ঢাকা, রবিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

মানসিক ক্লান্তি ভোগাতে পারে ক্রোয়েশিয়াকে : ম্যারাডোনা

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১১ ৮:৫০:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-১২ ৮:১৩:২১ এএম
চারটি টাইব্রেকারের শট ঠেকিয়েছেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচ

ক্রীড়া ডেস্ক : শেষ ষোলো আর কোয়ার্টার ফাইনাল ক্রোয়েশিয়া জিতেছে টাইব্রেকারে। তার মানে অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে দুই ম্যাচে মডরিচ, রাকিটিচদের খেলতে হয়েছে ২৪০ মিনিট। পাশাপাশি টাইব্রেকারের ধকল তো আছেই। এখানেই ভয় দিয়েগো ম্যারাডোনার। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মনে করেন, পরপর দুই ম্যাচে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট করে খেলে আসায় সেমিফাইনালে মানসিক ক্লান্তিতে ভুগতে পারে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা।

ম্যারাডোনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমনটা বলেছেন। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল জিতেছিল টাইব্রেকারে। ফাইনালে গিয়ে হেরে গিয়েছিল পশ্চিম জার্মানির কাছে। ফাইনালে খেলোয়াড়রা ক্লান্তিতে ভুগেছিলেন বলে জানালেন ম্যারাডোনা। আজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার জন্য কাজটা তাই সহজ হবে না বলেই তিনি মনে করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় নিজের কলামে ম্যারাডোনা লিখেছেন, ‘পরপর দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে জিতে আসার পর মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা মোটেই সহজ নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি এমনটা বলছি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে আমাদেরও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে যুগোস্লাভিয়া ও সেমিফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আসা ম্যাচে আমি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলাম। ক্রোয়েশিয়াও টানা দুই ম্যাচ টাইব্রেকারে জিতে এসেছে, যদিও একটু আগের স্টেজে। নকআউট পর্বে দুই ম্যাচে ২৪০ মিনিট খেলা, তারপর আবার টাইব্রেকারের ধকল নেওয়া, এসব সামলে নেওয়া খুব একটা সহজ হবে না। আমার মনে আছে, নব্বইয়ের ফাইনালে আমরাও একই রকম ক্লান্তিতে ভুগেছিলাম।’

দুই ম্যাচ মিলিয়ে চারটি টাইব্রেকারের শট ঠেকিয়েছেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচ। ম্যাচে দারুণ কিছু সেভও করেছেন। কোয়ার্টারে রাশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে চোট পাওয়ার পরও পোস্ট ছেড়ে উঠে যাননি। তিন দিনের মধ্যে তেমন আরেকটি পাফরম্যান্স দেখানো তার জন্য কঠিন হবে বলেই মনে করছেন ম্যারাডোনা, ‘তিন দিনের মধ্যে নিজেদের রিচার্জ করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামাটা অনেক বড় কিছু। গোলকিপার সুবাসিচের কথা ভেবে খারাপ লাগছে আমার। সে আমাকে সার্জিও গয়কোচিয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। গয়কোচিয়ার মতোই দুই ম্যাচে সে ক্রোয়েশিয়াকে বাঁচিয়েছে। রাশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আঘাত পাওয়ার পরেও নিজের সেরাটা দিয়ে খেলেছে, বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করেছে। এরকম আরেকটি পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করা তাদের জন্য কঠিন হবে। কিন্তু তাদের কোনো উপায় নেই। ফাইনালের কাছাকাছি এসে কেউ হারতে চায় না। জ্লাতকো দালিচের দল ফাইনালের জন্য মরিয়া থাকবে। ’

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। ২০ বছর আগে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে গিয়েছিল তারা। ক্রোয়াটরা এবার ইতিহাস বদলাতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জুলাই ২০১৮/পরাগ

Walton Laptop
 
     
Walton