ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মানুষকে টিকতে হলে সাইবর্গ হতে হবে!

মো. রায়হান কবির : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৬ ২:২১:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৬ ৫:১৭:৫৬ পিএম

মো. রায়হান কবির : হাইপার লুপের ধারণা দিয়ে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জনকারী বিজ্ঞানী এলান মাস্ক এখন সবার পরিচিত মুখ। অন্তত যারা টেক দুনিয়ার খোঁজ খবর রাখেন। ‘টেসলা’র প্রতিষ্ঠাতা এলান মাস্ক সম্প্রতি দুবাই এসেছিলেন ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগ দিতে।

এলান মাস্ক এই দুবাইতেই তার হাইপার লুপের ব্যবহার করার একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। এখানে এলান মাস্কের প্রতিষ্ঠান তৈরি করবেন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির পথ হাইপার লুপ। যে পথে ক্যাপসুলের মতো যান চলবে বিমানের গতিতে।

সম্প্রতি এলানের একটি মন্তব্য নিয়ে চলছে ভীষণ বিতর্ক। তিনি দুবাই সামিটে বলেছেন, ‘আগামীতে মানুষকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (যা, এআই নামে পরিচিত। আসলে এটা হচ্ছে একধরনের ব্যবস্থা যেটা মেশিনকে মানুষের মতো বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে সাহায্য করে) সঙ্গে টিকে থাকতে হলে তার আরো কিছু সক্ষমতা প্রয়োজন। যেমন মানুষকে হতে হবে সাইবর্গ।’

সাইবর্গ হচ্ছে প্রাকৃতিক এবং যন্ত্রের সমন্বয়ের মানুষ। সহজে চেনাতে হলে ‘রোবোকপ’কে সামনে আনতে হবে। আমরা জানি রোবোকপের চরিত্রটি একজন সাহসী পুলিশ অফিসারের। যার দুর্ঘটনার পর তাকে বাঁচিয়ে রাখতে শরীরের অনেকগুলো অঙ্গ কৃত্রিম বা যান্ত্রিক লাগানো হয়। ফলে এমন এক সমন্বয় সৃষ্টি হয়, যা মানুষ আর রোবটের মিশ্রণ বলা চলে। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধির সঙ্গে যন্ত্রের সুবিধা।

যেমন মানুষ আগুনে পুড়ে যায়। কিন্তু স্টিলের হাত কিন্তু আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। এমন সব কাল্পনিক চরিত্রই এখন বাস্তবে চলে আসবে। কারণ যেভাবে সকল স্তরে রোবটের ব্যবহার বাড়ছে সেখানে বুদ্ধিযুক্ত রোবট বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স চলে আসলে মানুষ এক কথায় বেকার হয়ে যাবে।

এলান মাস্কের ভাষায়, মানুষ তখন পরিণত হবে এদের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের) ঘরের বিড়াল। তাই মানুষকে তার কাজ বাঁচাতে হলে রোবটের মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কারণ মানুষকে তখন কোনো চাকরিতে রাখা বেশি খরুচে মনে হবে! মনে হবে এই সামান্য কাজের জন্যে একজন মানুষকে এতো বেতন দিয়ে কি লাভ?

তাই এলান মাস্ক মনে করেন, ‘ব্রেইন-মেশিন’ সমন্বয় করতে পারলে মানুষের পক্ষে তখন অনেক কিছু করা সম্ভব হবে। এজন্যে তিনি এমন এক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন যা ব্রেইন-মেশিন বা ব্রেইন-কম্পিউটারকে সমন্বয় করবে। তখন মানুষের ব্রেইনে চিপ স্থাপন করা হবে, যাতে সে মেশিন অর্থাৎ রোবট বা এ ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।

এক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে ‘নিউরন লেইস’। এটা ইইজি’র মাধ্যমে মানুষের ব্রেইনের কমান্ডকে রিড (পড়ে) করে মেশিন কন্ট্রোল করতে পারে। বর্তমানে প্যারালাইজড রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তাদের দিয়ে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিতে নিউরন লেইস বেশ সাহায্য করছে। আসলে এভাবেই মানুষ ধীরে ধীরে সাইবর্গের দিকে এগিয়ে যাবে।

যদিও আমরা শুধু অসুস্থ রোগীর জন্যেই এ ধরনের সুবিধা চিন্তা করছি। কিন্তু এলানের মতে, আমাদের বেশকিছু সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাইবর্গের দিকেই ঝুঁকতে হবে। যদিও তার এই মন্তব্য নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি খুব একটা ভুল বলেননি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/ফিরোজ

Walton Laptop