অর্থ বিভাগের সহায়তায় বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ‘পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়, তৈরি করা হয় বছরভিত্তিক কর্মকৌশল। এ ছাড়াও আবশ্যকীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মত সংশ্লিস্ট স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থাসমূহের দায় পরিশোধসহ বিভিন্ন আঙ্গিকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতের অব্যাহত উন্নয়নের বিগত দশ বছরে অর্থ বিভাগ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসলেও শুরুর বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা মূল্যস্ফীতির ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না করে তা নিশ্চিত করতে মূল্য সমন্বয়সহ সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অর্থ বিভাগকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়েছে। সার্বিকভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাজেট বরাদ্দ ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের তিন হাজার ৮১১ কোটি টাকা থেকে ৬ দশমিক ৫ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের পাঁচ হাজার ২৪৫ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে অব্যাহতভাবে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়ায় এ খাতে প্রভুত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার, বিশ্বরোড-বিমানবন্দর সংযোগস্থল ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান (মিরপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক) ফ্লাইওভার,বহদ্দারহাট উড়াল সেতু, হাতিরঝিল প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরাসহ বেশ কিছু মাইলফলক স্থপনা এবং সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। এসব স্থাপনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপন ও যানজট প্রশমনে ভুমিকা রাখছে, বাড়িয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের গতি। পাশাপাশি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রত্যন্ত অঞ্চল, এমনকি দুর্গম পার্বত্য এলাকায় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারন করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব সেবা প্রান্তিক মানুষসহ দেশর সব জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল পাঁচ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। প্রায় ১১ গুণ বাড়িয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৬ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। 

** ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ নভেম্বর ২০১৮/হাসনাত/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC