ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৫ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মঙ্গল গ্রহে বিষাক্ত রাসায়নিক!

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-০৯ ১:১৭:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-০৯ ১:১৭:৫৭ পিএম
প্রতীকী ছবি

মোখলেছুর রহমান : নতুন এক গবেষণার দাবী যদি সত্যি হয় তাহলে হয়তো মঙ্গল গ্রহে ভীনগ্রহের প্রাণীর (অ্যালিয়েন) অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আর সম্ভব নয়।

কারণ নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মঙ্গলের পৃষ্ঠে পারক্লোরেট নামের একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগ থাকতে পারে যা ইউভি লাইটের উপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

নতুন এই গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করার পর বিজ্ঞানীরা এখন মনে করছেন, মঙ্গল সম্ভবত অতীতের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অবাসযোগ্য গ্রহ।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মিশনগুলোতে মঙ্গলে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা বা বর্তমানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, তা জানার জন্য এর ভূগর্ভস্থে আরো গভীর খনন করতে হবে।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মঙ্গল পৃষ্ঠে এই পারক্লোরেট রাসায়নিক যৌগের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এরপর থেকেই মূলত আদৌ গ্রহটি বসবাসের জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে বড় রকমের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই রাসায়নিকটির প্রভাব বুঝতে, গবেষকরা ব্যাসিলাস সাবটিলিসের ওপর এর প্রভাবের একটি পরীক্ষা চালান। এই ব্যাসিলাস সাবটিলিস হলো একটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়া যা প্রায়ই মহাকাশযানগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়।
 

গবেষণাগারে গবেষকরা মঙ্গলের পৃষ্ঠের অবস্থার অনুরূপ শর্ট-তরঙ্গ ইউভি বিকিরণের অধীন ম্যাগনেসিয়াম পারক্লোরেটকে স্থাপন করেন। এরপর এই অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকার পরে গবেষকরা দেখতে পান যে,  সবগুলো ব্যাকটেরিয়াই মারা গেছে। ম্যাগনেসিয়াম পারক্লোরেট এর উপস্থিতিতে মাত্র কয়েক মিনিট এর মধ্যেই ব্যাসিলাস সাবটিলিস এর জীবনাবাস ঘটে।
 

গবেষকরা আরো উল্লেখ করেন যে, মঙ্গল পৃষ্ঠে পারক্লোরেট এর পাশাপাশি আয়রন অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইড নামের আরো দুটি উপাদান থাকতে পারে যারা এই ব্যাকটেরিয়াদের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে আরো ১০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
 

যদিও মঙ্গল পৃষ্ঠের এসব বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাব এর বিষয়ে এখনো কিছু সন্দেহ গবেষকদের মনে রয়েই গেছে। তবে এই গবেষণার ফলাফল এটিই ইঙ্গিত করে যে, মঙ্গলের পৃষ্ঠ জীব কোষের জন্য খুবই বিপজ্জনক হতে পারে।
 

এই গবেষণার ফলাফল মঙ্গলে রোবোটিক এবং মানব অভিযানে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

এই গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী জেনিফার ওয়েডসউর্থ ডেইলি মিইল অনলাইনকে বলেন, ‘পারক্লোরেট মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদিও আমরা নির্দিষ্টভাবে জানি না যে, ইউভি এর কতটা প্রভাব সেখানে রয়েছে এবং পৃষ্ঠস্তরে পারক্লোরেট কতটা পৌঁছেছে, কেননা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা  বোঝা যায় না।’

‘যদি পারক্লোরেট পরিবর্তিত আকারে (যেমন ক্লোরাইট বা হাইপোক্লোয়েট) পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে তা বসবাসের অযোগ্য স্থান হয়ে থাকবে। তবে সম্ভাব্য বাসযোগ্য পরিবেশ খুঁজে পাওয়ার জন্য গ্রহটিতে আরো গভীর গবেষণায় যেতে হবে।’

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জুলাই ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop