ঢাকা, সোমবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রযুক্তি খাতে নারী কম হওয়ার ৫ কারণ

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৮ ১১:০১:২৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৮ ৫:০৪:২৬ পিএম

স্বপ্নীল মাহফুজ : প্রযুক্তি খাতে নারী কর্মজীবীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক কম। প্রযুক্তি দুনিয়ায় নারী কম থাকার কারণে, এই খাতে প্রবেশে অন্যান্য নারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। 

নারীদের প্রযুক্তি খাতে অনাগ্রহী হওয়ার কারণ নিয়ে সম্প্রতি জরিপ পরিচালনা করেছে একটি আন্তর্জাতিক টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জরিপটি পরিচালনা করেছে ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএসিএ)। সংস্থাটির ‘ভবিষ্যত টেক কর্মপ্রবাহ : লিঙ্গ বৈষম্য নিরাসন’ বিষয়ক প্রতিবেদনে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নারীদের কর্ম অভিজ্ঞতা থেকে পাঁচটি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে।

* প্রশিক্ষকের অভাব (৪৮%)

* নারী অগ্রদূত এর অভাব (৪২%)

* কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য (৩৯%)

* পুরুষদের তুলনায় অসম সুযোগ (৩৬%)

* একই দক্ষতার জন্য অসম বেতন (৩৫%)

আইএসএসিএ’র বোর্ড পরিচালক এবং বিআরএম হোল্ডডিক’র তথ্য নিরাপত্তা পরিচালক জো স্টুয়ার্ট বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতের চাকরিতে এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা অনাগ্রহী হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। এটা শুধু যে সামাজিক উদ্বেগের তা নয়, পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে অনেক বড় ঘাটতির কারণ।’

আইএসএসিএ’র জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও এই খাতে করার অনেক কিছু আছে। নারীদের জন্য কাজের অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে। কর্মজীবনে অগ্রগতি প্রোগ্রাম সহ, আরো বেশি সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

জরিপে যখন পেশাদারীত্ব বৃদ্ধির জন্য সুযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন উত্তরদাতাদের ৭৫ শতাংশ রাষ্ট্রে নিয়োগকর্তাদের লিঙ্গ বৈষম্য কর্মসূচি উন্নয়নের অভাব রয়েছে বলে জানান। শুধু তাই নয়, ১০ জন নারীর মধ্যে ৮ জন নারী জানান যে, তাদের প্রশিক্ষক একজন পুরুষ। মাত্র ৮% নারী বলেন, তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে কোনো লিঙ্গ বৈষম্য এর শিকার হননি। আইএসএসিএ’র জরিপ থেকে এটা পরিষ্কার যে, নারীরা শিখতে চাচ্ছে কিন্তু সেই তুলনায় সুযোগ পাচ্ছে না।

বিশ্বব্যাপী বেতন বৈষম্য একটি চ্যালেঞ্জ। জরিপ অনুযায়ী পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় আফ্রিকার নারীরা ২৫ শতাংশ, এশিয়ায় ২৯ শতাংশ, ইউরোপে ৫৩ শতাংশ, ল্যাটিন আমেরিকায় ৪৮ শতাংশ, মধ্যপ্রাচ্যে ৬০ শতাংশ, ৪২ শতাংশ উত্তর আমেরিকায় এবং ওশেনিয়ায় ৪০ শতাংশ বেতন কম পান।

আইএসএসিএ’র অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এর এমডি তারা উইস্নেস্কি বলেন, একটি ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আমরা প্রযুক্তিতে নারীদের জন্য এই বাধা ভেঙে ফেলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই সমস্যা সমাধান এর সময় এসে গেছে।

এই জরিপে আর্থিক/ব্যাংকিং, বীমা, সরকারি হিসাব, পরিবহন, মহাকাশ, খুচরা/পাইকারি/বিতরণ, সরকার/সামরিক, রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় স্তরে শিল্পের বিভিন্ন খাত, প্রযুক্তি সেবা/কনসাল্টিং, উৎপাদন/প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ এবং আরো অনেক পেশার নারীরা অংশ নিয়েছেন।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ মার্চ ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel